মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বাড়ল হজযাত্রার খরচ

নিবন্ধনে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাড়ল হজযাত্রার খরচ
ফাইল ফটো

সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার খরচ গতবারের চেয়ে জনপ্রতি ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা বেড়েছে। এবার প্যাকেজ-১ এর আওতায় হজে যেতে খরচ হবে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা। প্যাকেজ-২ এর আওতায় ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা খরচ হবে, যা গত বছর ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা নির্ধারিত ছিল।

উল্লিখিত বিষয় চূড়ান্ত করে ‘জাতীয় হজ ও ওমরা নীতি-২০১৮’ এবং ‘হজ প্যাকেজ-২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

এছাড়া বৈঠকে শিশু সংশোধন আইন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সংশোধন আইন, বস্ত্র আইন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। পাশাপাশি সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিড ওয়াইফ পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কোটার কোনো পদে যোগ্য প্রার্থীর অভাবে তা পূরণ করা না গেলে, সেগুলো মেধা তালিকা থেকে পূরণ করার জন্য ওই ব্যবস্থা এককালীন (একবারের জন্য) শিথিল করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনুমোদিত হজ প্যাকেজ অনুযায়ী সরকারিভাবে গতবারের চেয়ে এবার এক নম্বর প্যাকেজে ১৬ হাজার ৪২১ টাকা ও দুই নম্বর প্যাকেজে ১২ হাজার চার টাকা বেড়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিমান ভাড়াসহ অন্য সাধারণ খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৭৭ টাকা। এর সঙ্গে হজ এজেন্সিগুলো অন্য সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে বাকি খরচ নির্ধারণ করবে।

সর্বনিম্ম খরচ সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ ২-এর কম হতে পারবে না। অর্থাৎ, বেসরকারি ব্যবস্থাপনারও সর্বনিু খরচ ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকার কম হওয়া যাবে না। এছাড়া সুবিধা অনুযায়ী হজে যাওয়ার টাকা নির্ধারণ হবে। কেউ যদি ভালো হোটেলে থাকেন, তাহলে খরচ স্বাভাবিকভাবে বেশি হবে।

জাতীয় হজ ও ওমরা নীতিতে এবার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘প্রাক-নিবন্ধন করতে এনআইডি থাকা বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রবাসীরা পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রাক-নিবন্ধন করেও যারা চূড়ান্ত নিবন্ধন করবেন না তাদের নিবন্ধনের মেয়াদ আরও এক বছর থাকবে। তবে পরপর ২ বছর চূড়ান্ত নিবন্ধন না করলে ধরে নেয়া হবে তিনি হজে যেতে আগ্রহী নন।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ আগস্ট হজ পালিত হবে। এবার হজে যেতে চাইলে অবশ্যই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) লাগবে। এবার থেকে নিবন্ধনকারীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে না। কারণ পাসপোর্ট করার সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। ৪৫ জন হাজীর টিমে একজন করে গাইড থাকবেন। কোনো কারণে নিবন্ধিত কেউ হজে যেতে না পারলে প্রাক-নিবন্ধন করা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ শতকরা চারজনকে প্রতিস্থাপন করার সুযোগ পাবে এজেন্সিগুলো। কোনোভাবেই এর বেশি হজযাত্রী পাঠানোর সুযোগ পাবে না তারা। ১০ শাওয়াল (২৫ জুন) তারিখের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছুদের অফিসিয়াল কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

হজযাত্রীদের নিজস্ব অর্থায়নে ট্রলিব্যাগ কিনতে হবে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, এ বছর প্রত্যেক হজযাত্রী নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহনের জন্য ট্রলিব্যাগ নিজেরাই কিনবেন। আগে এজেন্সিগুলো ট্রলি কিনে দিত। কিন্তু এক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন হজযাত্রীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী ট্রলি কিনতে পারবেন।

প্রত্যেক এজেন্সি সর্বনিম্ন ১৫০ জন ও সর্বোচ্চ ৩০০ জনকে হজের জন্য নিয়ে যেতে পারবে। প্রতি ফ্লাইটে তিনজন মোয়াল্লেম ও তিনটি এজেন্সির হজযাত্রীরা যেতে পারবেন। প্রত্যেক হজযাত্রী তার কোরবানির পশু কেনার জন্য ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) কুপন কিনতে পারবেন। এ বছরের নীতিমালা অনুযায়ী, হজযাত্রীদের বাসস্থান মক্কা থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি হলে এজেন্সিকেই গাড়ি দিতে হবে। ২০১৫, ‘১৬ ও ‘১৭ সালে যারা হজ করেছেন এবং যারা হজে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা আবার যেতে চাইলে অতিরিক্ত ২১ রিয়াল দিতে হবে। জেট ফুয়েল ও ডলারের মূল্য বাড়ায় এবার বিমানভাড়া ৭৫ ডলার বেড়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সৌদি আরবের সঙ্গে হজচুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার জন।

শিশু আইনের বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, আজকের সভায় শিশু সংশোধন আইন ২০১৮-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ সংশোধন অনুযায়ী সব জেলা শহরে শিশু আদালত গঠন করা হবে। ২০১৩ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করা হয়। এখানে একটু সমস্যা হচ্ছিল, শিশু আদালত গঠন নিয়ে ক্রাইসিস তৈরি হয়েছে। এ ক্রাইসিস দূর করার জন্য এ সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে আদালতের এখতিয়ারকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যাতে কোনো অবস্থাতেই মামলা থেমে না থাকে বা কেউ যেন বিলম্বিত বিচার ব্যবস্থার শিকার না হয়। প্রত্যেক জেলা শহরে শিশু আদালত নামে এক বা একাধিক আদালত থাকবে। বর্তমানে এ আদালত আলাদাভাবে নেই, এ আইন সংশোধন হওয়ার পর থাকবে। আইনের সংশোধনী কার্যকর হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীন গঠিত সব নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু আদালত হিসেবে গণ্য হবেন বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, তবে কোনো জেলায় এমন আদালত না থাকলে ওই জেলার জেলা ও দায়রা জজ শিশু আদালত হিসেবে গণ্য হবেন।

কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি ২০০৪ সালের আইন, সংশোধনীগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বিশেষে সবাই কর্মচারী নামে অবহিত হবেন, এটা একটা সংশোধনী। এখানে ক্ষমতা অর্পণের একটি বিষয় এসেছে। চাঁদার সিডিউলে চাঁদা দেয়া হয় সেটা যাতে ওনারা বোর্ডের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সময়ে সময়ে হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারেন তার ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে, এটাই মূলত মূল প্রস্তাব। কল্যাণ তহবিলের মাসিক চাঁদা দেয়া হতো মূল বেতনের এক শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। এখন সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যৌথ বীমার সর্বোচ্চ মাসিক প্রিমিয়াম ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে মাসিক কল্যাণ ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা, সাধারণ চিকিৎসা অনুদান সর্বোচ্চ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা, দাফনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা এবং যৌথ বীমার এককালীন অনুদান এক লাখ থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলেও জানান শফিউল আলম।

বস্ত্র আইন প্রসঙ্গে শফিউল আলম বলেন, আইন অনুযায়ী বস্ত্র অধিদফতরের মহাপরিচালক নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন করবেন। সরকার প্রয়োজনে বিধির মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও শর্তে বস্ত্র শিল্পকে প্রণোদনা দিতে পারবে আইনে সেই বিধান রাখা হয়েছে। গত বছর বস্ত্র খাতের রফতানি আয় মোট রফতানি আয়ের ৮৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ ছিল বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন প্রণয়নের পর কয়েকটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়। সামরিক শাসনামলে কিছু সংশোধনী হওয়ায় আদালতের নির্দেশনায় আইনটিকে নতুন করে বাংলায় করা হচ্ছে। সামরিক শাসনামলে প্রণীত আইনের মধ্যে যেগুলোর প্রয়োজন আছে তা নতুন করে এবং বাংলায় রূপান্তরে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×