উন্নয়নে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছি: যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র

  খোরশেদুল আলম মুজিব, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উন্নয়নে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছি: যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষা৥কারে ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র
মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৯৮ সালের ৫ মে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠত পৌরসভাটির আয়তন ১৫.৪৯ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় ৪৫ হাজার লোকের বাস। ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার। এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন এবিএম আনিছুজ্জামান।

২০১১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নিয়ে তিনি উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। আগের মেয়াদেও তিনি ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেন।

জমি সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে প্রতিমাসে দুইদিন শুনানির আয়োজন করে সমস্যার সমাধান করছেন। এ কারণে পৌরবাসীর কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা। যদিও কিছু সমস্যার সমাধান তিনি এখনও করতে পারেননি।

আবুল খায়ের নামে একজন পৌরবাসীর অভিযোগ, ‘প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যেসব নাগারিক সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা তা এখানে নেই। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য এখানে উপযুক্ত পৌর অডিটোরিয়াম নেই। শিশুদের জন্য বিনোদনের জন্য পার্ক নেই। নিয়ন্ত্রণহীন অটোবাইক ও যেখানে-সেখানে রিকশা দাঁড়ানোয় শহরে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই শহরে। ময়লা- আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই।’

এসব অভিযোগের জবাব দিতে এবং নিজের সফলতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবিএম আনিছুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগসহ নাগরিক সুবিধার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। নির্বাচনের সময় দেয়া প্রতিশ্রতির প্রায় ৮০ ভাগ বাস্তবায়ন করেছি। কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। ময়লা-আবর্জনার জন্য স্থায়ী কোনো জায়গা করতে পারিনি। নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় শহরের প্রবেশপথে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হচ্ছে। অর্থাভাবে সুতিয়া নদীর দুই পারের সৌন্দর্য বর্ধন করতে পারছি না। এসব সমস্যা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।’

মেয়র বলেন, ‘যা করেছি জনগণের মতামত নিয়েই করেছি। সামনে যা করব তাও পৌরবাসীর মতামত নিয়েই করব।’

উন্নয়ন কাজ পেতে টেবিলে টেবিলে ঘুষ দিতে হয়- এমন অভিযোগের বিষয়ে মেয়র আনিছ বলেন, ‘এ অভিযোগ ঠিক না। ত্রিশাল পৌরসভায় কোনো দুর্নীতি নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পৌরসভায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নেই। তবে পৌর এলাকাকে এখনও মাদকমুক্ত করতে পারিনি। যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষায় পৌরসভার উদ্যোগে খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করতে পারব।’ শিক্ষার ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে পানি ও বিদ্যুৎসেবা দিয়ে থাকি। গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৌর তহবিল থেকে সহায়তা করছি। পৌরসভা থেকে বিনা পয়সায় বিভিন্ন ধরনের টিকা সরবরাহ করা হেচ্ছ।’

পৌরসভার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র আনিছুজ্জামান বলেন, ‘আমি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করি। পৌরসভার সার্বিক চিত্র পাল্টে দিতে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পেলে একটি মডেল পৌরসভা উপহার দিতে পারব।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×