যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

বাস্তবায়ন করেছি অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি: ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র

  আবুল কালাম আজাদ, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাস্তবায়ন করেছি অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি: ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র

ময়মনসিংহ শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার পূর্বে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার অবস্থান। ১৯৯৭ সালের ৭ অক্টোবর এই পৌরসভার যাত্রা শুরু।

৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির অবস্থান ১২ দশমিক ৪১ বর্গকিলোমিটার। এখানে ৩৮ হাজার লোকের বাস। মোট ভোটার ২১ হাজার ৩৮১ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৭০৯ জন ও নারী ভোটার ১০ হাজার ৬৭২ জন। ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছাত্তার। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাবিবুর রহমানকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।

দায়িত্ব পালনের সাড়ে তিন বছরে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, বাজার উন্নয়ন, নলকূপ স্থাপনসহ উন্নয়নমূলক অনেক কাজ তিনি করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় নাগরিকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তা পৌরবাসী পাচ্ছেন না। এ নিয়ে অনেকের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক জাটিয়া ইউপির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হলুদের অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ছাত্রীরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়। প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে রাস্তার দু’পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে।

কিন্তু এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী একেএম আবদুল্লাহ মঞ্জু বলেন, পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র কাঁচামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের পাশে ময়লা ফেলায় নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানি দূষিত হচ্ছে।

বাড়ছে জনদুর্ভোগ। সময়মতো শহরের ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধে লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, বর্তমান মেয়রের আমলে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। তবে যানজট সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। ময়লা রাখার নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করতে পারেননি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের জবাব ও নিজের সফলতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র আবদুস ছাত্তার। তিনি বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৌরবাসীর সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি একটি আধুনিক পৌরসভা গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে শহরে ৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ, ৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার, ২ কিলোমিটার নতুন গাইড ওয়াল নির্মাণ, ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার ড্রেন, ৩৫টি ইউড্রেন, বাজার উন্নয়নে ৪০টি দোকানঘর, ৩৫টি ডাস্টবিন, ১৫টি কমিউনিটি টয়লেট ও ১০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছি। এ ছাড়া ২ হাজার ৫০টি নলকূপ স্থাপন করেছি। পৌরসভায় শতভাগ স্যানিটেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, পানি সরবরাহ ও ড্রেন ব্যবস্থার উন্নয়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে ৪৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৩০ কিলোমিটার পানি সরবরাহ পাইপলাইন এবং সাড়ে ৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মিত হবে। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে আরও একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শহরের যানজট নিরসন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এই সমস্যা সমাধানে শহরে বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড নির্মাণ করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যে কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নেয়া উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রতিমাসে শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন কাউন্সিলররা। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

মেয়র আবদুস ছাত্তার বলন, পৌরসভার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সদা চেষ্টা করে চলেছি। নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতির সিংহভাগই বাস্তবায়ন করেছি। বাকি সমস্যা আগামী নির্বাচনের আগেই শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোষিত মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমি এলাকার মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×