বঙ্গবন্ধুর কর্মীদের কলুষমুক্ত থাকতে হবে : তোফায়েল আহমেদ

সিলেট আ’লীগের বর্ধিত সভায় হট্টগোল

  সিলেট ব্যুরো ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তোফায়েল আহমেদ

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশেরই নেতা ছিলেন না, তিনি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মতো দয়ালু ও হৃদয়বান নেতা বিরল।

একসময় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ আমরা বাজাতে পারতাম না। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই মহান নেতার কর্মী আমরা।

আমাদের কলুষ ও কলঙ্কমুক্ত থাকতে হবে। বুধবার সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ ও আহমদ হোসেন।

উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগরের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, অধ্যাপক রফিকুর রহমান, শামীমা শাহরিয়ার এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুসফিক হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। সভায় জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতারা অংশ নেন। সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘উন্নয়ন হলে দুর্নীতিও হয়। বঙ্গবন্ধুর সময় আমরা রফতানি করেছি ৩শ’ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে হচ্ছে ৪৬ বিলিয়ন। আর ২০২১ সালে হবে ৬০ বিলিয়ন ডলার।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় কাউন্সিলে কেবল সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়। এরকম হলে অনেক ধান্দাবাজি হয়। ঝামেলা হয়। এগুলোকে প্রশ্রয় দেয়া ঠিক না। তাই একসঙ্গেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা উচিত। অপূর্ণাঙ্গ কমিটি করে রাখা ঠিক না।’

সভায় সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সিলেটের যে কয়টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিটি নেই সেগুলো করতে হবে।

পরবর্তীতে উপজেলাগুলোর সম্মেলন করে নভেম্বরে জেলার সম্মেলন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে সিলেটে যে কয়টি কমিটির কথা শুনে গিয়েছিলাম, ২০১৯ সালেও এসে শুনি সেগুলোই রয়েছে। নতুন করে কোনো ইউনিটে কমিটি হয়নি। এটা অবশ্যই ব্যর্থতার পরিচয়। দায়িত্বশীলদের উচিত ছিল এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করা। হানিফ বলেন, সিলেটে যে কয়বার সভা করতে আসি, শুনি আপনারা ঐক্যবদ্ধ হবেন। কিন্তু আজও আপনারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারেননি। যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেন তাদের দলে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।’

চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্রিডমপার্টি-যুবদল করে কোন নেতার পিছু নিয়ে যুবলীগে এসেছে খালেদ ভূঁইয়া। মির্জা আব্বাস মন্ত্রী থাকাকালে টেন্ডারের অধিপত্য বিস্তার করে জি কে শামীম। তারা (বিএনপি নেতারা) বলে জি কে শামীম আওয়ামী লীগের বড় নেতাদের মাসোয়ারা দেয়। কিন্তু জি কে শামীমের ডায়েরিতে মির্জা আব্বাস ও মির্জা ফখরুলের নামও রয়েছে।’

সভায় বিভিন্ন উপজেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। মাহবুবউল আলম হানিফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর আমরা দলের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে কেন্দ্রে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম, আজও তার কোনো সুরাহা হয়নি।

এ জন্য দলের আজ এই অবস্থা। তারা বলেন, শুধু দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নয়, মাঝেমধ্যে দলেও শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×