টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন: ঢাকার দুই সিটির ব্যর্থতায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গু

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। অকার্যকর ওষুধ কেনা, সঠিক কর্মপরিকল্পনা না থাকা, কীটনাশক কেনায় সরকারি নীতি অনুসরণ না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়- ঢাকার দুই সিটির সংশ্লিষ্টরা ওষুধ কেনায় সরকারি নীতি অনুসরণ করেনি। এছাড়া একই ওষুধ উত্তর সিটির চেয়ে দক্ষিণ সিটি বেশি দামে কেনায় ৪০ শতাংশ বা সাড়ে ছয় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। মশা নিধনের বিদ্যমান দুরবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য টিআইবি সরকারের কাছে ১৫ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনটির জন্য ২০ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

‘ঢাকা শহরে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গবেষক মো. জুলকার নাইন, মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা, জৈবিক ব্যবস্থাপনা, রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ ও যান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন শুধু রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকলেও বাকি পদ্ধতিগুলো সিটি কর্পোরেশন বা অন্যসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনায় ও বাজেটে রাখা হয় না।

বলা হয়, দুই সিটি কর্পোরেশন শুধু সাধারণ কিউলেক্স মশাকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায় হল মশার উৎস নির্মূল। কিন্তু এ বছর ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আগে এডিস মশার উৎস নির্মূলে কোনো কার্যক্রম নেয়া হয়নি।

দুই সিটি অধিকাংশ সময় অ্যাডাল্টিসাইড নির্ভর (পূর্ণবয়স্ক মশা নিধন) মশা নিধন কার্যক্রম চালিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে অ্যাডাল্টিসাইড (উড়ন্ত মশা নিধন) ৩০ শতাংশ এবং লার্ভিসাইড (মশার লার্ভা) ৮০ শতাংশ নিধন করা সম্ভব। অ্যাডাল্টিসাইডের চেয়ে লার্ভিসাইড এবং উৎস নির্মূল অনেক বেশি কার্যকর ও স্বল্প খরচের হলেও দুই সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম সব সময় অ্যাডাল্টিসাইডকেন্দ্রিক ছিল। টিআইবি বলছে, এ কার্যক্রমে কেনাকাটার সুযোগ বেশি এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে এডাল্টিসাইডে মানুষের নজর বেশি পড়ে।

কীটনাশক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গবেষণাকে আমলে না নিয়ে একই কীটনাশক বারবার কেনা হয়েছে। দুই সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এক সিটি কর্পোরেশনের কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাতিল করা কীটনাশক অন্য সিটি কর্পোরেশন কিনেছে।

টিআইবি জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সরকারি প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে প্রতি লিটার কীটনাশক ৩৭৮ টাকায় সরাসরি কেনার কার্যাদেশ দেয়ায় প্রতি লিটার কীটনাশক কেনার ক্ষেত্রে ১৬১ টাকা ক্ষতি হয়েছে। সংস্থাটি লিমিট এগ্রো প্রোডাক্ট নামে যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ কীটনাশক কিনেছে সেই একই প্রতিষ্ঠান উত্তর সিটির উন্মুক্ত দরপত্রে প্রতি লিটারের দর ২১৭ টাকা প্রস্তাব করে।

টিআইবি গবেষণায় দেখেছে, সক্ষমতার ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতর শুধু ঢাকার সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৪১টির তথ্য সংকলন করে। রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলো থেকে পরীক্ষায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হয়নি তাদের তথ্য সংকলন করা হয়নি। অথচ ঢাকায় বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ছয় শতাধিক এবং রোগ নির্ণয়কেন্দ্রিক প্রায় এক হাজার। গুটিকয়েক হাসপাতালের এ খণ্ডিত পরিসংখ্যান দিয়ে অন্য দেশের ডেঙ্গু আক্রান্তের হারের সঙ্গে তুলনা করে ডেঙ্গু মাত্রা কম দেখানো হচ্ছে।

টিআইবি বলছে, জাতীয় পর্যায়ে রোগ সংক্রামক কীট নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা কৌশল নেই। তবে রোগ সংক্রামক কীটের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাড়াতে জাতীয় কৌশলের খসড়া তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৭ সালে, যা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো সিটি কর্পোরেশনের কীট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নেই।

এতে বলা হয়, মশক নিধন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ জনগণের ওপর দায় চাপিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া দুই সিটিতে গড়ে ওয়ার্ডপ্রতি পাঁচজন মশক নিধন কর্মী রয়েছে, যা খুবই অপ্রতুল। এলাকার আয়তন বিবেচনায় নিয়ে মশক নিধন কর্মী বণ্টন করা হয় না। এছাড়া কর্মীদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ভয়ংকর ডেঙ্গু

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×