যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

জনবল সংকটে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে: মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র

  সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শামছুল হক
শামছুল হক। ছবি: যুগান্তর

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বয়স প্রায় ১৭ বছর। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ২৫ বর্গ কিমি.। জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৫০৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৩৬ এবং পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৭০ জন। বর্তমানে পৌরসভায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন শামছুল হক।

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী বাদশা মিয়াকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে শামছুল হক পৌরসভার উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার সময়ই পৌরসভাটি ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। কিন্তু তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, পৌর এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড পুরোটায় বিদ্যুবিহীন। এছাড়া ৩, ৪ ও ৭নং ওয়ার্ডের একাংশ এখনও বিদ্যুৎবিহীন।

এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে। শহরের লেক দখল হয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ ফুটপাত মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দখলে। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

মাটিরাঙ্গা পৌর আ’লীগ সাবেক সভাপতি ও মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ- ‘মাটিরাঙ্গা পৌরসভা একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখানে নাগরিকরা বিন্দুমাত্র সেবা পাচ্ছে না। উল্টো বাড়তি করের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র শামছুল হক। তিনি বলেন, ‘পৌরসভার দায়িত্ব নেয়ার পর জনবল সংকটের মুখোমুখি হই। পৌরসভার প্রকৌশলী ছিল অদক্ষ। পরে সেই প্রকৌশলী বদলি হওয়ার পর দীর্ঘদিন আমরা কোনো প্রকৌশলী পাইনি।

প্রকৌশলীর অভাবে উন্নয়নমূলক কাজ প্রায় থমকে যায়। বর্তমানে একজন প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২-৩ মাস পরপর একবার আসেন। তাই উন্নয়ন কাজ করতে পারছি না।

নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছি না। তারপরও জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পৌর এলাকায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে।’

লেক ও ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘মাটিরাঙ্গা পৌরসভাসংলগ্ন ধলিয়া লেক ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা লেকটি দখল করে ফেলছে। ভুয়া দলিল বানিয়ে লেকটাকে দখলের শেষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও এর প্রতিকার পাওয়া যায়নি।’ পৌর বাজার এলাকায় সড়কের ফুটপাত দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সড়কের ফুটপাত দখলে নেই। ’

পৌরসভার সর্বত্র মাদকের বিস্তারের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখানে এক সময় মাদক বিশেষত ইয়াবার ভয়াবহ ছোবল ছিল। এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আমরা মিটিং করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানও চলছে। এরফলে পৌরসভায় মাদকের ভয়াবহতা অনেকটা কমেছে।’

পৌরকর আদায়ে ব্যর্থতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভায় সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ কর আদায় করা সম্ভব হয়। যেখানে ৮০-৯০ শতাংশ হওয়া উচিত। এখনও ১৩ লাখ টাকা কর বাকি রয়েছে। স্থাপনা কম হওয়ার কারণে পৌরকর কম আদায় হচ্ছে।’

শিক্ষার মান উন্নয়নে পৌরসভার ভূমিকা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভা মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল পরিচালনা করে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক হাজার। এ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অন্য বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পৌরসভা সচেষ্ট আছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা নিয়ে মেয়রের বক্তব্য হল, ‘ডাক্তাররা এখানে নিয়মিত থাকতে চান না। এ কারণে সেবাপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেখা উচিত।’

পৌরসভায় দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে দুর্নীতি দমনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। পৌরসভা এখন দুর্নীতিমুক্ত।’ আগামী পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে মেয়র শামছুল হক জানান, ‘পৌরসভা নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনেই অংশ নেয়ার ইচ্ছে নেই।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×