সরানো হল কালামকে, নতুন শরণার্থী কমিশনার মাহবুব

রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছবি: যুগান্তর

কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের পদ থেকে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালামকে সরিয়ে যুগ্ম সচিব মাহবুব আলম তালুকদারকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সোমবার এ সংক্রান্ত আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে।

২৫ আগস্ট ক্যাম্পের ভেতর রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশের অনুমতি এবং রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা দ্বিতীয় দফায়ও ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারের এ সিদ্ধান্ত এল। প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেয়ার কারণেই এ রদবদল করা হয়েছে। এদিকে রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন সেবা বন্ধে অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে বিটিআরসি।

কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেছেন, ‘এটি রুটিনওয়ার্ক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের বদলি করা হয়েছে। কাউকেই ওএসডি করে রাখা হয়নি। অনেকের তিন বছর হয়েছে। এর মধ্যে অন্য কোনো কারণ নেই।’

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) দায়িত্ব পালন করে আসা আবুল কালামকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বদলি আদেশে বলা হয়েছে, তাকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বদলি করা স্থানে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় সেদিন বিকালে তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।

আলাদা আদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের পরিচালক মো. মাহবুব আলম তালুকদারকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার পদে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে তাকে বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছিল। সেই আদেশ বাতিল করে সোমবার মাহবুবকে কক্সবাজারে নতুন দায়িত্ব দেয়া হল।

আমাদের উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, বদলির আদেশের পর এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মো. আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘আমার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। বিধি অনুযায়ী আমাকে বদলি করা হয়েছে।’

দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সহযোগিতা পাওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

এছাড়া উখিয়া কুতুপালং এক্স-৪ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপসচিব শামীমুল হক পাভেলকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের উপ-পরিচালক করা হয়েছে। তার জায়গায় দেয়া হয়েছে ওএসডি উপসচিব খলিলুর রহমান খানকে।

পাশাপাশি আরআরআরসির কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী সচিব আবদুল ওহাব রাশেদকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের উপ-পরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে। তার জায়গায় (নন ক্যাডার) সিনিয়র সহকারী সচিব আহসান হাবীবকে কমিশনারের কার্র্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সহকারী সচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে নতুন পোস্টিং না দিয়ে আরআরআরসি কার্যালয় থেকে সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। কী কারণে শামীমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে সেটা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি কেউ।

ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের একাধিক সূত্র বলছে, রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেয়ার কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই মহাসমাবেশ যে জায়গায় হয়েছে ওই ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন পাভেল।

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সংকটের দুই বছর উপলক্ষে মহাসমাবেশের ডাক দেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ। ঘোষণা অনুযায়ী প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার সমাগম ঘটে ওই মহাসমাবেশে। তখন বলা হয়েছিল, সমাবেশের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি।

কিন্তু রোহিঙ্গা নেতারা দাবি করেছিলেন, তারা লিখিত আবেদনের মাধ্যমে সিআইসি থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। এরপর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ ঘিরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন সেবা বন্ধের জন্য অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খাঁন জানান, এ বিষয়ে রোববার অপারেটরদের চিঠি পাঠিয়েছেন তারা।

নির্দেশনায়, আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরে কোনো প্রকার মোবাইল সিম বিক্রি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল ফোন সুবিধাদি প্রদান না করা সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিটিআরসিকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়। এরপর আঙুলের ছাপ মেলানোর পর হয় ‘বায়োমেট্রিক’ নিবন্ধনের কাজ। রোহিঙ্গারা এ দেশের নাগরিক না হওয়ায় তাদের মোবাইল ফোনের নিবন্ধন পাওয়ার কথা নয়।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×