মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

২০১৫ সালের ১২৪ জন এবং ২০১৬ সালের জন্য ১৪১ শিক্ষার্থী ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক’ পান

  বাসস ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বায়নের এ যুগে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে মানসম্পন্ন ও সময়োপযোগী উচ্চশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিই পারে সব প্রতিকূলতা এবং প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে সভ্যতাকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৫ ও ২০১৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যুগোপযোগী উচ্চশিক্ষা মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে এ পদক দেয়া হয়। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালের ১২৪ জন এবং ২০১৬ সালের জন্য ১৪১ শিক্ষার্থী এই পদক পান।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ইউজিসির সদস্য, প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম স্বাগত বক্তব্য দেন। পদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রুবাইয়া জাবিন লতা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নূর মোহাম্মদ অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান মঞ্চে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক বিজয়ীদের উদ্দেশে বলেন, এতগুলো ছেলেমেয়ে আমাদের কাছ থেকে স্বর্ণপদক পেল, অর্থাৎ কত মেধা আমাদের দেশে রয়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা পৃথিবীর অনেক দেশের থেকে মেধাবী বলে আমি বিশ্বাস করি। শুধু এখানে মেধার বিকাশে সুযোগটা সৃষ্টি করে দেয়া দরকার। মেধা ও মননচর্চার একটি সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া এবং সেটা করতে পারলে আমাদের ছেলেমেয়েরা যে কত ভালো করতে পারে, সেটা আমার জানা আছে। আজ ২৬৫ জনকে আমরা স্বর্ণপদক দিলাম। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। আর ২০১৬ সালের বেলায় আমি লক্ষ করলাম, মেয়েদের সংখ্যাটা বেশ বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বলতেন, একটি সমাজে নারী-পুরুষ সবারই সমান অধিকার থাকা উচিত, সবাইকেই সমান সুযোগ করে দিতে হবে। আমরা সেটারই চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু লেখাপড়া নয়, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতিচর্চা সবদিকেই প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এজন্য সরকার প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দেবে যেন সেখানে সারা বছর খেলাধুলা চলতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাই তো চলে গেছে, আমরা দুই বোনই বেঁচে আছি (তিনি ও শেখ রেহানা)। আমরা কখনোই আমাদের সন্তানদের পড় পড় পড়- এভাবে বলি না, বরং বলি এটা তোমার পড়া, এটা তোমাকে পড়তে হবে। নিজের গরজেই পড়তে হবে।’ দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ স্বাধীনতা যেন ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশে গ্রামে গ্রামে ইন্টারনেট সুবিধা গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী মার্চ-এপ্রিলেই আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। আমরা স্যাটেলাইট যুগেও চলে যাচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের আকাশ থেকে একেবারে সাগরের তলদেশ (নেভির জন্য সাবমেরিন) পর্যন্ত সব জায়গাতেই বাংলাদেশ বিচরণ করবে, সেভাবেই আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই এই যে আমরা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছি, সেনা-নৌ-বিমানবাহিনী থেকে শুরু করে প্রতিটি বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক করে গড়ে তুলছি, মেডিকেল থেকে শুরু করে বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি, সেখানেও তো আমাদের ভবিষ্যতে শিক্ষক লাগবে, প্রযুক্তিবিদ লাগবে, ডিজিটাল বাংলাদেশের অনেক দক্ষ জনবল দরকার। সেজন্যই শিক্ষাটা আমাদের একান্তভাবে প্রয়োজন। এই যে বিপুল কর্মযজ্ঞ আমরা শুরু করেছি, সেটা এগিয়ে নিয়ে যাবে আজকের প্রজন্ম।

আজকের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামীর কর্ণধার গড়ে উঠবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরাই তো আমাদের সোনার ছেলেমেয়ে, তোমরাই সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। সেটাই আমরা আশা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। উচ্চশিক্ষার বিকাশে তিনি ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই এটাকে আমরা আরও শক্তিশালী করতে চাচ্ছি। আমরা কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের আলোকে সমন্বিত শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। শিক্ষানীতিতে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে মানবিকতা ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টির দিকনির্দেশনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘এক্রিডিটেশন কাউন্সিল আইন’ পাস হয়েছে এবং শিগগিরই এর কার্যক্রম শুরু হবে।

তার সরকারই দেশে প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১২টি নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ৪৪টি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৪টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৫টি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পাস করা হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেসব জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স সাবসিডিয়ারি কোর্সে ‘বাংলা ভাষা’ এবং ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ বিষয় দুটি পাঠ্য করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.