মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত : আকবর আলি খান

কোটা কখনও চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না

  বিবিসি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান বলেছেন, প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাদের সন্তানদের সুবিধা দেয়ার জন্য প্রথমে এ কোটা চালু করা হয়। এতে প্রথমে ৩০ শতাংশ কোটা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের জন্য এ কোটা প্রযোজ্য হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক আছে। তার মতে, কোটা কখনও চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না। কোটা একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আকবর আলি খান আরও বলেন, কোনো পুরস্কার হিসেবে এ কোটা ব্যবস্থা চালু হয়নি। দেশের অনগ্রসর মানুষকে সুবিধা দেয়ার জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং যারা সরকারের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন তাদের সন্তানদের জন্য কোটা রাখা যেতে পারে। কিন্তু যারা সচ্ছল, তাদের সন্তানদের কোটা দেয়া হলে তো পুরস্কার দেয়া হবে। এতে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সহায়তা করা হবে না।”

কোটা ব্যবস্থায় মেধাবীদের চাকরি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে আকবর আলী বলেন, সরকারি চাকরিতে এখন ২৫৮ ধরনের কোটা আছে। এ কারণে অনেক মেধাবী প্রার্থী চাকরির পরীক্ষা দিতে রাজি হন না। এমন অবস্থায় দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেয়ার পরও কোটা ব্যবস্থায় অনেক মেধাবী প্রার্থী চাকরি পাচ্ছেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাবেক সচিব আকবর আরও বলেন, ৬৪টি জেলার জন্য কোটা আছে। এরপর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতিসহ (ট্রাইবাল) নানা ধরনের কোটা আছে। তিনি বলেন, এগুলো তার কোনো আবিষ্কার নয়। বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্মস কমিশনের রিপোর্টে সুস্পষ্টভাবে ২৫৮ ধরনের কোটার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদে নারীদের জন্য যে আসন সেটা চিরস্থায়ী ভিত্তিতে করা হয় না। বলা হয়, আগামী ১৫ বছর কিংবা ২০ বছর এ ব্যবস্থা থাকবে। এরপর সেটাকে পুনর্মূল্যায়ন করে সময় ঠিক করা হয়। ১৯৭২ সালে চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এরপর এটার আর কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি।”

কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেয়া উচিত নাকি এটাকে কমিয়ে আনা উচিত? এমন প্রশ্নে আকবর আলি খান বলেন, সরকার তিনটি পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্মস কমিশন গঠন করেছিল। তিনটি কমিশনই সুস্পষ্টভাবে বলেছে, কোটা একেবারে তুলে দেয়া উচিত। তবে হঠাৎ করে কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দিলে এটা নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। নারী ও উপজাতি কোটা পুরোপুরি তুলে দেয়া ঠিক হবে না। তবে কোটা ব্যবস্থা প্রতি ৫ বছর পর মূল্যায়ন করা উচিত বলে তিনি পরামর্শ দেন। কোটা ব্যবস্থা চাকরিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter