পুলিশের ওপর হামলা: নবীগঞ্জে চারজন আটক, মূল হোতা মুসা পলাতক

  নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ম্যাপ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ম্যাপ

নবীগঞ্জ পৌর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ সোহান আহমেদ মুসার নেতৃত্বে হামলায় ওসি (তদন্ত) ও এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ব্যাপারে শুক্রবার মামলা হয়েছে। মূল হোতা দুর্ধর্ষ মুসা এখনও পলাতক। একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুসা নবীগঞ্জে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মুসার মা শামছুন্নাহার, বোন মৌসুমী আক্তার, তান্নি আক্তার ও শাম্মি আক্তারকে আটক করে। মুসাকে ধরতে রাতভর পুলিশ অভিযান চালায়। শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানেও অভিযান চালানো হয়। পুলিশের ওপর হামলায় ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে এসআই ফিরোজ আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।

নবীগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, মুসা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে সৎভাই হেভেন চৌধুরী হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুসার দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের ওপর মুসার নেতৃত্বে হামলা করা হয়। চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নবীগঞ্জ শহরের সালামতপুর এলাকার খুর্শেদ মিয়ার ছেলে মুসাকে গ্রেফতার করতে তার দোকানে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় মুসাসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও এলোপাতাড়ি কোপায়। হামলায় ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাশ ও এসআই ফখরুজ্জামান এবং দুই কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই মুসাসহ হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত উত্তমকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাসহ জেলা পুলিশের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে, মুসাকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার সকালে শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে শহরে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার মোড়ে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। শ্রমিক নেতা রায়হান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মিন্টু চৌধুরী, রোমান আহমদ, ফারুক মিয়া, লেচু মিয়া প্রমুখ। মুসা ও তার সহযোগী এবং তাদের মদদদাতাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ছাত্রলীগ নেতা হেভেন চৌধুরী খুন হন। হেভেন হত্যা মামলায় মুসাকে প্রধান আসামি করা হয়। এ হত্যার পর মুসা চরম বেপরোয়া হয়ে উঠে। একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নবীগঞ্জ শহরসহ এলাকায় সে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

পলাতক থাকাকালে মুসা নেশার জগতে চলে যায়। হেভেন হত্যা মামলায় জেল খেটে আসার পর মুসা মাদক ব্যবসা ও মোটরসাইকেল চোরাচালান কারবারে জড়িয়ে পড়ে। গত বছর ইয়াবাসহ মুসা শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। মুসার বিরুদ্ধে সৎভাই হেভেন হত্যা মামলাসহ আটটি মামলা রয়েছে। অভিযোগ- মুসা তার চাচা নিজাম উদ্দিনের বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে। তার ভয়ে লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি মুসার বাড়িতে র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৫৬৭টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×