যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

রাজনৈতিক বাধায় অনেক কাজই করতে পারছি না: নবীনগর পৌরসভার মেয়র

  মোস্তাক আহাম্মদ উজ্জ্বল, নবীনগর ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাঈন উদ্দিন মাইনু
মাঈন উদ্দিন মাইনু। ছবি: যুগান্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালে। আয়তন ১৭ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভাটিতে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। মোট ভোটার ৩৪ হাজার ২৭৯ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৮ হাজার ১৫২ জন এবং নারী ভোটার ১৬ হাজার ১২৭ জন। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন মাইনু মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে তিনি পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে কিছু সমস্যার সমাধান তিনি করছেন।

তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। শহরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ সমস্যার সমাধান তিনি করতে পারেননি। শহরের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

শহরের সব জায়গায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। এসব কারণে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তা নেই।

দায়িত্ব পালনে নিজের সফলতা ও ব্যর্থতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন পৌর মেয়র মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন মাইনু। তিনি বলেন, ‘নবীনগর পৌরসভাকে একটি ডিজিটাল আধুনিক মডেল পৌরসভা গঠনে স্বপ্ন দেখি।

নির্বাচিত হলে কেমন পৌরসভা গঠন করব তার একটি মাস্টারপ্লান জনগণের সামনে তুলে ধরেছিলাম। সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। পৌর সদর অর্থাৎ মূল শহরের সঙ্গে ৯টি ওয়ার্ডে অবহেলিত গ্রামগুলোর সড়ক যোগাযোগ স্থাপন, রাস্তায় সোডিয়াম বাতি লাগানো, ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি।

নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতির প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন করেছি। বাকি কাজ আগামী নির্বাচনের আগেই শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।’ শহরের বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য অপসারণে নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে মেয়র বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে রাখায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ মলয়া-আবর্জনা ফেলার জন্য ইতিমধ্যে ১৪ বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য পাম্প বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া চারটি এলাকায় পানি সরবরাহ কেন্দ্র স্থাপনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পৌরসভা এলাকা আগে উপজেলা কিংবা ইউনিয়নের আওতায় ছিল। উন্নয়ন কাজ পরিচালনার জন্য কোন মাস্টার প্ল্যানও ছিল না। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর নতুন করে কাজ করতে হচ্ছে।

এখনও পৌরসভা ভবন, পৌর পার্ক, পৌর অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এ কাজগুলো না হওয়ার কারণ হলো রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা।’

মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য ও মাদক ব্যবসা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন চলেছে। এ কারণে মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য কমেছে। ৮নং ওয়ার্ডে চোলাইমদ উৎপাদন হতো। যেসব পরিবার এসবের সঙ্গে যুক্ত ছিল তারা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছে।

বিশেষ অনুদান দিয়ে তাদের বিভিন্ন কাজে পুনর্বাসন করা হয়েছে।’ স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান্নোনয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

পৌরসভার উদ্যোগে ঋষিপাড়ায় ঝরে পড়া শিশুরা এখন পড়ালেখা করছে। তাদের স্কুলের ড্রেসসহ সব কিছুই দেয়া হচ্ছে। পৌরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ কারণে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘পৌরসভা এখন দুর্নীতিমুক্ত। এখানে দুর্নীতিবাজদের কোনো স্থান নেই। দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

মেয়র বলেন, ‘সীমাবদ্ধতা থাকার পরও অনেক কাজ করেছি; যা বাকি আছে তা আগামী নির্বাচনের আগে সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়নের ভার পৌরবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম।’

উল্লেখ্য, কাউন্সিলরদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি সমর্থিত এই মেয়রকে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িক বহিষ্কার করে কিন্তু হাইকোর্ট ওই বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেন।

এ বিষয়ে মেয়র মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন মাইনু বলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত মেয়র হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছিল।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×