শার্শায় সেই গৃহবধূ ধর্ষণ

ডাক্তারি পরীক্ষায় সত্যতা মিলেছে

  যশোর ব্যুরো ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শার্শায় ভিকটিমকে গাড়িতে তোলা হচ্ছে, ইনসেটে অভিযুক্ত এসআই খায়রুল। ফাইল ছবি
শার্শায় ভিকটিমকে গাড়িতে তোলা হচ্ছে, ইনসেটে অভিযুক্ত এসআই খায়রুল। ফাইল ছবি

যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে শার্শার সেই গৃহবধূকে ধর্ষণের সত্যতা মিলেছে। মঙ্গলবার ওই গৃহবধূর কাছ থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ। তিনি বলেন, আলামত মিলেছে। তবে ধর্ষণে কে বা কারা জড়িত ডিএনএ টেস্ট ছাড়া তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

প্রথমে ভিকটিম শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুলের নেতৃত্বে গণধর্ষণ হয়েছে বলে দাবি করেন। কিন্তু ভিকটিমের সামনে খায়রুলকে হাজির করলে তিনি জানান এই ব্যক্তি সেই খায়রুল নয়। তাহলে খায়রুল নামের অন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা নাকি অন্য কেউ পুলিশের নাম ব্যবহার করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। সেটি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে যশোর জেলা পুলিশ।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে শার্শার লক্ষণপুর এলাকায় ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন গোড়পাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল ও তার সোর্স কামরুল। টাকা দিলে তার স্বামীর বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা দেখিয়ে জামিনে সহায়তা করবেন বলে জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়। একপর্যায়ে খায়রুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন, এ সময় কামরুলও তাকে ধর্ষণ করেন। ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওই নারী যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য এলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ বলেন, ‘গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূর কাছ থেকে আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। ওই রিপোর্টেই ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। কিন্তু ওই নারীর শরীরে পাওয়া পুরুষের বীর্য কার বা কাদের তা ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বলা যাবে না। সিআইডির মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট করাতে হয়। ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া গেলেই জানা যাবে একজন, নাকি একাধিক ব্যক্তির বীর্য রয়েছে সেখানে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিআইডির পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, আলামত প্রস্তুত রাখতে।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শার্শা থানার ওসি (তদন্ত) আল ফরিদ জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) আদালতে গ্রেফতারকৃত তিন আসামির রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আদেশ হবে। তিনি বলেন, ওই নারীর ধর্ষণের আলামত ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় সিআইডিতে পাঠানো হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এসআই পরিচয়দানকারী খায়রুলের খোঁজে পুলিশ : পুলিশ কর্মকর্তা খায়রুল পরিচয়দানকারী ব্যক্তির সন্ধানে মাঠে নেমেছে যশোর পুলিশ। বুধবার রাতে যশোর পুলিশের বিশেষ শাখা বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, যশোর জেলায় খায়রুল বা খায়রুল আলম নামে কোনো পুলিশ সদস্য আছে কিনা তা যাচাই করা হয়েছে। জানা গেছে শার্শা থানার এসআই শেখ খায়রুল বাসার গত ২৫ আগস্ট হতে ৩০ দিনের প্রশিক্ষণে ঢাকায় আছেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টে এসআই খায়রুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি কর্মরত আছেন। এছাড়া অন্য কোনো পুলিশ সদস্য ঘটনার সময় সেখানে গিয়েছিলেন কিনা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

ভয়ে এসআই খায়রুলের নাম প্রকাশ করিনি : বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, এদিকে শার্শার ধর্ষিতা গৃহবধূ বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের বলেছেন, ভয়ভীতির কারণেই পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সামনে এসআই খায়রুলের নাম প্রকাশ করিনি। নির্যাতিতা মহিলা জানান, এসআই খায়রুল ইতিপূর্বে আমার স্বামীকে একাধিকবার ষড়যন্ত্র করে ফেনসিডিল দিয়ে চালান দিয়েছেন। আমার স্বামী বেশ কিছু দিন ধরে মাদক ব্যবসা ছেড়ে কৃষি কাজে যোগ দিয়েছেন। এসপির সামনে যখন দারোগাকে আমার মুখোমুখি করা হয় তখন এসআই খায়রুল আমাকে চোখ মোটা মোটা করে ভয় দেখায়। ভয়ে আমি তার নাম প্রকাশ করিনি। ওই নারীর প্রতিবেশী রাফিজা খাতুন জানান, এসআই খায়রুল ওই দিন রাত আড়াইটায় এসে ওই নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন করেছে। আমরা তার বিচার চাই।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন সিকদার জানান, এসআই খায়রুলকে ওই নারীর মুখোমুুখি করা হলে তিনি খায়রুলকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন। তবে তদন্ত চলছে, তিনি দোষী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে খায়রুলের ভয়ভীতি দেখানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কাছে তিনি কি বলেছেন সেটা আমার জানা নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×