বরিশালে মিথ্যা অপহরণ মামলা!

বিনা অপরাধে যুবক ৪ মাস জেলে

  বরিশাল ব্যুরো ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিনা অপরাধে যুবক ৪ মাস জেলে

বিনা অপরাধে এক যুবক চার মাস ধরে জেলহাজতে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৯ মার্চ এক কিশোরী অপহৃত হওয়ার ঘটনায় যুবক উজ্জ্বল হোসেন রানাকে আসামি করে অপহরণ মামলা করা হয়।

১৮ এপ্রিল কিশোরীটির বাবার করা মামলায় ২৫ এপ্রিল ঢাকা থেকে রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ২৪ আগস্ট রাজশাহী থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় আরেক কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়।

সমকামী হওয়ায় নিজেদের ইচ্ছায় পালিয়ে গিয়েছিল বলে পুলিশের কাছে তারা স্বীকার করেছে। এদিকে, বিনা অপরাধে জেলখাটার বিষয়টি নতুন কিছু নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নগরীর অক্সফোর্ড মিশন এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান দুলাল ফকিরের ছেলে রানা ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করত। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে সে জেলহাজতে আছে। তার জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলার এজাহারে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে। এজাহারে বাসার সামনে থেকে কিশোরীকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেয়ার উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯ মার্চ রাত ৭টা ৪০ মিনিটে মার্কেটে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে কিশোরীটি বের হলে ওতপেতে থাকা রানা, তার মা আলেয়া বেগম ও দুলাভাই সুমনসহ অজ্ঞাত তিনজন তাকে মাইক্রোবাসে উঠায়। এ সময় সে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন তা দেখেন ও শোনেন। লোকজন এগিয়ে গেলে আসামিরা মাইক্রো নিয়ে পূর্ব বগুড়া রোড ধরে নথুল্লাবাদের দিকে চলে যায়।

রানার মা আলেয়া বেগম জানান, মিথ্যা মামলায় আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কিশোরীটি উদ্ধার হওয়ার পর বলেছে স্বেচ্ছায় সে পালিয়েছিল। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এরপরও কেন তার নিরপরাধ ছেলে রানাকে হাজতে রাখা হয়েছে। কেন তার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হল। রানা জেলহাজতে থাকায় তারা অর্থাভাবে পড়েছেন। মিথ্যা মামলাকারীর তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

মামলার বাদী বলেন, ১৩ মার্চ বিকাল ৪টার পর মায়ের ফোন থেকে মেয়ে ওই ছেলের (রানা) সঙ্গে ১৯ মিনিট কথা বলেছে। এর আগে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় রানার সঙ্গে তার মেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সে সময় তিনদিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় সমকামিতার কথা বলা হলেও তা সঠিক নয়। তার মেয়ে বলেছে সমকামিতার কথা বলতে তাকে বাধ্য করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশের পর তার মেয়ে দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তবে মাইক্রোবাসে করে তার মেয়েকে অপহরণের বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে পারেনি। তিনি বলেন, মেয়েকে পেয়েছি। মামলার মধ্যে আর যাব না।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×