১৮২ ব্যক্তি পেলেন সিআইপি কার্ড

সিআইপি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিতের দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বুধবার ১৮২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) কার্ড দেয়া হয়। ছবি-যুগান্তর
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বুধবার ১৮২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) কার্ড দেয়া হয়। ছবি-যুগান্তর

শিল্প ও রফতানিতে বিশেষ অবদান রাখায় প্রতি বছর রফতানিকারকদের সিআইপি কার্ড দেয়া হয়। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে সময়মতো তালিকা না পাঠানোয় রফতানিকারক সে সুবিধা ভোগ করতে পারেন না।

ফলে কার্ড শুধু কার্ডই থেকে যায়, এ থেকে ব্যবসায়ীরা কোনো সুবিধা পান না। রফতানিকে আরও বেগবান করতে সিআইপি কার্ডের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বুধবার ২০১৭ সালের সিআইপি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে কার্ডপ্রাপ্তরা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন ও এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

অনুষ্ঠানে শিল্প ও রফতানিতে অবদান রাখায় ১৮২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) কার্ড দেয়া হয়।

সিআইপি কার্ডপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘সিআইপি কার্ডধারী ব্যক্তিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভাগগুলো প্রায়শই হালনাগাদ তালিকা সংরক্ষণ করে না। তাই প্রাপ্য সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এসব প্রতিষ্ঠান ও বিভাগগুলোকে হালনাগাদ তালিকা সংরক্ষণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের বাণিজ্য সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটুকু দক্ষতার সঙ্গে সেবা দিচ্ছে তা এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে। পাশাপাশি সরকার বাণিজ্য উন্নয়নে বহু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু তা কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে সেটি পর্যালোচনা করে দেখতে হবে।

সিআইপি কার্ডপ্রাপ্ত আরেক প্রতিষ্ঠান দাদা ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, যে কোনো সম্মাননাই ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে। সিআইপি কার্ডও তেমনই। এ কার্ডপ্রাপ্তি ব্যবসায়ী হিসেবে গৌরবের। তবে সিআইপির প্রজ্ঞাপনে কার্ডের যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে তা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ীরা রফতানি খাতকে এগিয়ে নিতে আরও উৎসাহিত হবেন।

টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, অবশ্যই সিআইপি কার্ডের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কার্ড শুধু কার্ডই থাকবে, কোনো কাজে আসবে না।

প্রসঙ্গত, নীতিমালা অনুযায়ী সিআইপি কার্ডধারীরা ৬ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান। এগুলো হচ্ছে- সচিবালয়ে ঢুকতে প্রবেশ পাস ও গাড়ির স্টিকার; জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ; বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনের আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকারপ্রাপ্তি; ব্যবসাসংক্রান্ত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসাপ্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে পরিচিতিপত্র (লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন) ইস্যু করবে; সিআইপি তার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিজের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন ও বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সিআইপি কার্ডের মেয়াদ ১ বছর।

সিআইপি কার্ডের সংখ্যা বাড়ছে : প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, প্রতি বছরই রফতানি আয় বাড়ছে, ব্যবসায়ীদের টার্নওভার বাড়ছে। সব দিক বিবেচনায় রেখে সিআইপি কার্ডের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। সমাপনী বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, সিআইপি নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। বর্তমানে ২২টি খাতে সিআইপি কার্ড দেয়া হয়। সংশোধিত নীতিমালায় রফতানি খাত ও কার্ডের সংখ্যা দুটোই বাড়ানো হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ২০১২ সালে ভেনিজুয়েলার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০১৯ সালে এসে দেশটির করুণ অবস্থা। কারণ দেশটি শুধু একটি পণ্য রফতানি করত, সেটি হচ্ছে জ্বালানি তেল। তেলের দাম কমায় দেশটিতে এখন দুর্ভিক্ষ চলছে। এ মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি ৮০ হাজার পার্সেন্ট। আমাদেরও মোট রফতানির ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তাই শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পণ্যের বহুমুখীকরণের দিকে নজর দিতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×