‘১৬৪ ধারার জবানবন্দি মনগড়া উপন্যাস’
jugantor
বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা
‘১৬৪ ধারার জবানবন্দি মনগড়া উপন্যাস’
আইনজীবীর সঙ্গে মিন্নির সাক্ষাৎ * মিন্নি দিন দিন বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছে : বাবা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘১৬৪ ধারার জবানবন্দি মনগড়া উপন্যাস’
হাইকোর্টে রোববার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ছবি: যুগান্তর

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিকে ‘মনগড়া উপন্যাস’ বলে অভিহিত করেছেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। মিন্নির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী পান্না বলেন, ‘সেটা তো একটা উপন্যাস’।

রোববার সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনে পান্নার চেম্বারে মিন্নি সাক্ষাৎ করেন। তার পা ছুঁয়ে মিন্নি সালাম করেন। এ সময় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী পান্না আরও বলেন, চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। চার্জশিটের কথা তো আগাগোড়াই বলছি, এটা (১৬৪ ধারার জবানবন্দি) তো একটা মনগড়া উপন্যাস। মূলত মূল আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে। নাথিং নিউ। এটি জজ মিয়া ও জাহালমের আরেকটা সংস্করণ। আদালতে মিন্নির দেয়া জবানবন্দির প্রকাশ সম্পর্কে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী পান্না বলেন, ‘দেখেছি। আমি তো কোর্টে বসেই সেটি দেখেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত যখন আমাদের দেখাতে বলেছিলেন তখন এক নজর দেখেছি। সেটা তো একটা উপন্যাস।’

আদালতকে সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি বলেছেন, ‘এত সুন্দর করে লেখা- যা চিন্তার বাইরে। সুস্থ মাথায় কেউ এত সুন্দরভাবে লিখতে পারে না।’ জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, আগেই করা হয়েছে। মিন্নি নিজে জেলখানা থেকে করেছেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তো পুলিশের কাছেই ছিল। পুলিশ ছাড়া তো আর এটা আসতে পারে না। এর আগে এটা গণমাধ্যমে এসেছে তা তো আমরা দেখেছি। আদালতে যাওয়ার আগেই এটা প্রকাশিত হয়েছে। এটা কি ঠিক হয়েছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক হয়নি। এটা আদালত অবমাননা।

সাংবাদিকদের মিন্নির বাবা কিশোর বলেন, আমাদের ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য হল সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে দেখা করে তার আইনি পরামর্শ নেয়া। এছাড়া মিন্নি অসুস্থ। রিমান্ডের নামে পুলিশের নির্যাতনের ভয়াবহতায় মিন্নি নানা জটিলতায় ভুগছে। তার হাঁটু ও বুকে ব্যথা। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ নেব। কিশোর আরও বলেন, জেলখানায় ব্যথার ওষুধ (পেইন কিলার) খাওয়ার পর মিন্নির প্রচণ্ড ক্ষতি হয়েছে।

মিন্নির কী ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে পেটানো হয়েছে। মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পুলিশ লাইনসে ধরে নেয়ার পর তাকে বসতে দেয়া হয়নি। সেখানে যতক্ষণ মিন্নি ছিল ততক্ষণ তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর রিমান্ডের আগে দেড়-দুইদিন তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তখন অজ্ঞান হয়ে দুই-তিনবার মিন্নি পড়ে যায়। তার ওপর বর্বর অত্যাচার করা হয়েছে। মাথায় পিস্তল ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ওর একান্ত চিকিৎসা প্রয়োজন, এজন্য আমাদের ঢাকায় আসা।’

মিন্নির বাবা কিশোর আরও বলেন, ‘পুলিশের নির্যাতনের কারণে মিন্নি রাতে এখনও ঘুমাতে পারে না। কিছুক্ষণ পরপর চিৎকার দিয়ে ওঠে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমও নেই। স্বাভাবিকভাবে কথাও বলে না। দিন দিন বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন মিন্নি শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওর কারণে আমরা কেউ ভালো নেই।’ এর আগে শনিবার বিকালে মিন্নি ও তার বাবা বরগুনার আমতলী থেকে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ওইদিন কিশোর বলেন, ঢাকায় তাকে চিকিৎসা করাব।

উল্লেখ্য, ২৬ জুন প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে জখম করা হয়। পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এর মধ্যে মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা হয়।

১৬ জুলাই সকালে বরগুনার মাইঠা এলাকায় বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ওই দিন রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। বিচারিক আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। জামিনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, মিন্নি তার বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে ছাড়া পান মিন্নি।

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা

‘১৬৪ ধারার জবানবন্দি মনগড়া উপন্যাস’

আইনজীবীর সঙ্গে মিন্নির সাক্ষাৎ * মিন্নি দিন দিন বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছে : বাবা
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
‘১৬৪ ধারার জবানবন্দি মনগড়া উপন্যাস’
হাইকোর্টে রোববার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ছবি: যুগান্তর

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিকে ‘মনগড়া উপন্যাস’ বলে অভিহিত করেছেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। মিন্নির সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী পান্না বলেন, ‘সেটা তো একটা উপন্যাস’।

রোববার সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনে পান্নার চেম্বারে মিন্নি সাক্ষাৎ করেন। তার পা ছুঁয়ে মিন্নি সালাম করেন। এ সময় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী পান্না আরও বলেন, চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। চার্জশিটের কথা তো আগাগোড়াই বলছি, এটা (১৬৪ ধারার জবানবন্দি) তো একটা মনগড়া উপন্যাস। মূলত মূল আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে। নাথিং নিউ। এটি জজ মিয়া ও জাহালমের আরেকটা সংস্করণ। আদালতে মিন্নির দেয়া জবানবন্দির প্রকাশ সম্পর্কে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী পান্না বলেন, ‘দেখেছি। আমি তো কোর্টে বসেই সেটি দেখেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত যখন আমাদের দেখাতে বলেছিলেন তখন এক নজর দেখেছি। সেটা তো একটা উপন্যাস।’

আদালতকে সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি বলেছেন, ‘এত সুন্দর করে লেখা- যা চিন্তার বাইরে। সুস্থ মাথায় কেউ এত সুন্দরভাবে লিখতে পারে না।’ জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, আগেই করা হয়েছে। মিন্নি নিজে জেলখানা থেকে করেছেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তো পুলিশের কাছেই ছিল। পুলিশ ছাড়া তো আর এটা আসতে পারে না। এর আগে এটা গণমাধ্যমে এসেছে তা তো আমরা দেখেছি। আদালতে যাওয়ার আগেই এটা প্রকাশিত হয়েছে। এটা কি ঠিক হয়েছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক হয়নি। এটা আদালত অবমাননা।

সাংবাদিকদের মিন্নির বাবা কিশোর বলেন, আমাদের ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য হল সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে দেখা করে তার আইনি পরামর্শ নেয়া। এছাড়া মিন্নি অসুস্থ। রিমান্ডের নামে পুলিশের নির্যাতনের ভয়াবহতায় মিন্নি নানা জটিলতায় ভুগছে। তার হাঁটু ও বুকে ব্যথা। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ নেব। কিশোর আরও বলেন, জেলখানায় ব্যথার ওষুধ (পেইন কিলার) খাওয়ার পর মিন্নির প্রচণ্ড ক্ষতি হয়েছে।

মিন্নির কী ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে পেটানো হয়েছে। মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পুলিশ লাইনসে ধরে নেয়ার পর তাকে বসতে দেয়া হয়নি। সেখানে যতক্ষণ মিন্নি ছিল ততক্ষণ তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর রিমান্ডের আগে দেড়-দুইদিন তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তখন অজ্ঞান হয়ে দুই-তিনবার মিন্নি পড়ে যায়। তার ওপর বর্বর অত্যাচার করা হয়েছে। মাথায় পিস্তল ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। ওর একান্ত চিকিৎসা প্রয়োজন, এজন্য আমাদের ঢাকায় আসা।’

মিন্নির বাবা কিশোর আরও বলেন, ‘পুলিশের নির্যাতনের কারণে মিন্নি রাতে এখনও ঘুমাতে পারে না। কিছুক্ষণ পরপর চিৎকার দিয়ে ওঠে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমও নেই। স্বাভাবিকভাবে কথাও বলে না। দিন দিন বিমর্ষ হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন মিন্নি শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওর কারণে আমরা কেউ ভালো নেই।’ এর আগে শনিবার বিকালে মিন্নি ও তার বাবা বরগুনার আমতলী থেকে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ওইদিন কিশোর বলেন, ঢাকায় তাকে চিকিৎসা করাব।

উল্লেখ্য, ২৬ জুন প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে জখম করা হয়। পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এর মধ্যে মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতার করা হয়।

১৬ জুলাই সকালে বরগুনার মাইঠা এলাকায় বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ওই দিন রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। বিচারিক আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। জামিনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, মিন্নি তার বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর ২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে ছাড়া পান মিন্নি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা