না’গঞ্জে সমাবেশে শামীম ওসমান: আগুন নিয়ে খেলবেন না, পারবেন না

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান প্রশাসনের উদ্দেশে বলেছেন, “শুদ্ধি অভিযান চালান, প্রশাসনের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান দরকার।’ নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়ায় নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে শনিবার বিকালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ উদ্দেশে শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ মানেই আগুন নিয়ে খেলা। সুতরাং আগুন নিয়ে খেলবেন না, পারবেন না। জিয়া পারে নাই, খালেদা জিয়া পারে নাই, এরশাদও পারে নাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ হলে কাউকে ছাড় দেব না।’ আমি সেই শেখ হাসিনার কর্মী।”

‘রুখে দাঁড়াও স্বাধীনতাবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে’ স্লোগানে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল। দুপুর থেকে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, সোনারগাঁসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা শত শত মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিতে থাকেন। বিকাল সাড়ে ৩টা নাগাদ সমাবেশস্থল কানায় কানায় ভরে ওঠে। বহু নেতাকর্মী বাধ্য হয়ে আশপাশে অবস্থান নেন।

শামীম ওসমান বলেন, বাবা-মায়ের পর যদি কাউকে মানি, কারও জন্য জীবন দিতে পারি তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ’৭৫-এর পর আমরা যারা রাজনীতিতে এসেছি, সবাই শেখ হাসিনাকে ‘স্বপ্নের মা’, ‘রাজনৈতিক মা’ মনে করি। এ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে বারবার নারায়ণগঞ্জ ও বায়তুল আমান ভবনের কথা লেখা আছে।

এ নারায়ণগঞ্জ নিয়ে খেলতে দেয়া হবে না। ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় যে ভাষায় জবাব দেয়া দরকার সেই ভাষাতেই জবাব দেয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি জেলায় আওয়ামী লীগের দুর্গ ভাঙতে পারলে ষড়যন্ত্রকারীরা সুবিধা পাবেন। তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সবার প্রথমে। সে কারণেই ওই ষড়যন্ত্রকারীরা নারায়ণগঞ্জকেই বেছে নিয়েছে। কেউ কেউ সেই ফাঁদেও পা দিয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙতে।

শামীম ওসমান বলেন, গত কোরবানির ঈদে মাংস বিতরণের নামে একটি এনজিও রোহিঙ্গাদের মাঝে অস্ত্র বিতরণ করেছে। ড. কামাল, মির্জা ফখরুলরা বিদেশিদের সঙ্গে মিটিং করছেন। দেশের ভেতরে ও বাইরে বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটা যখন শুনলাম তখনই এ সভার প্রস্তুতি নিলাম। যদি শেখ হাসিনা ডাকেন ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে তাহলে আবারও একাত্তরের মতো মাঠে নামতে হবে। এজন্যই মিটিং ডাকা। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ ছাড়া কারও ওপর ভরসা করি না। আজকের সমাবেশ নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল- কার বিরুদ্ধে সমাবেশ। এমন কোনো কাজ শামীম ওসমান করবে না যাতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। কখন কোথায় কথা বলতে হয় আমি জানি।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে শামীম ওসমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারকে ডেকেছিলাম। আমার নির্বাচনী এলাকা সিদ্ধিরগঞ্জে একটি গণপিটুনির ঘটনায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে- যারা সবাই আওয়ামী লীগের সাচ্চা কর্মী ও ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ হল নারায়ণগঞ্জের গোপালগঞ্জ। পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন, নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করবেন না। তারপরও অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ অফিসার ষড়যন্ত্র করছে। অনেক পুলিশ অফিসার আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে নিউজ করতে কিছু কিছু সাংবাদিককে উৎসাহ দিচ্ছে।

শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বায়তুল আমানে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে, স্বাধীনতার সনদ লেখা হয়েছে। এ মিশনপাড়া এলাকাতেই এক বাড়িতে জামায়াতের কার্যালয় ছিল। এ বাড়ি থেকেই আমার এক ছোট বোনকে টাকা দেয়া হয়। এ বাড়িতেই গোলাম আযমরা এসে থাকত। কিছুদিন আগে দেখলাম একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জামায়াতের নেতা আলী আহসান মুজাহিদের স্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কার কার সম্পর্ক সেটা আছে।’ এ সময় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ইঙ্গিত করে সেলিম ওসমান বলেন, ‘মুজাহিদ যখন ফাঁসির দড়ির সামনে, তখন কে তার স্ত্রী-পরিবারের লোকজনদের সনদ দিয়েছে। কে নামমাত্র মূল্যে আদর্শ স্কুলের জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সময় হলে আবার নৌকার জন্য কাঁদবেন সেটা আর হবে না।’

আইভীকে ইঙ্গিত করে এ আওয়ামী লীগ নেতা আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেখলাম পত্রিকায় নারায়াণগঞ্জে রাস্তায় কিছু হকার বসেছিল বলে আপনি পুলিশ ও লোক পাঠিয়ে তাদের সবকিছু রাস্তায় ফেলে দিলেন। এ সময় একজন সাংবাদিক মোবাইলে ছবি তুলতে গেলে তার মোবাইলটিও নাকি ভেঙে ফেলেছেন। এসব করবেন না, মানুষের অভিশাপ আপনাকে ছাড়বে না। গরিবের পেটে লাথি মারবেন না। তিনি বলেন, তারা গরিব মানুষ হকারি করে খায়। কাজ করে খাবে না তাহলে কি ইয়াবা বেচবে? আগে তাদের জন্য অন্য কোথাও ব্যবস্থা করেন, তারপর উচ্ছেদ করেন। কারও পেটে লাথি মারবেন না।

সমাবেশে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি খোকন সাহা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, শারমিন আহমেদ বিন্নি, সাইফুদ্দিন দুলাল, মহিলা লীগের সভানেত্রী অধ্যাপিকা শিরিন বেগম প্রমুখ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×