ইতিহাসের বইয়ে আগ্রহ

  হক ফারুক আহমেদ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের শেখার ও জানার অন্যতম উৎস ইতিহাস। ইতিহাস থেকে মানুষ যেমন অতীতকে জানে, ঠিক একইভাবে ইতিহাসের শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে পথচলার দীক্ষা নেয়। শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক ইতিহাস নয় পৃথিবীর ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, বিশেষ ঘটনা, জাতির ইতিহাস মানুষ জানতে চায়। মেলায় ইতিহাসের এমনি নানা দিক নিয়ে এসেছে অসংখ্য বই। এসব বইয়ের প্রতি পাঠকের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বইগুলোর কাটতিও বেশ ভালো। এ বইগুলোর পাঠক একটু বয়সী হলেও তরুণ পাঠকরাও ইতিহাসের বইয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রকাশক ও বিশিষ্টজনরা এমন কথাই জানালেন।

রোববার মেলায় এসেছিলেন লেখক কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। ইতিহাসের বইয়ের পাঠকের ব্যাপারে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ইতিহাসের বইয়ের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ আছে। মানুষ নানা বিষয় সম্পর্কে ইতিহাস থেকেই জ্ঞান আহরণ করে। জাতি, ভাষা, বর্ণ, সামাজিক, রাজনৈতিক বিষয়ে ইতিহাসের শিক্ষা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।’

ইতিহাসের বইয়ের কাটতি নিয়ে আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাজারে নানা ধরনের ইতিহাসের বই পাওয়া যায়। তবে আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি রাজনৈতিক ইতিহাসের বই বেশি বিক্রি হয়। এর আলাদা পাঠকশ্রেণী রয়েছে।’ বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলার ২৫তম দিন পর্যন্ত ইতিহাসের নতুন বই এসেছে ১০৪টি। এবারের বইমেলায় বাংলা একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইতিহাসের বই প্রকাশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শেখ হাফিজুর রহমানের ‘ভারতবর্ষ এবং বাঙালির স্বশাসন ১ম ও ২য় খণ্ড’, শামসুজ্জামান খান রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ’ ও ‘আলোকচিত্রে বাংলা একাডেমির ইতিহাস’, জালাল ফিরোজের ‘পার্লামেন্টারি শব্দকোষ’, সাইফুল ইসলাম সেবুলের ‘বাংলার রাজনীতি ও জিল্লুর রহমান, খোরশেদ শফিউল হাসানের ‘ভাষা সংগ্রামী নাইমউদ্দীন আহমদ’, মুহম্মদ মনিরুল হকের ‘উলুকান্দি থেকে ভৈরব’, আবুবকর সিদ্দিকের ‘রবীনভূপি বাদাবন’, লায়লা আফরোজের ‘বেজে ওঠে সাইরেন’, ইসরাইল খানের ‘পূর্ববাঙলার সাময়িকপত্র প্রগতিশীল ধারা’, মুনতাসীর মামুনের ‘আত্মস্মৃতিতে পূর্ববঙ্গ (প্রথম খণ্ড)’, লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীকের ‘বাংলার কিশোর মুক্তিযোদ্ধা’ বইগুলো অন্যতম। প্রথমা এনেছে খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের লেখা ‘ভাসানী যখন ইউরোপে’, ঐতিহ্য এনেছে মো. নূরুল আনোয়ারের ‘মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড: দুর্যোধনটি কে?’, জ্যোতিপ্রকাশ এনেছে মহসিন হোসাইনের ‘১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ’ ও মুহম্মদ মতিউর রহমানের ‘ঐতিহ্য সভ্যতা সংস্কৃতি’।

ভোরের শিশির এনেছে ড. মো. আনোয়ারুল ইসলামের ‘ভয়াল ২৫ মার্চ রাত ও মুজিবনগর ইতিহাস’, অন্যন্যা এনেছে মুনতাসীর মামুনের ‘উনিশ শতকের পূর্ববঙ্গ সংবাদ সাময়িকপত্রের সঙ্গে রোমান্স’ ও আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর ‘যা দেখেছি যা পেয়েছি’, নবরাগ এনেছে সৌমেন সাহার ‘পৃথিবীর সেরা সত্য ঘটনা-আজব হলেও গুজব নয়’, ন্যাশনাল পাবলিকেশন্স থেকে ড. আনু মাহমুদের ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ’ ও ‘বাঙালি জাতির কলঙ্কিত অধ্যায় রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট’, শ্রাবণ প্রকাশনী এনেছে প্রফেসর ডা. খাজা নাসির উদ্দিন মাহমুদের ‘বিশ্বের ইতিহাস ও সভ্যতা ১ম ও ২য় খণ্ড’, আহমদ পাবলিশিং হাউস এনেছে আউয়াল চৌধুরীর ‘সেই কালো রাত’।

, শব্দশৈলী থেকে প্রকাশ হয়েছে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু মহাকালের মহানায়ক’, গতিধারা এনেছে মামুন তরফদারের ‘বাংলার লোকজ ঐতিহ্য’, কথাপ্রকাশ এনেছে শফিউদ্দিন তালুকদারের ‘ইতিহাস সমাজ ও সংস্কৃতি’, পরিলেখ প্রকাশনী এনেছে ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দের ‘রোহিঙ্গা সমস্যা ও বাংলাদেশ’, মম প্রকাশ এনেছে রেজাউল করিমের ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অভিন্ন সত্তা’, শোভা প্রকাশ এনেছে ড. মোহাম্মদ আমীনের ‘বাংলাদেশের জেলা উপজেলা ও নদ-নদীর নামকরণের ইতিহাস’, শব্দশৈলী এনেছে আসিফ আযহারের ‘সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ’, আফসার ব্রাদার্স এনেছে সাহাদাত হোসেন খানের ‘অটোমান সাম্রাজ্যের স্মরণীয় অধ্যায়’, নবযুগ প্রকাশনী এনেছে এস ওয়াজেদ আলীর ‘আকবরের রাষ্ট্র সাধনা’, দিব্য প্রকাশ থেকে শিরিন আখতারের ‘সুবে বাংলার জমিদার ও জমিদারি’।

শওকত আলীর ‘অবিস্মৃত স্মৃতি’ : রোববার মেলায় এসেছে সদ্য প্রয়াত কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর আত্মজীবনী ‘অবিস্মৃত স্মৃতি’। বইটি প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ। এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী জহিরুল আবেদীন জুয়েল জানান, বইটি শওকত আলী নিজে লেখা শুরু করলেও, অসুস্থতার কারণে পরবর্তীকালে লেখক শিবিরের অন্যতম কর্মী আবদুস সাত্তারকে অনুলিখনের দায়িত্ব দেন। ১৯০ পৃষ্ঠার এই বইটির মূল্য ৩০০ টাকা।

উন্মোচিত হল তথ্যমন্ত্রীর গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিষবৃক্ষ’ : তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর প্রবন্ধ সংকলন ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিষবৃক্ষ’র মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। রোববার বিকালে একুশে গ্রন্থমেলায় সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান প্রধান অতিথি হিসেবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেন, জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য নূরুল আখতার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বইটির প্রকাশক অনার্য প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী সফিক রহমানসহ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

তথ্যমন্ত্রী তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী-জামায়াত-জঙ্গিবাদীরা এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ডালপালা। আর পঁচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর জন্ম নেয়া বিএনপি হচ্ছে রাজনীতির বিষবৃক্ষ। এ বিষবৃক্ষই জঙ্গিবাদের লালনকারী। সে কারণে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কবল থেকে মুক্ত করে দেশকে শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে শুধু ডালপালা ছাঁটলেই হবে না, রাজনীতির বিষবৃক্ষও উপড়ে ফেলতে হবে।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রোববার মেলার ২৫তম দিনে ১০৭টি নতুন বই প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শব্দশৈলী প্রকাশন থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধু: মহাকালের মহানায়ক’, আগামী এনেছে ইকবাল বাহার চৌধুরীর ‘আমার কত কথা ছিল’, র‌্যামন পাবলিশার্স এনেছে সাজ্জাদ আলম খানের ‘অর্থশাস্ত্র নয় সামাজিক অর্থনীতি’, পুথিলিয়ন এনেছে ড. মোহাম্মদ আমীনের ‘বাঙালির বাংলা হাসি, মাওলা ব্রাদার্স এনেছে অজয় দাশগুপ্তের সম্পাদনায় ‘বঙ্গবন্ধু অনেক আগেই স্বাধীনতার কথা ভেবেছিলেন’ ও আনু মুহাম্মদের ‘উন্নয়নের বৈপরীত্য : সর্বজনের সম্পদ কতিপয়ের মালিকানা’, বিভাস এনেছে তানভীর জাহান চৌধুরীর ‘ভালোবাসার প্রতিশোধ ভালোবাসাই নেবে’, শব্দশৈলী এনেছে রাজীব নূরের ‘সেপ্টেম্বর অন টেকনাফ রোড’, তৃণমূল প্রকাশন এনেছে মোশাররফ হোসেন বাবলুর ‘আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ হাঁস-মুরগি ও পশু পালন’, অয়ন প্রকাশন এনেছে সৈয়দ আবদুল মালেকের ‘চিরঞ্জীব শেখ মুজিব’, অনন্যা প্রকাশনী এনেছে প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের ‘ইউরোপের সোনালি দিনগুলি’।

মূলমঞ্চের আয়োজন : রোববার বিকালে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল ‘ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম, ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম এবং একুশের শহীদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। নির্ধারিত প্রবন্ধকার রামেন্দু মজুমদার বিদেশে অবস্থান করায় তার লিখিত ‘ভাষাসংগ্রামী নাদেরা বেগম’ প্রবন্ধটি পাঠ করেন ত্রপা মজুমদার। ‘ভাষাসংগ্রামী মমতাজ বেগম’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিউর রাব্বি এবং ‘একুশের শহিদ মিনারের অন্যতম রূপকার নভেরা আহমেদ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রেজাউল করিম সুমন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফি আহমেদ এবং মালেকা বেগম। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল অধ্যাপক শফিউল আলমের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলার পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফেরদৌস আরা, মো. রেজাউল করিম, মামুন সিদ্দিকী এবং মাহবুবা রহমান।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter