দেহে অ্যালকোহলের সন্ধান

শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত

স্বামী বনি ও হোটেল কর্মীদের দুবাই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বলিউডের সুপার হিরোইন শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও বাড়ল। দুবাই পুলিশের তরফে ফরেনসিক রিপোর্ট উল্লেখ করে সোমবার বিকালে ডেথ সার্টিফিকেটে জানানো হয়েছে, বেসামাল হয়ে বাথটবে পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। দুবাইয়ের ‘গালফ নিউজ’ দাবি করেছে, টক্সিক রিপোর্টে শ্রীদেবীর দেহে অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। উপমহাদেশের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর মৃত্যুরহস্য আরও ঘনীভূত হওয়ার পরই শ্রীদেবীর শেষ দু’দিনের ফোনকলের লিস্ট পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করেছে দুবাই পুলিশ। কারণ, বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া অভিনেত্রী একাই হোটেলের রুমে কার্যত রুদ্ধদ্বার অবস্থায় ছিলেন। ছোট মেয়ে খুশিকে নিয়ে দু’দিনের জন্য মুম্বাই ফিরে এসেছিলেন স্বামী বনি কাপুর। ফের যখন তিনি হোটেলে ফিরে যান, তার আধা ঘণ্টার মধ্যেই শ্রীদেবী মারা যান। আর প্রশ্ন এখানেই, কী এমন হল যে, বনি ঘরে ঢোকার পরেই বাথটবে ডুবে গেলেন, অথচ কেউ টের পেল না? রহস্য আরও বাড়ছে।

ডেথ সার্টিফিকেটে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘোষণার পরেই পুলিশ শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুর ও অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চাইছে, কেন, কীভাবে স্রেফ একটা বাথটবে ডুবে মৃত্যু হল শ্রীদেবীর। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, শ্রীদেবী অতিরিক্ত মদ্যপ থাকায় শরীরে অন্য কোনো রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় বাথটবে পড়ে গিয়ে উঠতে না পেরে ডুবে মারা গেলেন কিনা। সোমবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীদেবীর দেহ দুবাই থেকে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়নি। কারণ, দেহ মর্গে রেখেই দফায় দফায় স্বামী বনি কাপুর ও হোটেলের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল দুবাই পুলিশ।

শ্রীদেবীর শেষবিদায়ের সাক্ষী থাকতে সোমবার সকাল থেকে জনসুনামি আছড়ে পড়েছিল অনিল কাপুরের বাড়ির সামনে। শ্রী-ভক্তদের সামাল দিতে নাজেহাল হয়ে গেছে মুম্বাই পুলিশ। শ্রীদেবীকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে অনিলের বাড়িতে একে একে পৌঁছেছেন বলিউড সেলিব্রেটিরা। সবাই আশা করছিলেন, পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ২টার মধ্যেই দুবাই থেকে মুম্বাইয়ের এই বাড়িতে এসে পৌঁছবে শ্রীদেবীর মরদেহ। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে এদিন সকালে দুবাই পুলিশের তরফে জানানো হয়, শ্রীর ময়নাতদন্ত ও ডেথ সার্টিফিকেটের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এবং মৃত্যুর কারণ না জানা পর্যন্ত অভিনেত্রীর দেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে না। ভারতীয় সময় সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ ময়নাতদন্ত হয়। তাতে মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলেই প্রথমে জানানো হয়। কিন্তু এরপর ফরেন্সিক বিভাগে শ্রীর রক্ত ও বিভিন্ন অঙ্গের টক্সিকোলজি টেস্ট শুরু হয়। বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে কিনা তা জানতেই এই টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেয় দুবাই পুলিশ ও গোয়েন্দারা। টক্সিক রিপোর্টেই তার রক্তে অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে দুবাইয়ের ‘গালফ নিউজ’ জানিয়েছে। টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনি কার্যকলাপ শেষে প্রথামাফিক দুবাইয়ের ভারতীয় দূতাবাস শ্রীদেবীর পাসপোর্ট বাতিল করার পরই দেহ মুম্বাইয়ে নিয়ে আসার কথা।

দুবাইয়ে একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে শনিবার রাতে আচমকা মৃত্যু হয় বলিউডের চাঁদনীর। জুমেইরা এমিরেটস টাওয়ার হোটেলের শৌচাগারের বাথটবে ৫৪ বছরের শ্রীর হার্টঅ্যাটাক হয় বলে জানান তার দেওর অভিনেতা সঞ্জয় কাপুর। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। শ্রীর দেহ দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রোববার বিকালেই দুবাই যান অনিল আম্বানির চার্টার্ড বিমান। প্রথমে কথা ছিল, রোববার রাতে মুম্বাই পৌঁছবে দেহ। শেষকৃত্য হবে সোমবার সকালে। কিন্তু দুবাইয়ে ময়নাতদন্তের অফিস বন্ধ থাকায় রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। এদিন সকালেই সেই রিপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে একগুচ্ছ প্রশ্ন উঠে আসার পরই তদন্ত শুরু করে আরও কঠোরভাবে টক্সিকোলজি টেস্ট করার নির্দেশ দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে শ্রীদেবীর হোটেলের ঘর সিল করে দেয়া হয়।

কোথায় রহস্য : জানা যায়, বিয়েবাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ার পর ২১ ফেব্রুয়ারি মুম্বাই ফিরে আসেন শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুর ও তার ছোট মেয়ে খুশি। এরপর টানা দু’দিন হোটেলের ঘরেই নিজেকে বন্দি করে রেখেছিলেন শ্রী। ২৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শ্রীর মৃত্যুর ঠিক আধা ঘণ্টা আগে তাকে সারপ্রাইজ ডিনারে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুম্বাই থেকে ফের দুবাইয়ের হোটেলে ফিরে যান প্রযোজক স্বামী বনি। বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ বনি যেতেই ঘরের দরজা খুলে দেন শ্রী। এরপর ১৫ মিনিট স্বামী-স্ত্রী মিলে গল্প করেন। তারপর ডিনারে যাওয়ার জন্য বাথরুমে স্নান করতে যান শ্রীদেবী। প্রায় আধা ঘণ্টা পরেও শ্রী শৌচাগার থেকে না বেরুনোয় দরজায় ধাক্কা দেন বনি। এরপর বাথরুমের দরজা ভেঙে শৌচাগারে ঢুকে বাথটবে অচৈতন্য অবস্থায় শ্রীদেবীকে দেখতে পান। এক আত্মীয়ের সাহায্যে শ্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান তিনি। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয় শ্রীদেবীর। কিন্তু পুলিশে খবর দেয়া হয় রাত ৯ টায়। কেন এত পরে মৃত্যুর খরব পুলিশের কাছে জানাল কাপুর পরিবার। কেনইবা একা দু’দিন দুবাইয়ের হোটেলে ছিলেন শ্রীদেবী? মৃত্যুর আগে বনি কাপুরের সঙ্গে কি কোনো বাকবিতণ্ডা হয়েছিল শ্রীর? নাকি নিজের শরীরে নানা সার্জারির ধকল সহ্য করতে না পেরে বা বড় মেয়ে জাহ্নবীর ডেবিউ ছবি নিয়ে টেনশনের কারণে আচমকা হার্টঅ্যাটাকেই অকালে ঢলে যেতে হল রূপের রানীকে? এমনই অজস প্রশ্ন মনে নিয়েই আরব সাগরের তীরে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ‘চাঁদনী’কে শেষবারের মতো দেখতে রাত পর্যন্ত অধীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন হাজার কয়েক ভক্ত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter