সেবা নিশ্চিত করতে অভিযোগ কেন্দ্র খুলেছি

  গাইবান্ধা প্রতিনিধি ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন
অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন। ফাইল ছবি

১৯৭২ সালে গাইবান্ধা পৌরসভার যাত্রা শুরু। বর্তমানে এর আয়তন ১০.৫৪ বর্গ কিমি.। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পৌরসভার লোক সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮৩৩ জন। এর মধ্যে নারী ৩২ হাজার ২৯১, পুরুষ ৩৫ হাজার ৫৪২ জন। ২০০২ সালের পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিকে উন্নীত হয়। বর্তমানে পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন। ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। এ সাড়ে ৩ বছরে তিনি উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি ওয়াজিউর রহমানের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও গাইবান্ধায় নাগরিক সুবিধা বলে তেমন কিছুই নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ড্রেনেজ সমস্যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত অডিটোরিয়াম নেই। শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। যানজটে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ। শহরের মাঝখানের বাস টার্মিনাল নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির অভাব, নিয়ন্ত্রণহীন অটোবাইক, ফুটপাত দখল, রাস্তার পাশে দোকানপাট- এমন নানবিধ সমস্যা আছে যা পৌরবাসীর স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে।

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন। তিনি বলেন, ‘সমস্যা তো কিছু থাকবেই। তারপরও বলছি নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতির ৮০ ভাগ সম্পন্ন করেছি। বাকি ২০ ভাগ আগামী নির্বাচনের আগেই শেষ করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা অভিযোগ কেন্দ্র চালু করেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

মেয়র বলেন, ‘পৌর পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনে নতুন করে প্রাচীর নির্মাণ, এর পুকুরে ফোয়ারা স্থাপন, জনগণের সুবিধার্থে সাউন্ড সিস্টেম চালু করেছি। পৌর গোরস্থানে লাইটিং ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ সড়কের উন্নয়ন করেছি। ড্রেন, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও সড়ক বাতির উন্নয়ন করেছি। সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আধুনিকায়ন। এছাড়া ঘাঘট লেককে চিত্তবিনোদন কেন্দ্র, ডিবি রোডকে ফোর লেনে উন্নীতকরনের কাজ শুরু হয়েছে। আরেকটি গোরস্থান এবং পার্ক নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ হয়ে আসছে।’

মেয়র বলেন, ‘এডিবির অর্থায়নে তিন বছরে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা, ড্রেন, গ্যারেজ ও টয়লেট নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায় হয়েছে। জলবায়ু ট্রাস্টি ফান্ডের অর্থায়নে ৫ কোটি টাকার ড্রেন নির্মাণে ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান আছে।

২ কোটি ১২ লাখ টাকার ৩টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান। আরও ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। শিগগিরই এ প্ল্যান্ট থেকে জনগণের মধ্যে পানি সরবরাহ করা হবে। এর ফলে শহরে পানি সমস্যা থাকবে না। জঙ্গি তৎপরতা, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তদের তৎপরতা, ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ সব অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।’

শহরের জরাজীর্ণ রাস্তাগুলো সম্পর্কে মেয়র মিলন বলেন, ‘রাস্তাগুলো সংস্কারের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। কাজ শেষ হলে সমস্যা আর থাকবে না।’

অটোবাইকের কারণে গাইবান্ধা শহরের রাস্তাঘাটে চলাচল করা যায় না; যত্রতত্র যানজট- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার অনুমোদিত অটোবাইকের চেয়ে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অটোবাইকের সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক চেষ্টা করেও এসব বন্ধ করা যাচ্ছে না।’

ডাস্টবিন সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পরই এ সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে ড্রাম কেটে ডাস্টবিন স্থাপন করে দেই। কিন্তু দুর্ভাগ্য এসব ডাস্টবিনের কোন হদিস নেই। আগামী নির্বাচনের আগেই ডাস্টবিন সমস্যার সমাধান হবে আশা করছি।’

সামান্য বৃষ্টি হলেই গাইবান্ধা পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। সেই পানি বের হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই এ সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এ সম্পর্কিত আরও কিছু কাজ করা হবে। এর ফলে জলাবদ্ধতা কমবে।’

মেয়র বলেন, ‘পৌরসভার সামনে স্টেশন রোডের পাশে হকারদের দোকানপাট সরিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি হকারদের শনি মন্দিরের সামনে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এভাবে অন্য এলাকাতেও রাস্তার পাশে বসা দোকানপাট সরিয়ে দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘পৌরবাসী শতভাগ কর প্রদান করেন না। ফলে অনেক উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব হয় না। এরপরও পৌরবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কর্মচারীরা। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। অপরদিকে জেলা সদর হাসপাতাল এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। পৌরসভার কর্মী দিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

পৌরসভায় বিভিন্ন কাজে দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে মেয়র বলেন, ‘অভিযোগটি সত্য নয়। পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার সব চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে কাজ করার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘মাস্টার প্ল্যান করে শহরের উন্নয় কাজ চলছে। কাজগুলো শেষ হলে শহরটি অনেক গোছানো এবং সুন্দর রূপ নেবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×