পেঁয়াজের বাজার

খাতুনগঞ্জে কমেছে ১৫ টাকা রাজধানীতে প্রভাব নেই

শিগগির দাম কমে আসবে : বাণিজ্য সচিব * ঢাকায় স্বল্প পরিসরে বিক্রি শুরু টিসিবির

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাতুনগঞ্জে কমেছে ১৫ টাকা রাজধানীতে প্রভাব নেই

রাজধানীসহ সারা দেশে শুক্রবার রাত থেকে অস্থির পেঁয়াজের বাজার। তবে সোমবার থেকে চট্টগ্রামে পাইকারি আড়ত খাতুনগঞ্জে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ আসতে থাকায় সেখানে দাম কমতে শুরু করে।

খাতুনগঞ্জে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা কমেছে। মঙ্গলবার ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকা ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে রাজধানীতে এর প্রভাব দেখা যায়নি। আগের দিনের মতো মঙ্গলবারও ঢাকার পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৭০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে মঙ্গলবার সরকারি বিভিন্ন দফতর, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য সচিব। এ ছাড়া এদিন থেকে রাজধানীর খোলাবাজারে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। মঙ্গলবার ৫ স্থানে ডিলারদের মাধ্যমে পণ্যটি বিক্রি করা হয়।

আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ঢোকার পর থেকেই দাম কমছে। দু’দিনে খাতুনগঞ্জে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ১০ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকেছে। ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি ট্রাক। পেঁয়াজের দাম না কমালে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় টাস্কফোর্সের সভায় তিনি এ হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দাম সহনীয় পর্যায়ে না আনলে মজুদদারদের চিহ্নিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসন বাজার তদারকি করবে। ভারতে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে দাম বৃদ্ধি হওয়ার কথা নয়। সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদার ২৫-৩০ টাকার পেঁয়াজ ৭০ টাকা দামে বিক্রি করেছে।

খাতুনগঞ্জের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের মার্কেট হিসেবে খ্যাত হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিছ যুগান্তরকে বলেন, সোমবার তারা পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করেছেন। মঙ্গলবার বিক্রি করেছেন ৫৫ টাকা দরে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসার পর দাম কিছুটা কমতির দিকে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা দরে।

রাজধানীর পাইকারি আড়ত কারওয়ান বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৮-৬০ টাকা। তবে খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৪-৭৮ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. আবদুল মালিক যুগান্তরকে বলেন, পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম একটু কমেছে। সোমবার পর্যন্ত ৭০ টাকা কেজি দরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হলেও মঙ্গলবার ৬৫ টাকাও বিক্রি করা যাচ্ছে। কারণ চট্টগ্রামে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ঢুকেছে। সেই পেঁয়াজ রাজধানীতে এলে দাম আরও কমে যাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক : বিভিন্ন দফতর, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সেখানে থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। তার পক্ষে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন।

এ সময় বাণিজ্য সচিব বলেন, পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন সুদের হার হ্রাসের উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে। বন্দরে আমদানি পেঁয়াজের খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং নির্বিঘ্ন পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমরা আজ-কালের মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেব। এরই মধ্যে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছি।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা কথা দিয়েছেন, মালামাল খালাস থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হবে না। এ ছাড়া আমরা হিসাব করে দেখলাম, আমদানি পর্যায়ে যেগুলো পাইপলাইনে আছে এবং বর্তমানে যে মজুদ আছে তা সন্তোষজনক। কাজেই আমার মনে হয়, পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

জাফর উদ্দীন বলেন, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে বেশি গ্যাপ মনে হচ্ছে। এটা যাতে কমে আসে, সে জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে আরও কিছু এজেন্সি- এগুলো মনিটরিং করে থাকে। মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে, এ সমস্যাটা আর থাকবে না। একটু ধৈর্য ধারণ করুন। আমাদের একটু সময় দেন। আশা করি, এ সমস্যা থেকে খুব শিগগির বের হতে পারব।

সভায় ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবিরুনী বলেন, পেঁয়াজ সিজনাল ও পচনশীল- এ জন্য আমদানি করতে হয়। আমাদের চাহিদা ২৪ লাখ টন। উৎপাদনও প্রায় ২৪ লাখ টন। কিন্তু পচনের কারণে সাড়ে ৭ লাখ টন নষ্ট হয়ে যায়। এ জন্য আমরা ১০-১১ লাখ টন আমদানি করি।

তিনি বলেন, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ লাখ টনের এলসি নিষ্পত্তি হয়। আমাদের মজুদ সন্তোষজনক। সব মিলিয়ে আমদানি পর্যায়ে রয়েছে ৪০ হাজার টন। এটা আসলে আমাদের লিংক পিরিয়ড।

দেড় মাসে এটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশীয় নতুন পেঁয়াজ আসবে এবং ভারতে তার এক মাস আগে নতুন পেঁয়াজ নামবে। তখন ভারত ব্যারিয়ার উঠিয়ে দেবে। এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তিনি বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত যে, ২৪ ঘণ্টায় দাম কমে আসবে। আজকের বৈঠকের পর দাম কমে আসবে।

টিসিবির বিক্রি শুরু : সংস্থাটির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, পেঁয়াজের দাম ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতায় আনতে টিসিবি রাজধানীর ৫ স্থানে ৫টি ট্রাকের মাধ্যমে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। একজন ভোক্তা দুই কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। পেঁয়াজের বাজার সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের সামনে মঙ্গলবার ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে। কম মূল্যে পেঁয়াজ কিনতে পেরে ক্রেতারাও খুশি। ক্রেতা মো. মকবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, টিসিবির এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাই। তবে মাত্র দুই কেজি কেনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরিমাণটা আর একটু বাড়ানো গেলে ভালো হতো।

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা সবসময় সুযোগসন্ধানী। একটু অজুহাত পেলেই বেশি টাকা মুনাফা করে। ভারতে দাম বেড়েছে, এই খবর শুনেই দেশের ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুদ থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিষয়টি তদারক সংশ্লিষ্টদের আমলে আনা দরকার। তিনি আরও বলেন, টিসিবির খোলাবাজারে পণ্যটি বিক্রি ভোক্তাদের জন্য ভালো। তবে এটাই সঠিক সমাধান না। সরকারের উচিত সরবরাহ ঠিক রাখতে একটি স্থায়ী পথ বের করা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×