আমাজনে আগুনের তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা
jugantor
আমাজনে আগুনের তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা
বৈঠকে বসছে লাতিন দেশগুলো * দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জাতিসংঘের * চিলির সহায়তা নেবে ব্রাজিল * আমাজন ধ্বংসে ‘দায়ী’ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

  যুগান্তর ডেস্ক  

৩০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমাজনে আগুনের তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্নিনির্বাপক মেশিন ঘাড়ে নিয়ে বনে নেমে পড়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস , ছবি: এএফপি

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল আমাজনের আগুন ক্রমেই নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ব্রাজিল সরকারের দাবির পর উল্টো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশটির শীর্ষ এক পরিবেশবিদ বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আগুনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এর আগে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, ভারি বর্ষণ না হলে বনের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে আমাজনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিলির সহায়তা নিতে সম্মত হয়েছে ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো আগামী ৬ সেপ্টেম্বর এক বৈঠকে বসছে। আগুন নেভাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোতে গত বুধবার এক নিবন্ধে পরিবেশবিদ তাসো আজেভেদো লেখেন, জুলাই-আগস্টে সরকারি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বড় ধরনের আগুনের ঘটনা শনাক্ত করে।

ব্রাজিলের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএনপিইর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম ২৬ দিনে আগুনে আমাজনের এক হাজার ১১৪ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, এখন যা দেখা যাচ্ছে তা সত্যিকার সংকট, আর তা ট্র্যাজেডি হয়ে উঠতে পারে। এখনই যদি এই আগুন থামানো না হয়, তাহলে তা আরও ব্যাপক হয়ে উঠতে পারে।

এজন্য আদিবাসী অঞ্চল ও সংরক্ষিত এলাকায় অরণ্য ধ্বংসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা এবং শুষ্ক মৌসুম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বা অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বনাঞ্চলে ইচ্ছাকৃত আগুন লাগানো নিষিদ্ধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বলসোনারো। ‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত আমাজন বনের ভয়াবহ আগুন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা নেয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানালেও বুধবার চিলির সহায়তা গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে ২৭ আগস্ট আমাজনের সুরক্ষায় জি-সেভেন দেশগুলোর দুই কোটি ডলারের সহায়তা ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয় ব্রাজিল সরকার।

দেশটির প্রেসিডেন্ট অবশ্য এখন বলছেন, ‘আমি কি ওটা (আগুন নেভানোর তহবিল নাকচ করে দেয়া) বলেছিলাম?’ তিনি বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাকে নিয়ে অপমানসূচক মন্তব্য প্রত্যাহার করলে তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

আমাজনের আগুন নিয়ে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এক বৈঠকে ভেনিজুয়েলা ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার সব দেশ অংশ নেবে। এছাড়া জাপানে আফ্রিকান দেশগুলোর উন্নয়ন নিয়ে এক সম্মেলনে আমাজন বন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্রাজিলে রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুতত্ত্ব বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়াদভিন্দার মাহি বলেন, ব্রাজিলের পরিবেশ সংস্থায় তহবিল বরাদ্দ এ বছরই ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ থেমে গেছে।

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলে বন উজাড়ের ঘটনা ৮০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট অব দ্য এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড রিনিউবেল ন্যাচারাল রিসোর্স (ইবামা)।

২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন সংকুচিত করতে শুরু করেন। ইবামার কর্মক্ষেত্র সীমিত করার পাশাপাশি কমিয়ে দেয়া হয় বাজেট।

বর্তমান ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট বলসোনারো ক্ষমতায় আসীন হয়ে এর বাজেট ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেন। সংস্থাটির শীর্ষ পদে এমন একজনকে নিয়োগ দেন, যিনি বন সুরক্ষার বদলে তার ধ্বংসের পথ করে দিচ্ছেন।

আইএনপিই বলছে, এ বছর জুন পর্যন্ত ব্রাজিলে ৭২ হাজার ৮৪৩টি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আগুনের ঘটনা আমাজনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৮ শতাংশ বেশি।

আদিবাসী পরিবেশবাদীরা বলছেন, আমাজনকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির কারণেই আগুন লাগানোর মহোৎসব শুরু হয়েছে। এ বছর আরেকটি পরিবর্তন ছিল পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা বিশেষ বাহিনী জিইএফকে অকার্যকর করে দেয়া। ইবামা বিপজ্জনক ও দুর্গম এলাকায় অভিযানের জন্য এই বিশেষ বাহিনীর ওপর নির্ভর করত।

জিইএফ সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর মতো পরীক্ষা হয়। এছাড়া ইবামার বন পুলিশের বিশেষ বাহিনীকে চলতি বছর আমাজনে কোনো দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। বলসোনারো দায়িত্ব নেয়ার পর পরিবেশ অপরাধীদের শাস্তিও কমে গেছে।

আমাজনের আগুন নেভাতে বনে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট : বিশ্বের বৃহত্তম চিরহরিৎ বন আমাজনের ব্রাজিল অংশে লাগা আগুন বলিভিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিলের পাশাপাশি বলিভিয়ার সামরিক বাহিনী ও দমকলকর্মীরা আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ সংকটে বসে নেই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা খোদ প্রেসিডেন্টও।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্নিনির্বাপক মেশিন ঘাড়ে নিয়ে বনে নেমে পড়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস।

বুধবার রয়টার্স প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, দমকলকর্মীদের পোশাক গায়ে জড়িয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন মোরালেস। ইতিমধ্যে বলিভিয়ার ১২ লাখ হেক্টর (৩২ লাখ একর) এলাকার বনাঞ্চল পুড়ে গেছে।

আমাজনে আগুনের তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা

বৈঠকে বসছে লাতিন দেশগুলো * দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জাতিসংঘের * চিলির সহায়তা নেবে ব্রাজিল * আমাজন ধ্বংসে ‘দায়ী’ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট
 যুগান্তর ডেস্ক 
৩০ আগস্ট ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আমাজনে আগুনের তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্নিনির্বাপক মেশিন ঘাড়ে নিয়ে বনে নেমে পড়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস , ছবি: এএফপি

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল আমাজনের আগুন ক্রমেই নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ব্রাজিল সরকারের দাবির পর উল্টো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশটির শীর্ষ এক পরিবেশবিদ বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আগুনের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এর আগে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, ভারি বর্ষণ না হলে বনের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে আমাজনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিলির সহায়তা নিতে সম্মত হয়েছে ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো আগামী ৬ সেপ্টেম্বর এক বৈঠকে বসছে। আগুন নেভাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোতে গত বুধবার এক নিবন্ধে পরিবেশবিদ তাসো আজেভেদো লেখেন, জুলাই-আগস্টে সরকারি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বড় ধরনের আগুনের ঘটনা শনাক্ত করে।

ব্রাজিলের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএনপিইর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম ২৬ দিনে আগুনে আমাজনের এক হাজার ১১৪ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, এখন যা দেখা যাচ্ছে তা সত্যিকার সংকট, আর তা ট্র্যাজেডি হয়ে উঠতে পারে। এখনই যদি এই আগুন থামানো না হয়, তাহলে তা আরও ব্যাপক হয়ে উঠতে পারে।

এজন্য আদিবাসী অঞ্চল ও সংরক্ষিত এলাকায় অরণ্য ধ্বংসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা এবং শুষ্ক মৌসুম শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বা অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বনাঞ্চলে ইচ্ছাকৃত আগুন লাগানো নিষিদ্ধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বলসোনারো। ‘পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত আমাজন বনের ভয়াবহ আগুন মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা নেয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানালেও বুধবার চিলির সহায়তা গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এর আগে ২৭ আগস্ট আমাজনের সুরক্ষায় জি-সেভেন দেশগুলোর দুই কোটি ডলারের সহায়তা ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয় ব্রাজিল সরকার।

দেশটির প্রেসিডেন্ট অবশ্য এখন বলছেন, ‘আমি কি ওটা (আগুন নেভানোর তহবিল নাকচ করে দেয়া) বলেছিলাম?’ তিনি বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তাকে নিয়ে অপমানসূচক মন্তব্য প্রত্যাহার করলে তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

আমাজনের আগুন নিয়ে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এক বৈঠকে ভেনিজুয়েলা ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার সব দেশ অংশ নেবে। এছাড়া জাপানে আফ্রিকান দেশগুলোর উন্নয়ন নিয়ে এক সম্মেলনে আমাজন বন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্রাজিলে রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুতত্ত্ব বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়াদভিন্দার মাহি বলেন, ব্রাজিলের পরিবেশ সংস্থায় তহবিল বরাদ্দ এ বছরই ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ থেমে গেছে।

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলে বন উজাড়ের ঘটনা ৮০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট অব দ্য এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড রিনিউবেল ন্যাচারাল রিসোর্স (ইবামা)।

২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন সংকুচিত করতে শুরু করেন। ইবামার কর্মক্ষেত্র সীমিত করার পাশাপাশি কমিয়ে দেয়া হয় বাজেট।

বর্তমান ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট বলসোনারো ক্ষমতায় আসীন হয়ে এর বাজেট ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেন। সংস্থাটির শীর্ষ পদে এমন একজনকে নিয়োগ দেন, যিনি বন সুরক্ষার বদলে তার ধ্বংসের পথ করে দিচ্ছেন।

আইএনপিই বলছে, এ বছর জুন পর্যন্ত ব্রাজিলে ৭২ হাজার ৮৪৩টি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আগুনের ঘটনা আমাজনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৮ শতাংশ বেশি।

আদিবাসী পরিবেশবাদীরা বলছেন, আমাজনকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির কারণেই আগুন লাগানোর মহোৎসব শুরু হয়েছে। এ বছর আরেকটি পরিবর্তন ছিল পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা বিশেষ বাহিনী জিইএফকে অকার্যকর করে দেয়া। ইবামা বিপজ্জনক ও দুর্গম এলাকায় অভিযানের জন্য এই বিশেষ বাহিনীর ওপর নির্ভর করত।

জিইএফ সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর মতো পরীক্ষা হয়। এছাড়া ইবামার বন পুলিশের বিশেষ বাহিনীকে চলতি বছর আমাজনে কোনো দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। বলসোনারো দায়িত্ব নেয়ার পর পরিবেশ অপরাধীদের শাস্তিও কমে গেছে।

আমাজনের আগুন নেভাতে বনে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট : বিশ্বের বৃহত্তম চিরহরিৎ বন আমাজনের ব্রাজিল অংশে লাগা আগুন বলিভিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিলের পাশাপাশি বলিভিয়ার সামরিক বাহিনী ও দমকলকর্মীরা আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ সংকটে বসে নেই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা খোদ প্রেসিডেন্টও।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্নিনির্বাপক মেশিন ঘাড়ে নিয়ে বনে নেমে পড়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস।

বুধবার রয়টার্স প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, দমকলকর্মীদের পোশাক গায়ে জড়িয়ে আগুন নেভানোর কাজ করছেন মোরালেস। ইতিমধ্যে বলিভিয়ার ১২ লাখ হেক্টর (৩২ লাখ একর) এলাকার বনাঞ্চল পুড়ে গেছে।