ভাসানচরকে বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে পরিকল্পনা

  মিজান চৌধুরী ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

‘ভাসানচরকে’ বাদ দিয়েই আগামী বছরের জন্য রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট মোকাবেলায় যৌথ পরিকল্পনা (জেআরসি) প্রণয়ন করছে জাতিসংঘ মিশন। রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি তাদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চালুসহ টেকনাফ ও উখিয়ার স্থানীয় জনগণকেও এ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনায় স্থানীয় আরও কিছু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে খসড়া পরিকল্পনায় ভাসানচরকে বাদ দেয়ার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর।

সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়া হয়েছে, আগামীতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করতে হবে। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। যৌথ পরিকল্পনায় ভাসানচরকে অন্তর্ভুক্ত না করা হলে সরকার এটি অনুমোদন নাও দিতে পারে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকারের টাস্কফোর্স সভায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সভায় পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেছেন, ভাসানচর রোহিঙ্গাদের বসবাসের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। স্কুল, দোকানপাট, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগপর্যন্ত সেখানে রাখা হবে রোহিঙ্গাদের। কিন্তু জাতিসংঘের যৌথ পরিকল্পনায় এটি অন্তর্ভুক্ত করা না হলে সরকার তা অনুমোদন নাও করতে পারে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংক্রান্ত সরকারের টাস্কফোর্স সভায় জাতিসংঘ প্রতিনিধি রোহিঙ্গাদের নিয়ে তাদের আগামী বছরের যৌথ পরিকল্পনার খসড়া তুলে ধরেন। এটি চূড়ান্ত করে ডিসেম্বরে ঘোষণার কথা। এ যৌথ পরিকল্পনাটিই তুলে ধরা হবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এজন্য যৌথ পরিকল্পনাটি গুরুত্বপূর্ণ।

টাস্কফোর্সের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ভাসানচর নিয়ে কিছুটা আপত্তি তোলা হয়। বলা হয়, বর্ষায় জায়গাটি পানিতে ডুবে যাবে। সরকারের বক্তব্য হচ্ছে- কক্সবাজারে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে, এটি ওই অঞ্চলের জন্য ভীষণ চাপ সৃষ্টি করেছে। চাপ কমাতে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুবিধা দেয়া হয়েছে। ফলে ভাসানচর যৌথ পরিকল্পনায় রাখতে হবে। সূত্র জানায়, চলতি মাসেই রোহিঙ্গা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার আগেই এটি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সূত্রমতে, এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। তারা নানা অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। খুন, গুম ও মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও অনেক। এসব নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও থাকবে জেআরসিতে। এদিকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত টেকনাফ ও উখিয়ার অধিবাসীদেরও জেআরসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে স্থানীয় লোকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার। রোহিঙ্গাদের কারণে ওই এলাকার মানুষ নানারকম সমস্যায় রয়েছেন। বিশেষ করে কর্মসংস্থান কমেছে, কমেছে মজুরিও। পাশাপাশি পণ্যের দাম বেড়েছে অনেক।

এসব বিবেচনায় রেখেই স্থানীয়দের পরিকল্পনায় নিয়ে আসা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে যেসব পরিকল্পনা নেয়া হবে, একই পরিকল্পনা নেয়া হবে টেকনাফ ও উখিয়ার জনগণের জন্যও। জানা গেছে, ২০২০ সালের পরিকল্পনায় পরিবার-পরিকল্পনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কেননা রোহিঙ্গাদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের মানসিকতা নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সরকারের একটি নিজস্ব পরিবার পরিকল্পনা থাকলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বেলায় সেটি নেই। তাদের মধ্যে সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতা বেশি। প্রতিনিয়তই নারীরা গর্ভধারণ করছেন।

এটা চলতে থাকলে আগামীতে চাপ আরও বাড়বে। ফলে জন্মনিয়ন্ত্রণে জোরাল উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে জেআরসিতে। টেকনাফ ও উখিয়ার ৬ হাজার একর বন কেটে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২ হাজার একর সামাজিক বনায়ন এবং ৪ হাজার একর প্রাকৃতিক বনায়ন নষ্ট করা হয়েছে। নতুন করে আর বন নষ্ট করা যাবে না বরং ঘাটতি পূরণে আগামীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করার বিষয়টি জেআরসিতে স্থান পাচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×