যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি:: ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র

  আসাদুল ইসলাম বাবুল, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মো. মাসুদুল হক মাসুদ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৪ সালের ২৩ মার্চ। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে লৌহজং নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা পৌরসভাটির আয়তন ১০.৯৫ বর্গকিলোমিটার।

জনসংখ্যা ২৮ হাজার ৭শ’ ৮ জন। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৩শ’ ৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ১শ’ ৮৪ জন ও মহিলা ভোটার ১০ হাজার ২শ’।

এই পৌরসভায় প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. আমিরুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ।

বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা, মো. মাসুদুল হক মাসুদ। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

দায়িত্ব পালনকালে বর্তমান মেয়র উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানকার অধিবাসী প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

ভাঙাচোরা রাস্তা, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপ্রশস্ত রাস্তা, যানজট, ডাস্টবিন সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত পৌরসভাটি। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুছ সাত্তারের অভিযোগ, ‘পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না পৌরবাসী। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে অল্প বৃষ্টি হলেই বাসাবাড়িতে পানি ওঠে। তলিয়ে যায় ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের সড়কটি। ড্রেনের দূষিত পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে। পৌরসভার প্রায় ৪০ ভাগ রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।’

উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামছুল হক তালুকদার ছানু বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষ সিঅ্যান্ডবি খাদে বাসা-বাড়ির আবর্জনা ফেলে। ওই আবর্জনার দুর্গন্ধে পথচারীদের মুখে রুমাল দিয়ে চলতে হয়। ১নং ওয়ার্ডের পলশিয়া-টেপিবাড়ি, ২নং ওয়ার্ডের কুত্বুপুর- বেতুয়া-সাতআনি পাড়া, ৩নং ওয়ার্ডের ঘোনা বেতুয়া-বাহাদিপুর এলাকায় মানুষদের যে প্রতিশ্রুতি মেয়র দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এসব এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে বিশেষ বরাদ্দ এনে গভীর খাদ ভরাট করে একটি বাসস্ট্যান্ড ও একটি ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ করেছি। পৌর এলাকার জন্য আলাদা বিদ্যুতের লাইনের ব্যবস্থা করেছি। বামনহাটা বাজার হতে শুকুরের বাড়ির রাস্তা পাকা, ভূঞাপুর বাজারের শামছুল হক তালুকদারের বাসার নিকট হতে বেলায়েতের দোকান হয়ে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পর্যন্ত ড্রেনসহ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করেছি। দায়িত্ব নিয়ে এ পর্যন্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বেশ কয়েকটি রাস্তা নির্মাণ করেছি। ফসলান্দি হালিম চেয়ারম্যানের বাসার নিকট হতে কেন্দ্রীয় মসজিদ ও সোনালী ব্যাংক হয়ে বছির পুলিশের বাসা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তা পাকা করেছি। এতে ৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি প্রকল্পের ১শ’ ফুট কাজ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তা বন্ধ রয়েছে। অথচ যারা হাইকোর্টে রিট করেছে তাদের কোনো বৈধতা নেই। কারণ তাদের হোল্ডিং নম্বর নেই। পৌরকরও দেন না।’

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘ভূঞাপুর বাজার বাইপাস রোড করতে পারিনি। মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস পাওয়া গেছে। আশা করি শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করতে পারব। এই রোডটি হলে যানজট সমস্যার সমাধান হবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘পৌর এলাকায় কোনো বেদখলকৃত খাল নেই। ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত হবে।’

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে পৌরসভার পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে জনসচেতনতামূলক সভা করে যাচ্ছি।’

স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ইবরাহীম খাঁ কলেজকে সরকারি করে দিয়েছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে অন্যান্য উপজেলার চেয়ে ভূঞাপুর পৌরসভা অগ্রগামী। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মশক নিধনে পৌরবাসীকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’

মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, ‘নদী ভাঙন এলাকা হওয়ায় রাস্তা, ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘পৌরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার মনে হয় পৌরবাসী আমাদের সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট।’

আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা, হলে পৌরবাসীকে কী প্রতিশ্রুতি দেবেন- এই প্রশ্নের জবাবে মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, ‘জনগণের স্বার্থেই কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ চাইলে আর নেত্রী মনোনয়ন দিলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেব। আমার লক্ষ্য একটি আধুনিক ও ডিজিটাল পৌরসভা গড়ে তোলা। আগামীতে জয়ী হলে এমন একটি পৌরসভাই জনগণকে উপহার দেব।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×