দল বেঁধে ধর্ষণের পর থানায় বিয়ে

পাবনা সদর থানার ওসি প্রত্যাহার এসআই বরখাস্ত

  পাবনা প্রতিনিধি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনা সদর থানার ওসি প্রত্যাহার এসআই বরখাস্ত

পাবনায় গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ এবং এক ধর্ষকের সঙ্গে থানার ভেতরে বিয়ে দেয়ার সত্যতা পাওয়ায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার ও এসআই একরামুল হককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারভুক্ত আসামি জাকির হোসেন ড্রাইভার (৩৫) ও সঞ্জু মোল্লাকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোররাতে টেবুনিয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার জাকির হোসেন সদর উপজেলার ইসলামগাঁতি গ্রামের আবদুস ছামাদ সরদারের ছেলে ও সঞ্জু মোল্লা টেবুনিয়া ফলিয়া গ্রামের কালাম মোল্লার ছেলে। পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের ঘটনা এবং থানায় বিয়ের বিষয় নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বুধবার রাতেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের এ সিদ্ধান্ত হয়। থানা কম্পাউন্ডে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওসি ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। কাজী ডেকে থানায় বিয়ে দেয়ার বিষয়ে জড়িত থাকায় এসআই একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজানা জানান, এর আগে এই মামলার অন্যতম দুই আসামি রাসেল আহমেদকে সোমবার ও শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামির ৪ জনকেই গ্রেফতার করা হল। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি রাসেল আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

২৯ আগস্ট রাত থেকে আসামিরা জনৈক গৃহবধূকে ৪ দিন আটকে রেখে দল বেঁধে ধর্ষণ করে। এক সময় নির্যাতিতা পালিয়ে অভিযোগ করার জন্য থানায় ছুটে যান। কিন্তু তার অভিযোগ আমলে না নিয়ে পুলিশ ধর্ষকদের একজন রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। এ ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় জেলা পুলিশের নির্দেশে ৯ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) ফিরোজ আহমেদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন : এদিকে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর থানায় বিয়ে দেয়ার ঘটনায় পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ কমিটি গঠন করেন। পাবনার জেলা প্রশাসক জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটিকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন : পাবনায় গৃহবধূ ধর্ষণসহ সারা দেশে নারী, শিশু নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়েছে। এতে মহিলা পরিষদের নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি পূরবী মৈত্র, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন্নাহার জোসনা, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শরিফা খাতুন, আন্দোলন সম্পাদক জিনাত সুলতানা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক রোজিনা আক্তার, সুচিতা সমাজকলাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন পারভীন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিচার না করে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়া সামাজিক মীমাংসার নামে প্রহসন। এ ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। থানায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা ধর্ষককেই উৎসাহিত করার শামিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×