যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

পৌরবাসীর মতামত নিয়ে কাজ করছি: সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র

  জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন।
অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন। ছবি-যুগান্তর

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার পথচলা শুরু ২০০২ সালের ৩ এপ্রিল। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ৫ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা ৪৮ হাজার ৯৬০ জন। ভোটার ১৪ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৪৬৮ ও নারী ভোটার ৭ হাজার ২৫৮ জন।

২০১৮ সালে পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন।

২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে গত ৩ বছরে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। তারপরও রয়েছে অনেক সমস্যা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা পৌরবাসী তা পাচ্ছেন না।

পৌরবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি বিনোদন কেন্দ্র, শিশুদের খেলার মাঠ, সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু দাবিগুলো আজও পূরণ হয়নি। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার নিজস্ব জায়গা না থাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

সোনাগাজী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. নূরনবীর অভিযোগ, ‘বাজারের প্রধান সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে পৌরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ডা. গোলাম মাওলা বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নামে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পৌরবাসী প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। শহরে পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো নয়। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। পৌরবাসীর জন্য বিনোদনের জন্য পার্ক নেই।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, ‘৮ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সেই ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেছি। আগামী নির্বাচনের আগেই বাকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা করছি।’

মেয়র বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বলেছিলাম পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করব। নির্বাচনের পর পৌরবাসীর মতামত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে সফল হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ৩ বছরে পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। শতভাগ স্যানিটেশন ও শতভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। পৌরসভায় দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু তোরণ নির্মাণ করেছি। পৌরসভার গেট, পৌর অডিটোরিয়াম নির্মাণ করেছি। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার করেছি। বাস স্ট্যান্ডসংলগ্ন প্রাচীন কবরস্থান সংরক্ষণে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছি। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও অপরাধী শনাক্ত করতে পৌর এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে যাতায়াতের সড়ক পাকা করেছি।’

শিক্ষার মান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সেবা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘পৌর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সাহায্য করছি। পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান চলছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসসহ দুটি ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।’

দুর্নীতির অভিযোগ সস্পর্কে মেয়র বলেন, ‘নির্বাচিত হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। করের টাকাসহ সব ধরনের লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। সেবা নিতে এসে পৌরবাসী হয়রানির শিকার হন না।’

ত্রুটিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজস্ব জমি না থাকায় বর্জ্য নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে। সরকারি একটি পরিত্যক্ত জায়গায় অস্থায়ীভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। নিজস্ব জায়গার ব্যবস্থা হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

বিনোদন পার্ক প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘একটি বিনোদন পার্ক প্রতিষ্ঠা করা অতি জরুরি। সোনাগাজী মডেল থানার সামনে জেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন পরিত্যক্ত জমি রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে ওই জায়গায় পার্ক নির্মাণ করব।’

গণকবরস্থানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এজন্য জমি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পৌরসভায় গ্যাস সংযোগের জন্য বারবার লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।’ এক প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হয়েছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×