‘সারা দেশে দুর্গোৎসব নিরাপত্তায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ৩ লাখ সদস্য’

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসাদুজ্জামান খান কামাল
আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আসন্ন দুর্গোৎসবে সারা দেশে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

বুধবার সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত এক সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বলেন, এবার সারা দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা ৩১ হাজার ১০০টি। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা এক হাজার বাড়বে। ঢাকা মহানগরীতে গত বছরের তুলনায় এবার ২৩৭টি পূজামণ্ডপ বাড়বে। এসব পূজামণ্ডপের আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। মণ্ডপে মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে স্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, সারা দেশে পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। পূজায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ও দুষ্কৃতকারীদের অশুভ তৎপরতা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাই সজাগ থাকবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থানীয়দের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি করা হবে। স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তারা সমন্বয় করে কাজ করবে। এবার পূজামণ্ডপে মহিলা স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। স্থানীয় বখাটেরা যেন পূজামণ্ডপে নারীদের উত্ত্যক্ত করতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্বেচ্ছাসেবকরা সতর্ক থাকবে। জেলা সদর ও উপজেলা সদরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম করা হবে। পাশাপাশি জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ সার্ভিস আরও কার্যকর করা হবে। যে কোনো সমস্যায় ফোন দিলে তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়া যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপের আশপাশে যানজট এড়াতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। উপকূলীয় এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোস্টগার্ড এবং সীমান্তে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিজিবি উপস্থিত থাকবে।

অনেক জায়গায় প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিমা ভাংচুরের খবর পেয়েছি। খোঁজও নিয়েছি। কমিটি বা জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে ও ভুল বোঝাবুঝিতে এগুলো হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে মাদকবিরোধী ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দলের নেতা বা এমপি যেই হোক না কেন কাউকে ছাড়া হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে পুলিশের একজন ডিআইজিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে। দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চলমান প্রক্রিয়া। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। শৃঙ্খলাভঙ্গের খবর যেখান থেকে আসছে, সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুধু পুলিশ নয় স্থানীয় চেয়ারম্যান, নিম্নসনদ নিবন্ধনকারী, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার জড়িত থাকতে পারে। তিন জায়গা পার হয়ে চতুর্থ ধাপে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। কাজেই পুলিশ একা দায়ী নয়। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে তৎপর। রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করে তখন আট লাখ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হয়। কিন্তু এরপর আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা দেশে প্রবেশ করেছে। তাদের বায়োমেট্রিক হয়নি। পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার খুবই অত্যাধুনিক। বায়োমেট্রিক না করলেও পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গারা ধরা পড়ছে। সুচতুরভাবে কেউ অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিচ্ছে, তাদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×