যুবকের দুই হাতের কব্জি কেটে নেয়া: ফয়েজের যত অপকর্ম চলত ইউপি অফিসে

  মনোয়ার হোসেন জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অপকর্ম

সরকারি জমিতে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস থাকলেও ক্ষমতার দাপটে নিজের পৈতৃক ভিটায় পরিষদের অফিস নিয়ে গেছেন উজিরপুর ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দীন।

পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় তৈরি করেছেন নিজের ডেরা। এখান থেকেই তিনি পরিচালনা করতেন তার সব অবৈধ কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ- এখানে বসেই তিনি মাদক, অস্ত্র আর জাল টাকার কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। আর কথিত ইউনিয়ন পরিষদের অফিসকে বানিয়েছিলেন টর্চার সেল। ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহৃত হতো এ ইউপি কার্যালয়টি।

এছাড়া এটি মাদকসেবনের আখড়া বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ভারত সীমান্তবর্তী হওয়ায় পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধের এ জায়গাটিকেই চোরাচালানের ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ফয়েজ। ভারতীয় গরু ব্যবসা আর গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ছিনতাই করে আনা গবাদিপশু বৈধ করার জন্য নিজেই তৈরি করেছেন অবৈধ পশুর হাট। বুধবার রাতে রুবেল হোসেন নামে এক যুবকের দুই হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে ফয়েজ উদ্দীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরপরই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

শুক্রবার সরেজমিন উজিরপুর গেলে যুগান্তরের কাছে ফয়েজ চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তর ইতিবৃত্ত তুলে ধরেন তারা।

কথিত ইউনিয়ন পরিষদের কাছে গেলে স্থানীয় যুবক সাইফ খান তোতা জানান, জলবাজার মোড়ে ১০ বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়। কিন্তু চেয়ারম্যান হয়ে ফয়েজ আসার পর পদ্মার বেড়িবাঁধ এলাকায় তার পারিবারিক জমিতে অফিসের সব কাগজপত্র নিয়ে চলে আসেন। এরপর এটিকে ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণা করেন। প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত এখানে চলে মাদকের আড্ডা।

এছাড়া অপহরণ করে লোকজনকে এখানে এনে আটকে রেখে নির্যাতন চালাতেন। তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে প্রকাশ্যে ফয়েজ চেয়ারম্যান হুমকি দিয়ে বলেন, আমার কাছে ৪৪টি পিস্তল আছে। চারটি সবসময় আমার কাছে থাকে। বাকি ৪০টি আমার লোকজন আমার নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করে। এ থেকে বোঝা যায়, সে একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।

উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তসলিম উদ্দীন জানান, ফয়েজ চেয়ারম্যান একজন সন্ত্রাসী। এর আগে সে সাবেক এমপি গোলাম রাব্বানির ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। বর্তমানে সে এমপি ডা. শিমুলের ছত্রছায়ায় রয়েছে। রুবেলসহ তিনজনকে অপহরণের ঘটনা জানানো হলেও এমপি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ঘটনা জানার পর তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে রুবেলের দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার দুঃসাহস দেখাতে পারত না ফয়েজ চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডাররা।

উজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুরুল হোদা জানান, গত ইউপি নির্বাচনে ভোট কারচুপি করে ফয়েজ চেয়াম্যান হয়েছে। তৎকালীন এমপি গোলাম রাব্বানী আর উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ ইরতিজা আহসান তাকে ভোট কারচুপি করে চেয়ারম্যান বানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। অথচ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের এমপি ডা. সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমুল জানান, একজন ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার সঙ্গে তার যতটুকু সম্পর্ক থাকা দরকার, তার চেয়ে বেশি কিছু নয়।

ঘটনার দিন রাতে আমি বিষয়টি জানার পর তাকে ওই তিন ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য কঠোরভাবে বলি। শুধু তা-ই নয়, তাদের বাড়ি পৌঁছে দিতেও বলি। এমনকি তাদের যেন কোনো প্রকার মারধর না করা হয়, সে কথাও বলি। ফয়েজ চেয়ারম্যান আমাকে কথা দেয় ছেলেগুলোকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি যে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

আমি বিষয়টি আঁচ করতে পারলে কখনও এমনটি হতে দিতাম না। এরকম জঘন্য অপরাধের কোনো ক্ষমা হতে পারে না। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমি তা করব।

বুধবার গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দীন ও তার ক্যাডাররা রুবেল হোসেন নামের এক যুবকককে তুলে নিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ তালপট্টি মোড় এলাকায় তার দুই হাতের কব্জি কেটে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এলাকাবাসী প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। রুবেল বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×