মডেল পৌরসভার জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি: বরুড়া মেয়র

  তাবারক উল্ল্যাহ কায়েস, কুমিল্লা ব্যুরো ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জসিম উদ্দিন

কুমিল্লা জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বরুড়া পৌরসভা। ২৪টি গ্রাম ও ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৯৯৫ সালের ১ আগস্ট পৌরসভার যাত্রা শুরু হলেও পৌরবাসী নির্বাচিত মেয়র পান ১৯৯৯ সালের মার্চে। পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মোবারক হোসেন। ৩০ হাজার ৯৬৯ ভোটার অধ্যুষিত বরুড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

আগের দফায়ও তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ‘গ’ ক্যাটাগরির পৌরসভা নিয়ে এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এটি ‘খ’ শ্রেণির মর্যাদা ভোগ করছে। আগামী দিনে এটিকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় পরিণত করার নিরলস চেষ্টা করছেন মেয়র জসিম উদ্দিন। টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা আলোকিত করা, পয়ঃনিষ্কাশন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা, ৮০ ভাগ পৌরকর আদায়, ৯৭ ভাগ জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করাসহ অনেক উন্নয়ন কাজ হলেও এখনও অনেক বাকি।

পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা ভোগ করলেও নাগরিকরা সে অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন না। নেই পৌর এলাকায় পার্ক, খেলার মাঠ, পানি শোধনাগার, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট ও ডাস্টবিন। অধিকাংশ সড়কে নেই বৈদ্যুতিক বাতি ও ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান। পৌর শহরের ভেতরে গাড়ির দীর্ঘ সারি, অসহনীয় যানজটের ভোগান্তি তো আছেই।

নাগরিক সুবিধা নিয়ে কথা হয় ৩নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী জাফর উল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ব্যবসা করার ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি ও হয়রানি না থাকলেও যানজটের দুর্ভোগ আমাদের জন্য সত্যিই কষ্টের। এখানে পৌর কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে। মো. ইলিয়াছ আহমদ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, অন্য পৌরসভার তুলনায় বরুড়া পৌরসভার উন্নয়ন অনেকটাই কম। ৮নং ওয়ার্ডের মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, পৌর এলাকায় অনেক সড়ক এখনও পাকা হয়নি, বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এছাড়া পানি নিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতিসহ অবকাঠামোগত অনেক সুবিধাই আমরা পাই না।

এসব দুর্বলতার জবাবে মেয়র বলেন, আমার এলাকায় টেন্ডারবাজি ছাড়াই সব ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো দল বা গোষ্ঠী আমার কাছে বিবেচ্য নয়। পৌরবাসীকে নাগরিক সেবা দিতে পেরে আমি তৃপ্ত। আমার এলাকায় কবরস্থান ছিল না, আমি করেছি। পৌর মার্কেট করার চেষ্টা করছি। আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। মেয়র জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ভোটের আগে সবাইকে নিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে মিলেমিশে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমার মনে হয়, সেটা আমি করতে পেরেছি।

যারা আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য আসেন, তাদের সবার সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করি। তবে পৌর মার্কেট ও পৌর পার্ক নির্মাণ, বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য জমি ক্রয়, শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখাসহ এই পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় পরিণত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভাবে করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, স্থানীয় নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে না হওয়াই ভালো। দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা গড়ে তোলা নিয়ে মেয়র বলেন, ঘুষ-দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। আমার পৌরসভার কেউ এসব কাজে জড়িত নেই। জলাবদ্ধতা এবং জমি দখল নিয়ে মেয়র বলেন, আমার পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে অকে কাজ হয়েছে। বরাদ্দ পেলে এই খাতে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। মেয়র বলেন, আমার পৌরসভায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক বেচাকেনার কোনো সুযোগ নেই। মাদকবিরোধী অভিযানের পর এসব অপরাধমূলক কাজ নেই বললেই চলে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি বলেন, আমার এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় করা হচ্ছে। গরিব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রমও চালু রয়েছে। পৌরসভা থেকে অর্ধেক মূল্যে কুকুরের কামড়ের জন্য ভেকসিন দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বেওয়ারিশ কুকুর নিধন কার্যক্রমও চালু রয়েছে। তিনি বলেন, পৌরসভাটি আগে ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত ছিল, অনেক আগেই ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। এটিকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছি।

আগামী নির্বাচন নিয়ে মেয়র বলেন, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এটিকে আধুনিক পৌরসভায় পরিণত করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে পৌরবাসী যদি আমাকে ফের মেয়র নির্বাচিত করে, তাহলে পৌরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা শতভাগ পূরণ হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×