ডেঙ্গুজ্বর নিয়ন্ত্রণে আগাম প্রস্তুতি: চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ শুরু

আরও তিনজনের মৃত্যু * সুস্থ হয়ে ৯৪ ভাগ রোগী বাড়ি ফিরেছেন

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ শুরু
ছবি: যুগান্তর

আগামী বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। রাজধানীর তিনটি হাসপাতাল এবং পার্শ্ববর্তী তিনটি এলাকায় মেডিসিন ও শিশুবিশেষজ্ঞদের ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট’ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

চলতি সপ্তাহে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় একই ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী বছর ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা আরও সুনিয়ন্ত্রিত করতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর খাবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী ৩২ দিনে ১২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯০২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭১ হাজার ৯৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬৬ হাজার ৬৫৮ জন, যা মোট আক্রান্তের ৯৪ ভাগ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীর মধ্যে ৪০৫ জন ঢাকায় এবং ৪৯৭ জন ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৪ হাজার ২৫৪ জন ভর্তি রয়েছেন।

এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৩৪০ জন চিকিৎসাধীন এবং অন্য বিভাগে ১৯১৪ জন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৮৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে মৃত ৯৬ জনের তথ্য পর্যালোচনা করে ৫৭ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা শনিবার সামান্য বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, শুক্রবার রোগী কিছুটা কম ছিল। তবে রোববার সামান্য বাড়লেও এ সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়নি। এটি অবশ্যই একটি ভালো সূচক।

কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৪১ হাজার ৯৮ জন ঢাকা শহরের। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৩ হাজার ৭০৯ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১৭ হাজার ৩৮৯ জন।

এছাড়া ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের অন্য জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৭ হাজার ৭১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ হাজার ৩৯৬ জন, খুলনা বিভগে ৫ হাজার ১৪৮ জন, রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৬৯০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৩০৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৪ হাজার ১৪২ জন, সিলেট বিভাগে ৭৭১ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ হাজার ৮৩০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ’ শাখার প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, আগামী বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কার্যক্রম আমরা ইতিমধ্যে শুরু করেছি। এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন’ এবং ‘বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে পরিচালনা করছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মেডিকেল কলেজ এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

তিনজনের মৃত্যু : কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আবদুল কুদ্দুস (৬০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, বরণডালি গ্রামের কুদ্দুস ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শরীরে জ্বর ও প্রচণ্ড ব্যথা ছিল। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

সাভার প্রতিনিধি জানান, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ভর্তি এক নারী মারা গেছেন। হাসপাতালের পরিচালক জাহিদুর রহমান জানান, শনিবার বিকালে খাদিজা আক্তার (৪২) নামে এক নারী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। খাদিজার বাড়ি বরিশালের ভাণ্ডারিয়ায়।

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত দুই সন্তানের জননী হাসিনা সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা তার ডেঙ্গুজ্বর আমলে না নিয়ে অন্য চিকিৎসা করেন।

স্বামী হালিম জমাদ্দারের অভিযোগ, ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে অনুরোধ করা হলে চিকিৎসক বলেন, তিনি (হাসিনা) সুস্থ আছেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান বলেন, হাসিনা পেট ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। সম্ভবত তিনি কার্ডিয়াক অ্যাটাকে মারা গেছেন।

বরিশালে আইইডিসিআর’র টিম : নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে কাজ শুরু করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিশেষ দল। নগরীর ৩০০ পরিবারের তথ্য-উপাত্ত ও নমুনা সংগ্রহ করতে ১৯ জনের বিশেষজ্ঞ টিম ২১ আগস্ট থেকে মাঠে কাজ শুরু করেন।

আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞ দলটির প্রধান গবেষক ও রোগতত্ত্ববিদ ওমর কাইউম বলেন, বরিশালে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি পাওয়া গেছে। কেন বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, এর পেছনে কী থাকতে পারে, সেটা চিহ্নিত হতে মাঠপর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মশার লার্ভা থেকে মশার প্রজাতি শনাক্ত করা হচ্ছে। এটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পিরোজপুর ও পটুয়াখালীতে বেশি। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও সময় লাগতে পারে।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×