ধুম বিক্রি, রাতে বৃষ্টি

নীতিমালা ভঙ্গে দশ প্রকাশনীকে শোকজ

  হক ফারুক আহমেদ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজকের দিন নিয়ে গ্রন্থমেলার বাকি আছে আর মাত্র দুই দিন। কিন্তু তার আগেই প্রকৃতির রোষানলে পড়ল মেলা। বৃষ্টি ভিজিয়ে দিল সবকিছু। প্রকাশকরা যা নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকেন। রোববার মাঝরাতে দমকা হাওয়ার পর বৃষ্টি। তাতে অনেক প্যাভিলিয়ন ও স্টলের বই ভিজে একাকার। বেশিরভাগ প্রকাশক সতর্ক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলে ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে সোমবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে আবার দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়, যাতে ভিজে যায় বেশকিছু বই। এদিন শুরু থেকেই মেলায় ছিল বই বিক্রির ধুম। এখন যারা আসছেন, তাদের সবাই বইয়ের ক্রেতা। আর তাই বইয়ের এ বিক্রি চলমান থাকবে মেলার শেষ দিনটি পর্যন্ত। প্রকাশকরাও তা-ই জানালেন। এদিকে মেলার ২৬তম দিনে নীতিমালা ভঙ্গ করায় ১০টি প্রকাশনাকে শোকজ করেছে বাংলা একাডেমি।

সোমবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করতেই দেখা গেল বিভিন্ন স্টলে বৃষ্টিতে ভেজা বইগুলো আলাদা করা হচ্ছে। অনেক স্টলের সামনে আবার ভেজা বই রোদে শুকাতে দেয়া হয়েছে। বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভিজেছে সময় প্রকাশন, প্রথমা প্রকাশন ও পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের বই। প্রথমার স্টল ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইউনূস যুগান্তরকে বলেন, আমাদের প্রায় ২৫০টি বই ভিজে গেছে, বেশিরভাগই বেশি দামের। সময় প্রকাশনের এক বিক্রয়কর্মী জানালেন, তাদের প্রায় ৪০০টি বই ভিজে গেছে। পাঞ্জেরীর প্রায় ৩০০টি বই ভিজেছে। এ ছাড়া বৃষ্টিতে বই ভিজেছে সংবেদ, ইন্তামিন, নবযুগ, গ্রন্থকুটির, সন্দেশ, আফসার ব্রাদার্স, প্রিয়মুখ, জার্নিম্যান বুকস ও সালাউদ্দিন বই ঘরসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনার। এসব প্রকাশনার প্রত্যেকের ২০ থেকে ১০০টির মতো বই বৃষ্টিতে ভিজেছে।

রোববার রাতে বৃষ্টি হলেও সোমবার ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল দিন। তাই বৃষ্টির প্রভাব মেলায় সেভাবে পড়েনি। যেসব প্রকাশনার বই বৃষ্টিতে ভিজেছে, তারাও মেলা শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ভেজা বই সরিয়ে স্টল গুছিয়ে ফেলে। এদিন শুরু থেকেই বইয়ের বিকিকিনি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্রির এ ধারা বজায় ছিল মেলার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। কিন্তু রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎই শুরু হয় দমকা হাওয়া। এ সময় দ্রুত সব প্যাভিলিয়ন ও স্টলের কর্মীরা বই গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। যে যার মতো বৃষ্টির হাত থেকে বইগুলো রক্ষার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সব প্রকাশনীর শেষরক্ষা হয়নি। অনেক বই বৃষ্টিতে ভিজে যায়। টানা ২০ মিনিটের বৃষ্টিতে মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়।

দশ প্রকাশনীকে একাডেমির শোকজ : এদিকে মেলার নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে ১০ প্রকাশনীকে শোকজ করে চিঠি দিয়েছে এর আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। যেসব প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে তারা হল- চলন্তিকা বইঘর, আলীগড় লাইব্রেরি, দোয়েল, ঘাষফড়িং, হলি পাবলিকেশন্স, সুপ্ত পাবলিকেশন্স, লাবণী, চিরন্তন প্রকাশ, সিসিবি ফাউন্ডেশন ও রাবেয়া বুক হাউস।

এ বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ লেখা, পাইরেট বই, এক প্রকাশনীর বই আরেক প্রকাশনীতে বিক্রিসহ মেলার নীতিমালার ৬.১, ৬.২, ১৩.৩ ও ১৩.১৪ ভঙ্গের দায়ে তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে তাদের চিঠির জবাব দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, চিঠির জবাব সন্তোষজনক না হলে আগামীবারের মেলায় তাদের স্টল বরাদ্দ দেয়া হবে না।

তবে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনীর মেলা পর্যবেক্ষণ কমিটি মেলায় আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনীর সন্ধান পেয়েছে, যারা ভারতীয় লেখকদের বই, মটু পাতলু, ডোরেমন কার্টুনের বই বিক্রি করছে। কমিটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শুভ্রপ্রকাশ, সুলেখা, চিলড্রেন বুকস এ ধরনের বই বিক্রি করছে। তিনি আরও বলেন, আদি প্রকাশনী মেলায় নির্ধারিত কমিশন থেকে বেশি কমিশনে বই বিক্রি করছে।

এসব বিষয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, অনেক স্টলে ভারতীয় লেখকের বই, এক প্রকাশনার বই আরেক প্রকাশনায় বিক্রি, পাইরেটেড বই বিক্রি করছে। প্রতিবারই বাংলা একাডেমি অভিযান চালিয়ে বেশকিছু স্টলকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়। কিন্তু পরে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ বাংলা একাডেমি সেভাবে নেয় না। তাই তাদের এ অভিযানকে অনেকটা ব্যর্থ বলেই মত দেন অন্যপ্রকাশের এ প্রধান নির্বাহী।

শওকত আলীর ‘অবিস্মৃত স্মৃতি’ : মেলায় এসেছে সদ্য প্রয়াত কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর আÍজীবনী ‘অবিস্মৃত স্মৃতি’। বইটি প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ। এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী জহিরুল আবেদীন জুয়েল জানান, বইটি শওকত আলী নিজে লেখা শুরু করলেও অসুস্থতার কারণে পরবর্তীকালে লেখক শিবিরের অন্যতম কর্মী আবদুস সাত্তারকে অনুলিখনের দায়িত্ব দেন। ১৯০ পৃষ্ঠার এ বইটির মূল্য ৩০০ টাকা।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সোমবার মেলার ২৬তম দিনে ১১৭টি নতুন বই প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ এনেছে শওকত আলীর ‘অবিস্মৃত স্মৃতি’, অবসর এনেছে বরেন চক্রবর্তীর ‘পেইন্টিংয়ের ক্রমবিকাশ ও আমার দেখা সেরা দশ’, বাংলা প্রকাশ এনেছে কমলেশ রায়ের সায়েন্স ফিকশন ‘কাঞ্চনবন’, বাংলা গবেষণা প্রকাশ এনেছে কাজী সুলতানা জাহান রুবীর ‘স্মৃতির আয়নায়’। বইটির মূল্য ২০০ টাকা। র‌্যামন পাবলিশার্স এনেছে সাজ্জাদ আলম খানের ‘অর্থশাস্ত্র নয় সামাজিক অর্থনীতি’, বিভাস এনেছে তানভীর জাহান চৌধুরীর ‘ভালোবাসার প্রতিশোধ ভালোবাসাই নেবে’, অনন্যা প্রকাশনী এনেছে প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের ‘ইউরোপের সোনালি দিনগুলি’, এপিপিএল এনছে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত অবিন্তা কবিরের ‘অনন্য নক্ষত্র’, অনন্যা এনেছে ফকির আলমগীরের ‘স্মৃতিকাব্যে প্রিয়মুখ’, বাতিঘর এনেছে প্রান্ত পলাশের ‘চিয়ার্স, ক্যামেলিয়া’, ঐতিহ্য এনেছে বিধরু ভিক্ষুর ‘মহামানব গৌতম বুদ্ধ’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে পিয়াস মজিদ সম্পাদিত ‘অগ্রন্থিত আবদুল মান্নান সৈয়দ (২য় খণ্ড)’, ন্যাশনাল পাবলিকেশন্স এনেছে রামেন্দু মজুমদারের ‘মুক্তিযুদ্ধের ১০ নাটক’, অন্যপ্রকাশ এনেছে পীর হাবিবুর রহমানের ‘জেনারেলের কালো সুন্দরী’ (অন্যপ্রকাশ)।

মেলামঞ্চের আয়োজন : সোমবার বিকালে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ছিল ‘বিজয় সরকার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহিদা খাতুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মো. শাহিনুর রহমান, স্বরোচিষ সরকার এবং আকরাম শাহীদ চুন্নু। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল স্বপন গুহের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রূপান্তর’-এর পরিবেশনা।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.