মন্ত্রিসভায় উঠছে শিশু (সংশোধন) আইন

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে ‘শিশু অপরাধী’র চার্জশিট নয়

  উবায়দুল্লাহ বাদল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে ‘শিশু অপরাধী’র বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া যাবে না। পাশাপাশি একই মামলায় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে আসামি করা হলে, সে ক্ষেত্রে শিশু আদালতেই শিশু অপরাধীর বিচার করা হবে। শিশুর বয়স ১৮ বছরই বহাল রেখে ‘শিশু (সংশোধন) আইন ২০১৮’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। খসড়াটি অনুমোদনের জন্য আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া অনুমোদনের জন্য বস্ত্র আইন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) আইন, জাতীয় হজ ও ওমরা নীতিমালা এবং হজ প্যাকেজও বৈঠকে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর ‘শিশু আইন’ সংশোধন করা হয়েছে। ২০১৩ সালের শিশু আইনের অস্পষ্টতা দূর করাসহ প্রস্তাবিত আইনের ১০০টি ধারার মধ্যে ৩৪টিই নতুনভাবে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। খসড়া আইনে শিশু অপরাধীর জন্য আলাদা শিশু আদালত গঠন করে তা সার্বক্ষণিক চালু রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি থানায় নারী পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, ‘শহর শিশু কল্যাণ বোর্ড’, অধিদফতর ও বিভাগীয় পর্যায়ে শিশু অধিকার সুরক্ষা অধিশাখা গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তা স্পষ্ট করে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুর বয়স ১৮ বছরই বহাল রাখা হয়েছে।

শিশুদের বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের ১৪(গ) ধারা সংশোধন করে খসড়ায় বলা হয়, জন্ম সময়ের হাসপাতালের ছাড়পত্র, টিকা গ্রহণের কার্ড, পাবলিক পরীক্ষার নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট ইত্যাদি পর্যালোচনা করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান আইনের ১৫ ধারা সংশোধন করে খসড়ায় বলা হয়েছে, বিচার কাজ শুরুর আগে তদন্তকালে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের জন্য আলাদা দুটি নথি খুলবেন। প্রাপ্তবয়স্কের নথি সংশ্লিষ্ট আদালতে এবং শিশুসংশ্লিষ্ট নথি শিশু আদালতে দাখিল করতে হবে।

‘শিশু আদালত’ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এ আদালত সার্বক্ষণিক আদালত হিসেবে গণ্য হবে। অবকাশকালীন, সরকারি ছুটি বা অন্য কোনো বন্ধের দিন সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ অথবা মহানগর দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক শিশু আদালতের দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত থাকবেন। বিদ্যমান আইনে শিশুদের অপরাধ বিচারে এভাবে পৃথক আদালত ছিল না। দায়রা জজের আদালতই ছিলেন শিশু আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ ট্রাইব–্যনালের বিচরক শিশু আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০১৩ সালের শিশু আইনের ১৩ ধারার ১ উপধারার শেষে শর্তে বলা হয়েছে, ধারা ৫৪-এর উপধারা (২)-এর শর্ত প্রতিপালনের উদ্দেশে প্রতি থানায় একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার শর্তে বলা রয়েছে, নারী সাব-ইনস্পেক্টর কর্মরত থাকলে ওই ডেস্কের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিদ্যমান আইনের ৯ ধারায় ২ উপধারা সংযোজন করে ‘শহর শিশুকল্যাণ বোর্ড’ গঠন করার কথা বলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন শহর এলাকায় এক বা একাধিক বোর্ড গঠিত করতে হবে। বিদ্যমান আইনে জাতীয়, জেলা ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড গঠন করার বিধান রয়েছে। শহর পর্যায়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বোর্ড গঠন করার কথা বলা হয়েছে।

শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা, শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত, শিশুর কাছ থেকে কোনো দ্রব্য বন্ধক বা কেনা ও শিশুকে অসৎ পথে পরিচালনা বা উৎসাহ দেয়া হলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করা হয়েছে। আইনের ৭০, ৭১, ৭৬ ও ৭৮ ধারা সংশোধন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ সালের আইনে ৮ ধারায় বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে। ২০০০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter