নিবন্ধন ভবনে বালাম বই চুরি

ভেতর-বাইরে সক্রিয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট

সন্দেহভাজন ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ * বেশ কয়েকটি সিসিটিভি বন্ধ ও মুখ ঘুরিয়ে রাখা হয়

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স থেকে ফের চুরি হয়ে গেছে জমির দলিল সংক্রান্ত মূল্যবান বই (বালাম বই)। এ ঘটনায় রেজিস্ট্রার অফিসের ভেতর ও বাইরের শক্তিশালী একটি চক্র জড়িত বলে মনে করছে পুলিশ। এর আগেও এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির নেপথ্য নায়করা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সবশেষ চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয় জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে সন্দেহভাজন হিসেবে ইমরান ও রুবেল নামের দুই জনসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। মূলহোতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। চুরি যাওয়া বালাম বই উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে।

তবে চুরির ঘটনায় ভবনের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দায়ি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে নৈশ প্রহরীর সঙ্গে পুলিশ পাহারার দাবির সঙ্গে সকল বালাম বই অটোমেশনের মাধ্যমে সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, শনিবার রাতে ওই ভবনে প্রবেশ করে ১৫-২০টির মতো বালাম বই চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে রোববার বিষয়টি টের পেয়ে রেকর্ড রুম ইনচার্জ সাব-রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল করিম তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাকে অবহিত করেন। সোমবার রেকর্ড কিপার জাকিয়া আলম অজ্ঞাতদের আসামি করে থানা মামলা করেন।

কথা হয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুজ্জামান রাশেদের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, চুরির ঘটনায় ভেতরের লোকজন অব্যশই জড়িত। তাছাড়া শত শত বইয়ের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু বালাম বই চুরির কথা নয়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে কর্মরত দু’জনসহ ছয়কে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কারা কি-উদ্দেশ্যে বালাম বই চুরি করছে সেটা জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কোথায় কী রয়েছে, সেসব তথ্য ভেতরের লোকেরাই পাচার করেছে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক যারা কাজ করছেন তাদের জড়িত থাকার কথাও ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, অস্পষ্ট হলেও ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজ দেখে জড়িতদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কথা হয় রেকর্ড রুমের গেট কিপার জাকিয়া আলমের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, অফিসের সিদ্ধান্তে থানায় মামলা করেছি। মামলায় দুটি বালাম বই চুরি হয়েছে মর্মে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক কোনো বইটি চুরি হয়েছে, তা বের করা যায়নি এখনও। তবে মামলায় যে দুটি বইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো খুঁজে পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এর আগে এ ভবন থেকেই ১৮টি বালাম বই চুরি হয়েছিল। তার হদিস আজও মেলেনি। ওই ঘটনায় একজনকে বরখাস্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপরও বন্ধ হচ্ছে না চুরি। সবশেষ চুরির সময় সিসিটিভি বন্ধ ও বেশ কয়েকটি ক্যামেরা মুখ ঘুরিয়ে রাখা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রবেশ গেট থেকে রেকর্ড রুম পর্যন্ত চারটি স্তর রয়েছে। চুরি করার জন্য দুর্বৃত্তদের চারটি কলাপসিবল গেটই পেরুতে হয়েছে। এছাড়া চার তলা ভবনের প্রতি তলায় সিসিটিভি রয়েছে। ঢাকা জেলা রেকর্ড রুম নজরদারির জন্য ১৫২টি ক্যামেরা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, চুরির আগে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি বন্ধ ছিল। তবে মূল গেটের সিসিটিভি ফুটেজে দুই ব্যক্তিকে দুটি বালাম বই নিয়ে বের হতে দেখা যায়।

চুরির ঘটনার পর সোমবার ঢাকা রেজিস্ট্রার কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, সচিবসহ পদস্থ তিন কর্মকর্তা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও ভবনের নিরাপত্তার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন। নিরাপত্তা জোরদারে সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার দীপক কুমার যুগান্তরকে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে আরেকবার বালাম বই চুরি হয়েছিল। সেগুলো উদ্ধার হয়নি। কোনো রেকর্ড নষ্ট করে দিতেই বালাম বই চুরি করা হয়। এটা অনেকের বড় ক্ষতি হয়। বালাম বই চুরি রোধে ভবনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বালাম বই সংরক্ষণ ডিজিটালাইজ করা দরকার। তিনি বলেন, ১৭৯৬ সাল থেকে প্রায় ১৫ লাখ বালাম বই রাখা আছে এখানে। এগুলো স্ক্যান করে অটোমেশনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা উচিত। যাতে চুরি ও অন্য কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেলেও কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আন্তরিক রয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter