রেমিটেন্স প্রণোদনা নীতিমালা কার্যকরের নির্দেশ

জালিয়াতির অর্থ আদায় করা হবে ব্যাংক থেকে

দায়ী কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে

  মিজান চৌধুরী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রেমিটেন্স প্রণোদনা নীতিমালা কার্যকরের নির্দেশ

প্রণোদনা দেয়ার নামে জালিয়াতি করলে ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছ থেকে আদায় করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রক্ষিত ওই ব্যাংকের হিসাব থেকে তা কেটে রাখা হবে।

আর জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা দায়ী ব্যাংক কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বিধিবহির্ভূতভাবে নগদ সহায়তা গ্রহণের দায়ে উপকারভোগীকে সুবিধা দেয়া বন্ধ করা হবে। এসব বিধান রেখে জারি করা হয়েছে ‘বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণের বিপরীতে প্রণোদনা প্রদান নীতিমালা’। সোমবার নীতিমালাটি কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়, রেমিটেন্স প্রাপকের অনুকূলে প্রাপ্য নগদ সহায়তা দিতে হয়রানি বা বিলম্ব করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নীতিমালা পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সে পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরি করে ৬ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠায়। সোমবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এই নীতিমালা কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার পাঠানো এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো রেমিটেন্স প্রণোদনার নীতিমালা বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই নীতিমালা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়কে।

রেমিটেন্স প্রণোদনা নীতিমালা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বৈধ পথে রেমিটেন্সপ্রবাহ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে প্রবাসীরা টাকা প্রেরণে উৎসাহিত হবেন। তিনি বলেন, একজন প্রবাসী ১৫শ’ মার্কিন ডলারের নিচে রেমিটেন্স পাঠালে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই তাকে প্রণোদনা দেয়া হবে। তবে গত পহেলা জুলাই থেকে রেমিটেন্সের ওপর এই প্রণোদনা পরিশোধ করা হবে।

সূত্র জানায়, নীতিমালায় প্রণোদনার হার ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন প্রবাসী যে কোনো মুদ্রায় রেমিটেন্স প্রেরণ করতে পারেন। এতে রেমিটেন্স গ্রহণকারী ব্যাংক ওই মুদ্রা টাকায় বিনিময় করে প্রতি একশ’ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা দেবে।

অর্থাৎ একশ’ টাকার রেমিটেন্সের বিপরীতে প্রণোদনাসহ ১০২ টাকা দেয়া হবে। তবে ১৫শ’ মার্কিন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠানো হলে প্রাপককে রেমিটেন্স প্রেরণকারীর বৈধ কাগজপত্র রেমিটেন্স গ্রহণকারী ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রেমিটেন্স প্রেরণকারীর পাসপোর্টে ফটোকপি, বিদেশি নিয়োগ কর্তৃপক্ষের দেয়া নিয়োগপত্র, বিএমইটি সনদপত্র, ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসার লাইসেন্সের ফটোকপি উল্লেখযোগ্য।

তবে রেমিটেন্স গ্রহণের দিন এসব কাগজপত্র দাখিল করা সম্ভব না হলেও পরবর্তী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তা দাখিল করতে হবে। তাহলে সে ব্যাংক থেকে রেমিটেন্স তুলতে পারবে। তবে কোনো কারণে রেমিটেন্সের অর্থ পরিশোধ করার মতো পরিস্থিতি না হলে নগদ সহায়তাসহ সমুদয় রেমিটেন্স অথবা শুধু প্রণোদনা রেমিটেন্স গ্রহণকারী ব্যাংককে ফেরত পাঠাতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়, প্রণোদনা বাবদ পরিশোধিত অর্থের সপক্ষে তথ্যাদি ও কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারি বাণিজ্যিক নিরীক্ষা বিভাগ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরিশোধের তারিখ থেকে অন্যূন তিন দিন পর্যন্ত শাখায় সংরক্ষণ করতে হবে।

এ ছাড়া রেমিটেন্স আহরণকারী ব্যাংক নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য পৃথক টাকায় একটি হিসাব পরিচালনা করবে। উপকারভোগীর মোবাইল ফোনে রেমিটেন্স আসার মেসেজ ও লেনদেনের রসিদ দিয়ে প্রদান করবে। এই মেসেজ ও রসিদে সরকারের দেয়া নগদ সহায়তার পরিমাণ পৃথকভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

সূত্রমতে, ব্যাংক যে রেমিটেন্সের প্রণোদনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ওই অর্থ ইমপ্রেস্ট তহবিল আকারে আগাম প্রদান করবে। তবে আগের এক বছরে যে পরিমাণ রেমিটেন্স আহরণ করেছে তার হিসাব ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে গড় মাসিক হিসাব বের করতে হবে। ওই হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তিন মাসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনার অর্থ আগাম প্রদান করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আর প্রণোদনা ব্যবহারের তথ্য হিসাবটি প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টে পাঠাতে হবে। তফসিলি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনার আগাম অর্থ শেষ হয়ে গেলে ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। পরবর্তী মাসের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তা সমন্বয় করে দেয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ১৫ শতাংশ রেমিটেন্স বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হিসাবে ধরলে রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৭২৩ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতি ডলারে ২ টাকা করে প্রণোদনা ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি হিসাব করেছে।

ওই হিসাবে বছরে রেমিটেন্সে প্রণোদনা বাবদ সরকারের ৩ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে প্রতি একশ’ টাকার রেমিটেন্সের বিপরীতে দেয়া হবে ২ টাকা প্রণোদনা। এ জন্য চলতি বাজেটে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×