যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

আধুনিক পৌরসভা গড়তে কাজ করে যাচ্ছি: চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র

  তাবারক উল্লাহ কায়েস, কুমিল্লা ব্যুরো ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিজানুর রহমান
চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান

কুমিল্লা জেলার সর্বদক্ষিণে সীমান্ত ঘেঁষে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার অবস্থান। ২০০৩ সালের ৩০ এপ্রিল পৌরসভারটির যাত্রা শুরু হয়। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ১৮.৩৩ বর্গকিমি.।

এখানে ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্তমানে মোট ভোটার ২৬ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। নারী ভোটার ১৩ হাজার ১৫৭ জন। এটি একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এনাম হোসেন পাটোয়ারীকে পরাজিত করে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। এই সাড়ে তিন বছরে তিনি উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে কিছু সমস্যা। পৌরবাসীর জন্য বিনোদনের জন্য কোনো পার্ক নেই। নেই শিশুদের জন্য কোনো পার্ক। পৌর এলাকার পুকুর-ডোবায় কচুরিপানায় ভর্তি। এসব জায়গা থেকে মশার উৎপত্তি হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে।

পৌর মেয়র হিসেবে নিজের সফলতা ও ব্যর্থতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে জমি ক্রয় করে পৌর ভবন নির্মাণ করেছি। উপজেলা রোডের মাথায় দৃষ্টিনন্দন দোয়েল চত্বর নির্মাণ করেছি।

পৌরসভার বীরচন্দ্রনগর থেকে রামরায় গ্রাম পর্যন্ত ৪.৭১০ মিটার দীর্ঘ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ চেয়ারম্যান সড়ক (পূর্ব বাইপাস) নির্মাণ করেছি। প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাকাটিয়া থেকে চান্দিশকরা পর্যন্ত ৫.০১০ মিটার বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুল হক সড়ক (পশ্চিম বাইপাস) নির্মাণ করেছি।

চৌদ্দগ্রাম বাজারের ভেতরের রাস্তা নির্মাণ করেছি। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ এবং কিছু কিছু রাস্তা প্রশস্তের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পৌর এলাকায় শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছি। আরও ২০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা একটি আধুনিক শহরে রূপ নেবে।’

তিনি বলেন, ‘সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ইতিমধ্যে দুটি পাম্প বসানো হয়েছে। দুই-তিন মাসের মধ্যে পৌরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জৈব সার তৈরির প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।’

পৌরবাসীর বিনোদনের জন্য পার্ক না থাকা প্রসঙ্গে মেয়র বলে, ‘পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। নগর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে পার্কের কাজটিও শুরু করা যাবে।’

পৌরসভায় ঘুষ-দুর্নীতি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘পৌরভবন শতভাগ ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত। এখানে কোনো দুর্নীতি হয় না। ঘুষ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’

মাদকের সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে না পারার কথা স্বীকার করে মেয়র বলেন, ‘চৌদ্দগ্রাম একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়। প্রশাসনের তৎপরতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক, সন্ত্রাস ও যৌন হয়রানিসহ অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় এসব অপরাধ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে পৌরসভা থেকে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।’

পুকুর-ডোবার কচুরিপানার বিস্তার ও মশার উপদ্রব সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

শিক্ষার মান ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত বসা হচ্ছে। এছাড়া যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্যসেবার মান খুবই নাজুক ছিল। হাসপাতাল ছিল, কিন্তু ডাক্তার থাকত না।

মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে খুব কষ্ট পেত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পেরেছি। এখন সাধারণ মানুষ অনায়াসে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছেন।’

মেয়র বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই বাস্তবায়ন করেছি। ছোটখাটো যেসব কাজ বাকি রয়েছে তা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। তিনি বলেন, পৌরবাসীর সুখ-দুঃখে সার্বক্ষণিক পাশে ছিলাম বলেই জনগণ আমাকে দ্বিতীয়বারের মতো বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন।’

আগামী পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হলে জনগণকে কী প্রতিশ্রুতি দেবেন- এই প্রশ্নের জবাবে মেয়র মিজানুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য পৌরবাসীর কাছে আমার একাধিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল- শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণ, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিু আয়ের মানুষদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা। রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য পৌর মার্কেটও নির্মাণ করব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×