যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

মামলায় থেমে আছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উন্নয়ন কাজ: মাধবপুর পৌরসভার মেয়র

  রোকন উদ্দিন লস্কর, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষা঳কারে মাধবপুর পৌরসভার মেয়র

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার যাত্রা ১৯৯৭ সালে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ৮ বর্গকিলোমিটার। এখানে পায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস।

মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৪৬১ জন এবং নারী ভোটার ৭ হাজার ৯৯ জন। ২০১২ সালে পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন হিরেন্দ্র লাল সাহা।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে গত সাড়ে তিন বছরে তিনি দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পৌরবাসী যে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছেন না। পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ২২ বছর আগে গঠিত পৌরসভাটির এখনও আপন ঠিকানা নেই।

উপজেলার একটি পরিত্যক্ত ভবনে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম। কিচেন মার্কেট, পৌরমার্কেট, বাস টার্মিনাল নির্মাণসহ মেয়রের দেয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির হাসানের অভিযোগ, ‘এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জলাবদ্ধতা নিরসনে নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায়ই বৈদ্যুতিক বাতি নেই।’ ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদ মিয়া বলেন, ‘তাদের ওয়ার্ডের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন মেয়র। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নেই। জলাবদ্ধতা নিরসনেরও উদ্যোগ নেই।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহা। তিনি বলেন, ‘গত সাড়ে তিন বছরে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এখানে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। স্যানিটেশন, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সোনাই নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করেছি। যানজট নিরসনে উপজেলা গেট থেকে নাসিরনগর রোডে বাইপাস রাস্তা নির্মাণ করেছি। মহাসড়ক হতে গুমুটিয়া শিবপুর হয়ে বোয়ালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণ কাজ চলছে। মহাসড়ক হতে কলেজ, চার গোপাট শ্মশান হয়ে আদাঐর ইটভাটা পর্যন্ত আরও একটি বড় রাস্তা নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিপক্ষের মামলার কারণে আরও কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ থেমে আছে।’

নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করেছি। মহামান্য হাইকোর্টে মামলার কারণে পৌর ভবন নির্মাণ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পৌর মার্কেটের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘মামলাসহ নানাভাবে আমার কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করতে পারছি না। বিষয়টি পৌরবাসীকে অবহিত করেছি। যদি দুটি মার্কেট করা যেত তাহলে পৌরসভা যেমন আর্থিকভাবে সচ্ছল হতো, তেমনি সরকারও মোটা অংকের রাজস্ব পেত। বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

মেয়র জানান, দেশের ৩২৮টি পৌরসভার মধ্যে যে ৫টি পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান গেজেট হয়েছে তার মধ্যে মাধবপুর পৌরসভা একটি। এ পৌরসভাকে আধুনিকায়নে সম্ভাব্য সব রকম চেষ্টা করব। দায়িত্ব নেয়ার পর পৌরসভায় কোনো দুর্নীতি হতে দেইনি। উন্নয়ন কাজের জন্য পৌরসভার কোনো টেবিলে ঘুষ দিতে হয় না। সেবা নিতে এসে কেউ হয়রানির শিকার হন না।

তিনি বলেন, ‘পৌরসভার সামনে একটি উন্মুক্ত অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছি। এখানে যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগে পৌরকর আদায়ের হার যেখানে ছিল ৩০ শতাংশ, বর্তমানে আদায়ের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।’

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র হিরেন্দ্র লাল সাহা বলেন, ‘এই সমস্যা সমাধানে পৌর এলাকার সব খাল অবমুক্ত ও সচল আছে। এ সব খালের সঙ্গে সংযোগ রেখে পৌরসভায় অনেক পাকা ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’

মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি।’

নাগরিক সেবা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২০১২-১৩ অর্থবছর থেকেই অ্যানালগ পদ্ধতির পরিবর্তে সব সেকশনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পৌরসভার সব প্রকার সেবা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেয়া হচ্ছে। জনগণের সুবিধার্থে পৌরসভার প্রথম ফটকে সিটিজেন চার্টার টানানো হয়েছে। যাতে করে পৌরবাসী সহজভাবে সব রকম সেবা সম্পর্কে অনুসন্ধান বা খোঁজ নিতে পারেন।’

শিক্ষা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পৌরসভা ফুলকলি পৌর কিন্ডারগার্টেন নামে একটি স্কুল পরিচালনা করে। প্রতি বছর এ স্কুল থেকে অনেক ছাত্রছাত্রী ট্যালেন্টপুল থেকে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে থাকে। শিক্ষার মান উন্নয়নে বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর রাখা হয়। প্রাথমিক মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভার ২ জন কর্মচারী স্থানীয় হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সদের সঙ্গে মিলে পৌর এলাকার লোকজনকে ইপিআইসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত হাসপাতালের চারপাশ পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশার ওষুধ দেয়া হচ্ছে। পৌরসভা থেকে হাসপাতালের অভ্যন্তরের সড়কে বাতি দেয়া হয়েছে। পৌর এলাকায় ঝোপঝাড়-জঙ্গল পরিষ্কার করে প্রতিনিয়ত মশার ওষুধ দেয়া হচ্ছে, যাতে পৌরবাসী ডেঙ্গুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×