বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা: থেমে থেমে বৃষ্টিতে বাড়তে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ

আক্রান্ত ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে, চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৭ হাজার

  রাশেদ রাব্বি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এডিস মশা
এডিস মশা। ফাইল ছবি

ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গত দু’দিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে হালকা ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। আগের তুলনায় তেমন একটা কমেনি তাপমাত্রাও। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এখনও আছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী। যাদের মধ্যেমে এ রোগের বিস্তার ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আরও অভিমত, ডেঙ্গু এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। শহরে যেমন এডিস ইজিপ্টি মশা ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামে এডিস এলবোপিক্টাস এ রোগের বাহক হিসেবে কাজ করছে। চলমান নিম্নচাপের প্রভাবে সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। ফলে শহর এবং গ্রামে এডিস বাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার থেকে নেমে এলেও ৬শ’ থেকে ৭শ’র কোটায় থাকার অবস্থাটা নিয়ন্ত্রিত নয়। সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ জনের মধ্যে না আসা পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেছে, একথা বলা যাবে না।

বুধবার রাজধানীতে এক কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা ইতিপূর্বে বলেছেন, সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাতের কারণে মশার উপদ্রব বাড়তে পারে। সেপ্টেম্বরজুড়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যার দিকে নজর রাখবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় প্রতিদিনই উঠানামা করছে। ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এ সংখ্যা ছিল ৭৫০ জন এবং এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সংখ্যাটি ছিল ৬৩৪। এছাড়া যুগান্তরের অনুসন্ধানে ১ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৪৪ দিনে ১৪৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, তাপমাত্রা না কমায় এবং হঠাৎ করে ধীরগতির বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যেহেতু বৃষ্টি স্বল্পমাত্রায় হচ্ছে তাই ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র অস্বাভাবিক হারে বাড়বে। আবার যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে, এতে এতদিন রাজধানীসহ সারা দেশের যেসব স্থানে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে সেগুলো ধুয়ে যাবে। ফলে নতুন নতুন প্রজননক্ষেত্রে মশার বংশ বিস্তার হবে। যেহেতু এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছে, তাই পুনরায় ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এ ধরনের বর্ষা কিউলিক্স মশার প্রজননক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও এডিসের প্রজননে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাই বলা যায় এ বৃষ্টি ডেঙ্গুর জন্য কোন ভালো লক্ষণ নয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ডিপিএম ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এ বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ খুব বেশি বাড়বে, এটা আমি মনে করি না। তবে নতুন করে আবার এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হবে। যেহেতু এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন, তাই এ রোগের প্রকোপ সামান্য বাড়তে পারে। তবে মশক নিধনের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে খুব বেশি সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে, কোথাও যেন পানি জমে থাকতে না পরে।

হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত সারা দেশে ৮০ হাজার ৪০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৯৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ হিসাবে ৯৬ শতাংশ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৯০০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এক হাজার ২৮২ জন, ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে এক হাজার ৬১৮ জন ভর্তি রয়েছেন। অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে এ পর্যন্ত ১৯৭ জনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। যার মধ্যে ১০১ জনের মৃত্যুর পর্যালোচনা করে ৬০ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×