যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র: জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছি

  আবদুর রাজ্জাক রাজা, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মো. জুয়েল আহমেদ
মো. জুয়েল আহমেদ। ফাইল ছবি

কমলগঞ্জ পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালের ৭ অক্টোবর। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ৯.৯৯ বর্গকিলোমিটার।

এখানে প্রায় ১৮ হাজার ৩শ’ লোকের বাস। মোট ভোটার ১২ হাজার ৮শ’ ৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৪শ’ ৩৯ জন। মহিলা ভোটার ৬ হাজার ৪শ’ ৫৩ জন।

.পৌরসভাটি ২০১৭ সালে “গ” শ্রেণীর থেকে “খ” শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ৬ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আবদুস শহীদ এমপি। যদিও গঠনকালীন সময় থেকে মেয়র পদটি ১৭ বছর বিএনপির দখলে ছিল।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মো. জুয়েল আহমেদ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া হাবিবকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। সাড়ে তিন বছরে তিনি উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন।

তারপরও রয়েছে অনেক সমস্যা। শহরের সব রাস্তায় বাতি নেই, শিশু-কিশোরদের জন্য বিনোদনের পার্ক নেই, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজাদ মিয়ার অভিযোগ, ‘আমাদের ওয়ার্ডে লাইট পোস্ট স্থাপন করা হয়নি। রাতে এই এলাকায় ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।’ ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ড্রেন না থাকায় বৃষ্টি হলেই আমাদের ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।’

আরেক বাসিন্দা গৃহিণী হুনুফা বেগম বলেন, ‘পৌর এলাকায় শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য পার্ক নেই।’

৭ ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইব্রাহিম রশীদ বলেন, ‘পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত গ্যাস সংযোগ নেই।’

লুৎফুর রহমান নামে একজন বলেন, ‘জলাধার আর ঝোপ-ঝাড়ের কারণে পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মো. জুয়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘পৌরবাসীর কাছে কম প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলাম। ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতির প্রায় ৭০ ভাগ পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। দায়িত্ব নিয়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছি, যা অতীতের কোনো মেয়র করতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ধলাই নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ব্রিজটি জনগণের জন্য ইতিমধ্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। শহরের অনেক রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী ছিল। সেসব রাস্তা সংস্কার করে মানুষের যাতায়াতের উপযোগী করেছি। নতুন অনেক রাস্তা নির্মাণ করেছি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরের উন্নয়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৌর এলাকায় শত ভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণসহ বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী ও শিশু ভাতা প্রদান করে যাচ্ছি। সর্বোপরি পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপ দেয়ার জন্য কাজ করছি।’

জলাবদ্ধতার বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘ড্রেন নির্মাণের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কাজ শেষ হলে শহরে জলাবদ্ধতা থাকবে না।’ রাস্তায় পর্যাপ্ত বাতি না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৌরসভাকে আলোকিত করার জন্য প্রধান প্রধান সড়কে লাইটপোস্ট স্থাপন করেছি। পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ড লাইটপোস্টের আওতায় আনা হবে।’

শিশু-কিশোরদের বিনোদন পার্ক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘৫নং ওয়ার্ডে শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে পার্কটি শিশু-কিশোরদের জন্য খুলে দেয়া হবে।’

বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পানি শোধনাগার ও উচ্চ জলাধার স্থাপনের প্রকল্প ইতিমধ্যেই একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। ট্রেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ মশার উপদ্রব নিয়ে মেয়রের বক্তব্য হল, ‘রাস্তার আশপাশের ঝোপ-জঞ্জল পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।’

অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে মেয়র জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘১৭ বছরের জঞ্জাল অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, পৌরসভা থেকে দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলব। এখানে স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার সময় আগের মেয়রদের রেখে যাওয়া ১৮টি অডিট আপত্তি ছিল। সবগুলোই নিষ্পত্তি করেছি। পৌর মিলনায়তনে পৌর কাউন্সিলরদের নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়।’

আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘কমলগঞ্জ পৌরসভাকে দুর্নীতি, মাদকমুক্ত ও আকর্ষণীয় পৌরসভা গঠন করাই আমার লক্ষ্য। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পৌরবাসীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়াই আমার দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যে আস্থা আর বিশ্বাস রেখে আমার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন, সেই আস্থায় অবিচল থাকতে চাই।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×