বিদ্যুৎ সমস্যা আর ধরলার ভাঙন নিয়েই আছি

  মো. মিজানুর রহমান দুলাল, লালমনিরহাট ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাটগ্রাম পৌরসভার মেয়র শমসের আলী।
পাটগ্রাম পৌরসভার মেয়র শমসের আলী।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের সর্ব উত্তরে অবস্থিত পাটগ্রাম পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভার আয়তন ১৩.০৬ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৩২ হাজার ২৬৪ জন। ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ২০ হাজার ৪৩৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ২০ ও মহিলা ১০ হাজার ৪৩৪ জন।

পৌরসভাটি ২০০৯ সালের ১৯ অক্টোবর ‘খ’ শ্রেণি এবং ২০১১ সালের ২৬ মে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। এ পৌরসভায় তৃতীয় বারের মতো মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি শমসের আলী। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। তার হাত ধরেই পৌরসভায় অনকে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও অনেক এলাকার মানুষ এখনও বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই।

পৌর এলাকার বাসিন্দা ও কলেজশিক্ষক ইফতেখার হোসেনের অভিযোগ, ‘পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাটের অবস্থা করুন। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। অনেক জায়গায় খাল ও নদীর পার দখল হয়ে গেছে।’

সমাজ কর্মী সায়েদুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘পাটগ্রাম পৌরসভার মেয়র শমসের আলী ভালো মানুষ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো বলেই বারবার তিনি নির্বাচিত হন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পৌরসভার উন্নয়ন মোটামুটি হয়েছে। তবে রাস্তার অবস্থা ভালো নয়। এগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’

স্থানীয় কলেজশিক্ষক আবু আলম বলেন, ‘শহরে যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী। অনেক এলাকায় সড়ক বাতিও নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নয়।’

শিক্ষক কাজী কুতুব বলেন, ‘পাটগ্রাম টিএন স্কুলের পাশে উন্মুক্ত ড্রেনের দুর্গন্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা খুব সমস্যায় আছে। ড্রেনের পানি ধরলা নদীতে পড়ছে। এতে ধরলার পানি দূষিত হচ্ছে।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র শমসের আলী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতির ৭৫ শতাংশই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। যেটুকু বাকি আছে তা পূরণে চেষ্টা করছি। পৌর এলাকায় বাস টার্মিনাল, কমিউনিটি সেন্টার, পৌর মিনি মার্কেট নির্মাণ করেছি। গত বছর ধরলা নদীর ভাঙনে পৌরসভার বাংলাবাড়ি এলাকা বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বাঁধ নির্মাণ করে ওই এলাকা রক্ষা করেছি। ইতিমধ্যে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করেছি। নতুন করে আরও ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এ কাজ শেষে হলে রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো হবে।

তিনি বলেন, ‘পৌরসভার ২৫ ভাগ এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। নিশ্চয়ই এটা আমার ব্যর্থতা। বঞ্চিত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে বহু চেষ্টা-তদবির করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’

পাটগ্রাম পৌরসভার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ধরলা নদীর ভাঙন পৌরবাসীর জন্য বড় সমস্যা। এ ব্যাপারে মেয়র বলেন, ‘ধরলা নদী পাটগ্রাম পৌরসভাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রতি বছর এ নদীর ভাঙনে মানুষজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে উদ্যোগ নেয়া এ কাজের ডিপিপি হয়ে গেছে। কিন্তু নানা কারণে এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্জ্য অপসারণে পর্যাপ্ত পরিবহন আছে। গাড়ি দিয়ে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। এ

ব্যাপারে অভিযোগ এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শহরে বিশিুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে জনস্বাস্থ্য অধিদফতরে ৫ বছর ধরে যোগাযোগ করছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’

পৌরসভা শতভাগ দুর্নীতি মুক্ত উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘আমার পৌরসভায় কোনো দুর্নীতি নেই। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে ঠিকাদারদের মাঝে কাজ বণ্টন করা হয়। সেবা নিতেও পৌরবাসীকে টাকা-পয়সা দিতে হয় না।’

খাল ও খাসজমি দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার কোনো খাল বা জমি দখলে নেই। বরং পৌর এলাকার সবচেয়ে বড় রসুলগঞ্জ হাটের জন্য ২ একর জমি অধিগ্রহণ করেছি। স্টেডিয়াম এলাকায় কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে খাস জমিতে বসবাস করছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘এখন ৮০ ভাগ মানুষ ট্যাক্স দিচ্ছেন। ট্যাক্সের বিষয়ে পৌরবাসীর আরও সচেতন হওয়া দরকার। কারণ ট্যাক্স না দিলে সেবা দেব কিভাবে।’ শিক্ষার মান উন্নয়নে পৌরসভার ভূমিকা প্রসঙ্গে শমসের আলী বলেন, ‘পৌর এলাকার শিশুদের পড়ালেখার জন্য একটি কিন্ডার গার্টেনসহ ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করে দিয়েছে। পাশাপাশি পৌর এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বারবার তাগাদা দিচ্ছি। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পৌরসভার কর্মী দিয়ে সহায়তা করছি।’

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, যৌন হয়রানি বন্ধের বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর। মাদক ও যৌন হয়ারনি নিয়ন্ত্রণে সমাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে পাড়া-মহল্লায় সভা, সমাবেশ ও সেমিনার করে যাচ্ছি। ফলে এসব অপরাধ কমে আসছে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×