যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র

একটি আধুনিক শিশুপার্ক গড়তে চাই

  তারিম আহমেদ ইমন, অভয়নগর (যশোর) ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটি আধুনিক শিশুপার্ক গড়তে চাই
নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র সুশান্ত কুমার দাস শান্ত, ছবি: যুগান্তর

যশোরের শিল্প ও বাণিজ্য শহর হল নওয়াপাড়া। এই শহরকে কেন্দ্র করে ১৯৯৬ সালে নওয়াপাড়া পৌরসভার যাত্রা শুরু। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ২৫ দশমিক ১২ বর্গকিলোমিটার।

এখনে প্রায় এক লাখ লোকের বসবাস। ভোটার সংখ্যা ৬০ হাজার ১৪৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৯ হাজার ৬০১ এবং মহিলা ভোটার ৩০ হাজার ৫৪৬ জন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন সুশান্ত কুমার দাস শান্ত।

তিনি অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে গত সাড়ে তিন বছরে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তিনি। এরপরও রয়েছে অনেক সমস্যা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা, পৌরবাসী তা পাচ্ছেন না। শহরের প্রধান সমস্যা যানজট। এই সমস্যার সমাধান তিনি করতে পারেননি। পৌরসভার অনেক বাড়িতে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শহরে শিশুদের বিনোদন বা খেলাধুলার জন্য কোনো পার্ক নেই। এসব নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পাঁচকবর এলাকার বাসিন্দা সুবর্ণা রহমানের অভিযোগ, ‘নওয়াপাড়া যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। নূরবাগ এলাকায় সর্বদাই তীব্র যানজট লেগে থাকে। পৌর এলাকার সব জায়গায় এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি। বেশির ভাগ সময় বিদ্যুতের ভোল্টেজ কম থাকে।’

ক্লিনিকপাড়ার বাসিন্দা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার নিুাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’ এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র সুশান্ত কুমার দাস শান্ত।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আছে। তবে সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্ব নিয়ে সাড়ে তিন বছরে পৌরসভার উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছি। প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় সড়কবাতি স্থাপন করেছি। পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়েছে। শুধু তেলের খরচ দিয়েই মানুষ অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পেয়ে থাকেন। জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলে নামমাত্র মূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মাত্র এক হাজার টাকার বিনিময়ে পৌরবাসীর জন্য ল্যাট্রিন পরিষ্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ বছর পর্যাপ্ত ওষুধ ছিটানো হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দুই থেকে তিন মাস অন্তর স্কুল-কলেজ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গরিব ও দুস্থদের সহায়তায় কাজ করছে পৌরসভা। গত দুই ঈদে প্রায় ৫ হাজার গরিব, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভাঙন রোধ ও দখলমুক্ত করতে ভৈরব নদ ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে এক কিলোমিটার ওয়াকওয়ে সড়ক। এছাড়া জনগণের সহজ উপায়ে চলাচলের জন্য রাজঘাট থেকে বেঙ্গলগেট পর্যন্ত বাইপাস সড়ক তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে নওয়াপাড়া পৌরসভা এলাকায় মাদক বেচাকেনা নেই বললেই চলে। তবে এই শহরে বহিরাগতদের আনাগোনা থাকায় সম্পূরূপে তা নির্মূল করা যাচ্ছে না।’

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘নওয়াপাড়া মডেল কলেজ রোড থেকে সরদার মিল পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার, হাসপাতাল রোড থেকে রেলস্টেশন এবং ডিএন মোড় থেকে রাজঘাট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার ড্রেন ব্যবস্থা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ শেষ হলে শহরে জলাবদ্ধতা থাকবে না। এ ছাড়াও ছোটখাটো ড্রেন এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে।’

পৌরসভায় দুর্নীতির অভিযোগে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে তার রক্ষা নেই। মানুষের সেব নিশ্চিত করার জন্য পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার বিকল্প নেই।’

যানজট প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘যানজটের জন্য হাইওয়ে দায়ী। হাইওয়ে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পৌরসভার না। যানজট নিরসনের জন্য হাইওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের এবং স্থানীয় প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিত। তারপরও এ সমস্যা সমাধানের জন্য করণীয় নিয়ে ভাবছি।’

খাসজমি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা ভূমি অফিসের এখতিয়ারভুক্ত। তবে শহরের নূরবাগ থেকে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভায় একটি শিশুপার্ক নির্মাণের স্বপ্ন দেখি। আগামী দিনে সুযোগ পেলে পৌরসভার আয়তন বৃদ্ধি করে শিশুদের জন্য একটি আধুনিক মানসম্মত শিশুপার্ক গড়ে তুলব।’

মেয়র শান্ত বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই পূরণ করতে পেরেছি। যা পারিনি, আগামী নির্বাচনের আগে শেষ করতে পারব বলে আশ করছি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×