পাঠাও চালককে গলা কেটে হত্যা মোটরসাইকেল ছিনতাই

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিহত মিলন
নিহত মিলন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শাহজাহানপুরের মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভারে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পাঠাওয়ের চালককে গলা কেটে হত্যার পর মোটসাইকেল ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

রোববার রাত ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই পাঠাও চালকের নাম মো. মিলন (৩৬)। ঘটনার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দুটি হাসপাতাল ঘুরে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যায়। সেখানেই ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মিরপুরে তার পাশের বাড়িতে থাকেন বন্ধু অটোরিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম।

তিনি যুগান্তরকে জানান, যাত্রী নিয়ে যাওয়ার আগে সব সময় তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলত। রোববার রাতেও তাদের দু’জনেরই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাওয়ার কথা ছিল। সবশেষ রাত ২টা ১২ মিনিটে মিলনের সঙ্গে কথা হয় সিরাজের। এর প্রায় ২৪ মিনিট পর সিরাজ জানতে পারেন যে মিলনের গলা কেটে তার মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

রাতে মিলন আমাকে জানায়, সে ১০০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনে এসেছে। যাত্রী নামিয়ে সদরঘাটে যাবে। সেখানে ভোরে নাশতা করে লঞ্চের যাত্রী নিয়ে মিরপুরে আসবে। তারপর বাসায় ফিরবে।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মিলনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে এসআই আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় ওই ফ্লাইওভারের নিচে আমরা টহলে ছিলাম। ঘটনার পর ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল নিয়ে পল্টনের দিকে চলে যায়। মিলন তখন গলা চেপে ধরে ফ্লাইওভার থেকে নেমে আসে।

আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে রক্ত সঞ্চালন বিভাগে নেয়া হলেও রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়নি। তাছাড়া তার রক্তের গ্রুপ জানা না থাকায় তাকে রক্ত দেয়াও সম্ভব ছিল না। ভোরে তার মৃত্যু হয়। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচানোর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারিনি।

শাহজাহানপুর থানার এসআই আতিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, রাত ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে মালিবাগের পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বরাবর ফ্লাইওভারের তৃতীয় তলায় ঘটনাটি ঘটেছে। ধারণা করছি, যাত্রীবেশে কোনো ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিলনের গলায় আঘাত করে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

এ চক্রে একাধিক সদস্যও থাকতে পারে। ঘটনার পর মিলন নিজের গলার কাটা অংশ হাত দিয়ে চেপে দৌড়ে ফ্লাইওভার থেকে নিচে নেমে আসেন। তখন মিলন কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। আকার-ইঙ্গিতে হিমেল নামে এক বন্ধুর নম্বর দেন তিনি। দ্রুত মিলনকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।

হাসপাতালে মিলনের গলায় ক্ষতস্থানে সাতটি সেলাই করা হয়। তবুও রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। পরে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আতিকুর রহমান বলেন, মিলন পাঠাওয়ের অ্যাপস ব্যবহার করে রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তবে পাঠাওয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ তিনি ৭ আগস্ট পাঠাওয়ের অ্যাপস ব্যবহার করে রাইড শেয়ারিং করেছিলেন। তিনি অন্য কোনো অ্যাপস ব্যবহার করে রাইড শেয়ারিং করেছিলেন কিনা এ বিষয়টিও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী চুক্তিতে মিলনের বাইকে উঠেছিল।

ফ্লাইওভারের তিন তলা খুবই নির্জন হওয়ায় ছিনতাইকারী সেখানেই মিলনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেল ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এসআই আতিকুর রহমান বলেন, যারা রাইড শেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তাদের আরও সচেতন হয়ে রাইড শেয়ার করা উচিত।

অ্যাপস ব্যবহার করলে ২০ শতাংশ হারে ভাড়ার টাকা চার্জ হিসেবে কেটে নেয় কোম্পানিগুলো। এ কারণে অনেকেই অ্যাপসে রাইড শেয়ারিং করতে আগ্রহী নন। তারা চুক্তিতে রাইড শেয়ারিং করতে চান। এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর সঙ্গে জড়িত চালক বা যাত্রী শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মিলনের পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মিলন দুই সন্তানের জনক। স্ত্রী শিল্পী, ১০ বছরের ছেলে মিরাজ ও ৫ বছরের মেয়ে সাদিয়াকে নিয়ে তিনি মিরপুরের গুদারাঘাটে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলায়। তার বাবা-মা গ্রামে থাকেন। একমাত্র ভাই মিলনের পাঁচ বোন রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×