মেয়র হিসেবে নয় সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই: সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র

  সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেয়র

সৈয়দপুর পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৫৮ সালের ৩০ এপ্রিল। এটি ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। আয়তন ৩৪.৫৪ বর্গকিলোমিটার। প্রথম শ্রেণির মর্যাদাপ্রাপ্ত এ পৌরসভার জনসংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১০৫ জন।

ভোটার সংখ্যা ৯০ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৫ হাজার ৭২০ এবং নারী ভোটার ৪৪ হাজার ৭৭৬ জন। এ পৌরসভার বর্তমান মেয়র মো. আমজাদ হোসেন সরকার ভজে ১৯৭৩ সালে প্রথমবার এবং ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয়বার পৌর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১১ সালে মেয়র পদে নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন আমজাদ হোসেন।

পৌরশহরে তিনি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তারপরও রয়েছে অনেক সমস্যা। এ ব্যাপারে আলাপন সম্পাদক ও সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে শিশু-কিশোরদের বিনোদনের কোনো জায়গা নেই। পৌর মেয়র প্রতি বছর বাজেটে বিনোদন পার্কের জন্য বরাদ্দ ঘোষণা দেন অথচ পার্ক তৈরি করেন না।

পৌরবাসীর সমস্যার কথা বলতে গিয়ে সাবডিনেট কলোনির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলি সুলতানা বলেন, পৌর এলাকায় ফুটপাত যত্রতত্র দখল করে রাখা হয়েছে। যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে ছোট-বড় গোডাউন গড়ে উঠায় রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সমাজ উন্নয়নকর্মী রুহুল আলম মাস্টার বলেন, সৈয়দপুর একটি ট্রানজিট শহর। বর্তমান মেয়র এ পৌরসভায় চারবার নির্বাচিত হয়ে পৌরসভার হাল ধরেছেন। অথচ চোখে পড়ার মতো এখানকার কোনো অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি।

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার। তিনি বলেন, পৌরসভার বর্তমান চিত্র দেশের অনেক নামি-দামি পৌরসভা থেকেও উন্নত। এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। পৌর এলাকায় কোথাও কোনো ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে না। প্রতিটি বাড়িতে ময়লা রাখার জন্য পৌরসভা থেকে একটি করে ড্রাম দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করা হয়। দিনে তিনবার রাস্তা ঝাড়ু দেয়া হয়। পৌর এলাকার প্রতিটি লাইট পোস্টে নিয়মিত বাতি জ্বলে। নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও আছে। জলবদ্ধতা নিরসন করেছি। খাসজমি উদ্ধার হয়েছে। ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হয়েছে প্রায় ৭৫ ভাগ।

তিনি বলেন, শহরে স্যানিটেশন ব্যবস্থার শতভাগ উন্নয়ন হয়েছে। তৈরি হয়েছে আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার। যানজট ও শব্দদূষণ দূর করতে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় যানজট নিরসনে শহর থেকে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

মেয়র বলেন, একটি বড় সমস্যা ছিল শহর থেকে মানব বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থাপনা প্লান্ট তৈরি করা। এটির কাজও প্রায় শেষের পথে। তবে বাসা-বাড়ির ময়লা আর্বজনার জন্য কোনো ডাম্পিং না থাকায় সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এখানকার ৯০ ভাগ জমি রেলওয়ের অধীনে। ডাম্পিংয়ের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে, পাওয়া গেলে সেই সমস্যাও নিরসণ করা যাবে।

আমজাদ হোসেন বলেন, সৈয়দপুর পৌরসভা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। নগরীর আশপাশে ২২টি বস্তিও রয়েছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দের অভাবে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছি না। যেহেতু আমি জনগণের সেবা ছাড়া অন্য কোনো কাজ বা ব্যবসা করি না, সেহেতু জনগণের সঙ্গে পুরোদমেই সম্পৃক্ত রয়েছি। আসলে আমি মেয়র হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

নির্বাচনের আগে পৌরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে মেয়র বলেন, সৈয়দপুর শহরকে ক্লিন এবং হেলদি শহরে রূপান্তরিত করেছি। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি কাজ করতে পারিনি- সেটি হচ্ছে সৈয়দপুর শিক্ষানগরীতে একটি মেডিকেল কলেজ, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও একটি এগ্রিকালচার কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। আগামীতে যদি নগরবাসী সুযোগ দেন আমি তা বাস্তবায়ন করব।

তিনি বলেন, পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পেরেছি বলে আমার বিশ্বাস। এ পৌরসভা ধুমপান ও পানমুক্ত এলাকা। সেবা নিতে এসে পৌরবাসী হয়রানির শিকার হন না। এ বিষয়ে কখনও কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই- এসব সামাজিক অপরাধ দমন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পৌরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব অপরাধ কমে এসেছে। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি।

মেয়র বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এখানে কয়েকটি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। অন্য স্কুল-কলেজেও সব সময় সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমার এলাকায় বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবক দল রয়েছে; যার মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। হাসপাতালে জনবল সংকটের মধ্যেও যাতে সেবা ব্যাহত না হয়, সেজন্য সহযোগিতা করছি। পৌরসভার কর্মী দিয়ে হাসপাতালের বর্জ্যগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়।

মেয়র আমজাদ হোসেন বলেন, পৌরসভার মান উন্নয়নে গণমুখী বাজেট তৈরি করে সেই মোতাবেক কাজ করি। পৌরসভায় একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছি, যার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো তদারকি করা হয়। এছাড়াও নগর উন্নয়ন কমিটি এবং ওয়ার্ড উন্নয়ন কমিটির নিয়মিত সভার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×