সিপিডির সংলাপে বক্তারা

দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে বড় বাধা বৈষম্য

ব্যাংক ঋণ শহরকেন্দ্রিক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু সেটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। উন্নয়নে বড় বাধা বৈষম্য। অল্পকিছু মানুষের কাছে সম্পদ কুক্ষিগত। শহরের মানুষই ব্যাংক ঋণ পায়, বঞ্চিত গ্রাম। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর ক্ষেত্রেও এ বৈষম্য বিরাজমান। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোও কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায় না। এ অবস্থার উত্তরণে সবার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে। রোববার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহানের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষণার ওপর এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ, ড. সেলিম রায়হান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ। সংলাপে বক্তারা দেশে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। ড. রেহমান সোবহান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বৈষম্য বড় সমস্যা। এর কারণ জনগণ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে থাকার কারণে বণ্টনে সাম্যতা আনা যায় না। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে শিক্ষার গুণগত মানেও পার্থক্য রয়েছে। রেহমান সোবহান বলেন, অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষির জন্য সংস্কার কমিশন গঠন জরুরি। এ কমিশন কৃষির উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ করবে। মির্জ্জা আজিজ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছি, উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ জরুরি। কিন্তু আমাদের বেসরকারি বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত হারে বাড়ছে না। ২০০৮ সালে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে ২১ শতাংশ বিনিয়োগ ছিল। ২০১৬ সালে তা ২৩ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই হারে বিনিয়োগ বাড়লে তা হতাশাজনক। তিনি বলেন, যেসব দেশে উন্নয়ন হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে সুশাসন। কারণ সুশাসনই উন্নয়নের পূর্বশত। কিন্তু আমাদের দেশে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় যারা ভালো করছে, তাদের জন্য পুরস্কার নেই। আর যারা খারাপ করছে, তাদেরও শাস্তি দেয়া হয় না।

এতে প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিযোগিতামূলক হয় না। এভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় না। এ সময় তিনি গ্রামে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেন।

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উন্নয়ন পলিসির ধারাবাহিকতা জরুরি। আর রাষ্ট্র ও বাজারের মধ্যে সমন্বয় করে দেশের আর্থিক পলিসি করতে হবে। তিনি বলেন, কর ব্যবস্থার জন্য যে আইন রয়েছে, তাতে প্রতিবছর পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। কারণ এ ধরনের পরিবর্তন করদাতা ও সরকার সবার জন্য সমস্যা তৈরি করে। তার মতে, আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোয় সংস্কার জরুরি। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়াতে না পারলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আর সুশাসন না থাকলে কোনো উন্নয়ন টেকসই নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভারতে প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে গেছে। ফলে তাদের অর্থনীতি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। তিনি মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে আরও সমন্বয়ের ব্যাপারে জোর দেন। তার মতে, এসব নীতি যখন তৈরি করা হয়, তখন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তার হিসাব ওইভাবে থাকে না। ফলে সবাই উন্নয়নের সফুল পাবে, তা নিশ্চিত করা যায় না।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, আমরা সব কিছুতেই ভারত বা অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করি। কিন্তু ওই দেশের মতো আমাদের রাজনীতি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র না থাকলে কোনো কিছুই হবে না। শনিবার বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ যে আচরণ করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়। কিন্তু আমরা কী দেখছি। এটি ভাবা যায় না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি পালনের সুযোগ এককেন্দ্রিক। পাঠ্যসূচিতে একজনের গুণগান গাওয়া হয়েছে। ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ কোটি বই ছাপা হয়েছে। এ বইয়ে স্বাধীনতার ইতিহাসে সোহরাওয়ার্দীর নাম নেই। শিক্ষার ইতিহাসে শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নাম নেই। উন্নয়ন অর্থনীতিতে রেহমান সোবহানের নাম নেই। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। যেসব ছাত্র প্রশ্ন ফাঁস করেছে, তাদের পুরস্কার দেয়া উচিত। কারণ তারা অত্যন্ত মেধাবী। কিন্তু যেসব শিক্ষক প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাদের ধরতে হবে। তার মতে, আমলাদের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা এ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। আর আমলাদের দিয়ে এ ঘটনা তদন্ত করানো হচ্ছে। এর সবকিছুই অস্বাভাবিক।

মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ’৭১-এ যে চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, ওই চেতনায় ফিরে যেতে হবে। কারণ ৪টি মূলনীতির কোনোটিই দেশে নেই।

ড. মসিউর রহমান বলেন, শহরের মানুষ ঋণ পায় বলে যে অভিযোগ এসেছে, তা পুরোপুরি ঠিক নয়। কারণ সরকার ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। গ্রামে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। এছাড়া এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা হয়েছে। আরও কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা এরই মধ্যে চলমান।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.