যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র

নিজেকে শতভাগ সফল দাবি করব না

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিজেকে শতভাগ সফল দাবি করব না
সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের।

সাতকানিয়া পৌরসভার যাত্রা শুরু ২০০৩ সালে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভার আয়াতন ১২.৫ বর্গকিলোমিটার। এখানে ১ লাখের বেশি মানুষের বাস। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৮ হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৭০৮ জন। নারী ভোটার ১৬ হাজার ৯৪৩ জন। এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী রফিকুল আলমকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে সাড়ে তিন বছরে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন তিনি। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্য। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যেসব নাগরিক সুবিধা পাওয়ার কথা তা পৌরবাসী পাচ্ছেন না। এ নিয়ে পৌরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

সাতকানিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলামের অভিযোগ- ‘সাতকানিয়া পৌরসভা নামে আছে, কামে নেই। নাগরিক সুবিধা বলতে কিছু নেই। নানা সমস্যায় জর্জরিত এ পৌরসভা। নামকাওয়াস্তে দেয়া হচ্ছে কিছু কিছু নাগরিক সেবা। বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পৌর এলাকায় নেই কোনো বাসস্টেশন।’

সাতকানিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মাহফুজ-উন নবী খোকন বলেন, ‘পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। রাস্তা-ঘাটের অবস্থা বেহাল। প্রধান সড়কটির অবস্থাও বেহাল। পৌরসভাজুড়ে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নেই কোনো স্টেশন। পৌরসভা ‘এ’ ক্যাটাগরির হলেও নাগরিক সুবিধা ‘সি’ ক্যাটাগরিরও না। পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। পৌরসভায় এখনও দেখা যায় খোলা পায়খানা।’

অরেকজন পৌরবাসী বলেন, ‘যত্রতত্র গাড়ি পার্কি ও যাত্রী ওঠা-নামা করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পৌরসভার নিজস্ব কোনো ভবনই নেই। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। রয়েছে সন্ত্রাসী ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য। পৌরসভার বেশিরভাগ এলাকা অনুন্নত। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা হাজির হন। মেয়র নির্বাচিত হলে তারা প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যান।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র মো. জোবায়ের। তিনি বলেন, ‘মেয়র হিসেবে আমি শতভাগ সফল তা বলব না। তবে কাজ করে যাচ্ছি। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সাড়ে তিন বছরে তার অধিকাংশই বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। বাকিটা আগামী নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আশা করছি। এ কারণেই সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব এখনই করছি না। মেয়াদ শেষ হোক তারপর সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব করা যাবে।’

মেয়র বলেন, ‘সাতকানিয়া একটি নবীন পৌরসভা। পৌরসভার তৃতীয় মেয়র হলাম আমি। আগের মেয়ররা কেবল রুটিন কাজ করেছেন। তারা পৌরসভাকে দেনার ভারে জর্জরিত করেছেন। আমি এসব দায়দেনা পরিশোধ করেছি। সাড়ে তিন বছরে ১৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। ড্রেন নির্মাণ করায় পৌর এলাকায় এখন আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মীবাহিনী রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপন করেছি। দোকানপাটে ডাস্টবিন সরবরাহ করেছি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে একটি ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ময়লা-আবর্জনা ওই ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা যাবে। ২০ কিলোমিটার এলাকায় জরাজীর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের ব্যবস্থা করেছি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপন করেছি। মশক নিধনে ক্রাস প্রোগাম হাতে নেয়া হয়েছে।’

জোবায়ের বলেন, ‘আমি নির্বাচনী ইশতেহারে ‘বেটার সাতকানিয়া’ গড়ে তোলার কথা বলেছিলাম। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সাড়ে তিন বছরে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কাজ করেছি। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানসহ নানাভাবে সাহায্য করা হচ্ছে। পৌরসভার উদ্যোগে একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পৌরবাসীর ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেইনি। পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে পেরেছি। সেবা নিতে এসে পৌরবাসী হয়রানির শিকার হন না। চলমান ডেঙ্গু সমস্যা নিয়ে কাজ করছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে পৌরবাসীকে সচেতন করতে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্র্মসূচি পালন করছি। স্কুলে স্কুলে বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘দরিদ্র মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চার মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছি। এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যাচ বের হয়ে তারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়েছেন।’

মেয়র বলেন, ‘পৌরসভায় একটি বাসস্টেশন নির্মাণ করার জন্য তিনটি জায়গা নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। জায়গা তিনটি হল- ডলুব্রিজের পশ্চিম পাশে খাদ্য বিভাগের একটি জায়গা, ঘাটিয়াপাড়া জামে মসজিদের সামনের খালি জায়গা ও আনু ফকিরের দোকান সংলগ্ন খাস জায়গাটি।’

পৌর এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘পৌরসভার একার পক্ষে এসব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সামাজিক এসব অপরাধ দমনে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ পৌরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×