রোহিঙ্গাদের বিদেশ পাঠানো ৩ ট্রাভেল এজেন্সি চিহ্নিত

ইসির চুরি যাওয়া ল্যাপটপসহ হালনাগাদকর্মী গ্রেফতার, ৫ দিনের রিমান্ডে

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

চট্টগ্রামে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পাইয়ে দিতে সহায়তাকারী তিনটি ট্রাভেল এজেন্সিকে চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী চক্রের সদস্যদের সহায়তা নিত এসব ট্রাভেল এজেন্সি।

এসব এজেন্সির মাধ্যমে কয়েক বছরে ভুয়া পরিচয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে অনেক রোহিঙ্গা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে বলে জানতে পেরেছে দুদক।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট চুরি যাওয়া ল্যাপটপসহ মোস্তফা ফারুককে গ্রেফতার করেছে। মোস্তফা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে ফারুকের দেয়া তথ্যে তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ল্যাপটপ, ১টি পেনড্রাইভ, ৩টি সিগনেচার প্যাড, আইডি কার্ডের লেমিনেটিং সরঞ্জাম ইত্যাদি। এর মধ্যে একটি ল্যাপটপ নির্বাচন কমিশনের।

মোস্তফা ফারুককে শুক্রবার আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া। আদালত শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুদক সূত্র জানায়, মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিক সাজিয়ে পাসপোর্ট পাইয়ে দেয়ার পেছনে জড়িত তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি হল- বাবুস সালাম ট্রাভেল এজেন্সি, কর্ণফুলী ট্রাভেল এজেন্সি ও এনকে নুর ট্রাভেলস। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারী ও দালাল চক্রের সহায়তায় পাসপোর্ট বানিয়ে এসব এজেন্সির মাধ্যমে অনেক রোহিঙ্গা বিদেশ পাড়ি দিয়েছে বলে তাদের ধারণা।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা সন্দেহে ১৫০ জনের রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আবেদনকারীর আবেদন ফরমে অন্তত ৭৫ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। বাকি আবেদনপত্রে কেবল জন্মনিবন্ধন সংযুক্ত করা হয়েছে। সবগুলো আবেদনেই জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন রয়েছে।

পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের দুই পাসপোর্ট অফিস এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে ৭৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এর মধ্যে পাঁচলাইশের আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে ২৮ জন ও একই সময়ে মনসুরাবাদ চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে ৫০ জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আল আমিন মৃধা যুগান্তরকে জানান, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তারা কঠোর। পাসপোর্টের জন্য করা কোনো আবেদন সন্দেহ হলেই তারা তা জব্দ করে যাচাই-বাছাই করছেন।

ইসি কর্মচারী মোস্তফা ফারুক গ্রেফতার : সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইনে কোতোয়ালি থানায় করা মামলায় মোস্তফা ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তার হামজারবাগের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুটি ল্যাপটপ, ১টি মডেম, ১টি পেনড্রাইভ, ৩টি সিগনেচার প্যাড, আইডি কার্ডের লেমিনেটিং সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি ফেনীর দমদমা লস্কর হাটে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্র জানায়, গ্রেফতার ডবলুমরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনের রিমান্ডে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, জয়নাল বাসায় বসে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সার্ভারে আপলোড দিতেন। ঘরে বসেই লোকজনকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রিন্ট দিতেন। তবে তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইসির ল্যাপটপে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সব তথ্য মুছে দেয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, ২০১৪ সালের পর মোস্তফা ফারুক নির্বাচন কমিশনের প্রকল্পের অধীনে অস্থায়ী ভিত্তিতে (আউটসোর্সিং) কাজ করে আসছিল। বর্তমানে সে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ করছিল বোয়ালখালী উপজেলায়। ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×