যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয় তবে চেষ্টা করছি: গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র

  মো. রইছ উদ্দিন, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সৈয়দ রফিকুল ইসলাম
সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। ছবি: যুগান্তর

গৌরীপুর পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ৮.৭৭ বর্গকিলোমিটার। এখানে ৭৫ হাজার ১৩৭ জন লোকের বাস। মোট ভোটার ২১ হাজার ৭৫৬ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৯৭৭ জন এবং নারী ভোটার ৯ হাজার ৭৮০ জন। এটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম হবিকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন। সাড়ে তিন বছরে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ তিনি করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় যেসব নাগারিক সুবিধা থাকার কথা তা এখানে নেই।

গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, পৌরসভায় জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও শিশুদের জন্য কোনো বিনোদন পার্ক নেই। গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকিরের অভিযোগ, শহরে মানুষ বাড়ছে। কিন্তু বিকল্প সড়ক নির্মাণ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র আইনজীবী আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে কর বেড়েছে, কিন্তু সেবা বাড়েনি। গৌরীপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ম. নূরুল ইসলাম বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের জবাব এবং নিজেদের সাফল্যের কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে একটি ঋণগ্রস্ত পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করি। সেই ঋণ পরিশোধ করতেই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করেছি। পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেছি।

মেয়র বলেন, ঝলমল সিনেমা হল রোড থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত আরসিসি ড্রেনসহ রাস্তা, আকবর আলী সড়ক থেকে নিমতলী মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়ক ও গোলকপুর মহিলা মাদ্রাসায় যেতে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গৌরীপুর সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে মাছুয়াকান্দা হয়ে নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত আরেকটি বিকল্প রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ রাস্তা নির্মাণ হলে শহরে যানজট থাকবে না।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছর ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো হল- পৌর গোরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন, যানজট নিরসনের জন্য উত্তরবাজার ও নিমতলীতে গোলচত্বর নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ। পৌরবাসীর মতামতের ভিত্তিতেই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছি। আগামী নির্বাচনের আগে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ৪শ’ পরিবারকে বিনা মূল্যে পানি সরবরাহ করা হবে।

মেয়র বলেন, সিনেমা হল থেকে নতুনবাজার হয়ে স্টেশন রোড এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার করে এসব ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ করে দেয়া হয়েছে। ফলে এসব এলাকায় বর্ষার সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। শহরের প্রত্যেকটি সড়কে বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাস্তায় আলো থাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা কমেছে। এ ছাড়াও পৌরসভার ইসলামাবাদ, মাছুয়াকান্দা, শান্তিবাগ, বালুয়াপাড়া, পূর্ব দাপুনিয়ায় ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একটি শিশু পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু অর্থাভাবে সেটি করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, গৌরীপুর এখন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি শহর। মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছি। পৌরসভার নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। একটি পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপনে পৌরসভা থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এডিস মশার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পৌরসভার কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে নিজে মাঠে কাজ করেছি।

মেয়র আরও বলেন, মানুষ মাছবাজারে যেতে পারত না। সবজিবাজারের কারণে শহরে যানজট লেগে থাকত। এ সমস্যা সমাধানে মাছবাজার, সবজিবাজার, মাংসের দোকানের জন্য পৃথক শেড নির্মাণ করে দিয়েছি।

বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটি অচিরেই চালু হবে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমার সময় পৌরভবনে কোন দুর্নীতি-অনিয়ম হয়নি। একাধিকবার বেনামে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

শিক্ষার মান উন্নয়নের নেয়া উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করছি। গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাসরুমের সংকট ছিল। বাথরুম ছিল না। শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। এসব সমস্যার সমাধান করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরবাসীর সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে আয় ও আর্থিক সক্ষমতা যতটুকু আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×