চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে অনড় বরিস বিরোধীরা একাট্টা

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক আবেদন আদালতে খারিজ

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিস জনসন
বরিস জনসন। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় ব্রিটেনের সংসদে কোণঠাসা হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। যে কোনো মূল্যে ৩১ অক্টোবর ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা দূর করতে ব্রিটেনের সংসদ সাময়িক স্থগিত করেন তিনি।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলগুলো তার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়, এমনকি দলীয় কয়েক সদস্যও তার বিরুদ্ধে গেছেন। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জনতার বিক্ষোভও চলছে। এর মাঝেই অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে স্কটল্যান্ডের আদালতে করা এক আবেদন শুক্রবার খারিজ হয়েছে।

এ অবস্থায় বরিস জনসন জানিয়েছেন, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ব্রেক্সিটের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেপ্টেম্বরে প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করে দু’পক্ষের আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। গত বুধবার ব্রাসেলসে বরিসের ব্রেক্সিটবিষয়ক মধ্যস্থতাকারী ডেভিড ফ্রস্ট ও ইইউ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টেফান ব্লক।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সংসদের অধিবেশনে কাটছাঁট করে ব্রেক্সিটের আগে বিরোধীদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করলেও তারা হাল ছাড়তে প্রস্তুত নন। ৩১ অক্টোবরের আগেই তারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের সম্ভাবনা দূর করতে বদ্ধপরিকর। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর বেপরোয়া উদ্যোগ থামানোর চেষ্টা করা হবে। লেবারসহ পাঁচটি বিরোধী দল এক যৌথ ঘোষণাপত্রে সংসদ মুলতবির পদক্ষেপ নিয়ে ভোটাভুটির উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে।

দলের মধ্যে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থীদের সহায়তায় নিজের লক্ষ্য পূরণে অবিচল থাকলেও সংসদে বরিস জনসন কতটা সমর্থন পাবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটসহ অন্যান্য উদ্যোগ শুরু করলে কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে ঐক্যের পরীক্ষা হবে। মাত্র একটি আসনের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিষয়টি বরিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গত বৃহস্পতিবার স্কটল্যান্ডে কনজারভেটিভ দলের প্রধান রুথ ডেভিডসন পদত্যাগ করায় বরিসের কর্তৃত্ব কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। তার পথ অনুসরণ করে দলের কিছু সংসদ সদস্যও যদি বরিসের সঙ্গ ত্যাগ করেন, সেক্ষেত্রে তিনি বিপাকে পড়বেন।

বরিসের সংসদ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে স্কটল্যান্ডের আদালতে একটি আবেদন খারিজ হলেও বাকিগুলোর শুনানি হবে। ইংল্যান্ডের আদালতেও এ সংক্রান্ত একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। ব্রেক্সিটবিরোধী প্রচারক জিনা মিলারের এমন এক আবেদনের সঙ্গে হয়েছেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতা স্যার জন মেজর।

ডয়চে ভেলে বলছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সংসদ মুলতবি রাখার পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জার্মান সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির প্রধান নর্বার্ট র‌্যোটগেন বলেছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথে সংসদকে পথের কাঁটা হিসেবে দূর করে ইইউকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে থাকলে এর মুখে নতি স্বীকার করা হবে না। তার মতে, কোনো সরকারপ্রধান সংসদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করলে ইইউ সেই আচরণকে পুরস্কৃত করতে পারে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×