শান্তিতে নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ
jugantor
শান্তিতে নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ

ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী। নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে শততম নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে আবির নাম ঘোষণা করে।

ইথিওপিয়ার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি এ পুরস্কার পেলেন। ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে ৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদের হাতে পুরস্কারের সার্টিফিকেট, স্বর্ণের মেডেল ও ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার তুলে দেয়া হবে। এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২২৩ ব্যক্তি ও ৭৮টি সংগঠনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। আবি আহমেদকে পুরস্কার দেয়ার কারণ হিসেবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বলেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষত, প্রতিবেশী ইরত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত সংঘাত বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ায় তাকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রিস-অ্যান্ডারসেন বলেন, পাশাপাশি আবি আহমেদ সুদান, কেনিয়া এবং সোমালিয়ায়ও শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় ভূমিকা রেখে চলছেন। এ পুরস্কার শুধু আবির একার নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা ইথিওপিয়ায় বাকি কর্তা ব্যক্তিদেরও। আবির সামনে এখনও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষাসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে নোবেল কমিটি।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়া সীমান্তে যুদ্ধ হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিরাজ ও সীমান্তে সেনা মোতায়েন ছিল। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের উদ্যোগের কারণে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়, নিরসন হয় ২০ বছরের অচলাবস্থার। সেনাবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবি ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। আবি নিগৃহীত অরম জাতিগোষ্ঠীর নেতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতেও ভূমিকা রেখেছেন আবি। দেশটির মন্ত্রিপরিষদের অর্ধেক নারী নিয়োগ দেয়াসহ প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এসেছে তার সময়ে। ২০২০ সালে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়াসহ ‘নতুন ইথিওপিয়া’ উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবি। বহুধা বিভাজিত দেশটির সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সমতা আনার কথাও বলেছেন তিনি।

এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য সুইডেনের ১৬ বছর বয়সী পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানব্যার্গ আলোচনায় ছিলেন। তার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট বলেন, যিনি কখনও নোবেল পাননি বা বাজিকররা যাদের নিয়ে বাজি ধরে, তাদের নিয়ে আমরা কখনও মন্তব্য করি না।

১৪ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। সোমবার থেকে যথাক্রমে চিকিৎসা, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম জানানো হয়।

শান্তিতে নোবেল পেলেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ

 যুগান্তর ডেস্ক 
১২ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। ফাইল ছবি

ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী। নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে শততম নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে আবির নাম ঘোষণা করে।

ইথিওপিয়ার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি এ পুরস্কার পেলেন। ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে ৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদের হাতে পুরস্কারের সার্টিফিকেট, স্বর্ণের মেডেল ও ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার তুলে দেয়া হবে। এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ২২৩ ব্যক্তি ও ৭৮টি সংগঠনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। আবি আহমেদকে পুরস্কার দেয়ার কারণ হিসেবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বলেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষত, প্রতিবেশী ইরত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত সংঘাত বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ায় তাকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রিস-অ্যান্ডারসেন বলেন, পাশাপাশি আবি আহমেদ সুদান, কেনিয়া এবং সোমালিয়ায়ও শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় ভূমিকা রেখে চলছেন। এ পুরস্কার শুধু আবির একার নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা ইথিওপিয়ায় বাকি কর্তা ব্যক্তিদেরও। আবির সামনে এখনও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষাসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে নোবেল কমিটি।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়া সীমান্তে যুদ্ধ হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিরাজ ও সীমান্তে সেনা মোতায়েন ছিল। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের উদ্যোগের কারণে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয়, নিরসন হয় ২০ বছরের অচলাবস্থার। সেনাবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবি ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। আবি নিগৃহীত অরম জাতিগোষ্ঠীর নেতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতেও ভূমিকা রেখেছেন আবি। দেশটির মন্ত্রিপরিষদের অর্ধেক নারী নিয়োগ দেয়াসহ প্রথম নারী প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এসেছে তার সময়ে। ২০২০ সালে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়াসহ ‘নতুন ইথিওপিয়া’ উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবি। বহুধা বিভাজিত দেশটির সব জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় সমতা আনার কথাও বলেছেন তিনি।

এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য সুইডেনের ১৬ বছর বয়সী পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানব্যার্গ আলোচনায় ছিলেন। তার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট বলেন, যিনি কখনও নোবেল পাননি বা বাজিকররা যাদের নিয়ে বাজি ধরে, তাদের নিয়ে আমরা কখনও মন্তব্য করি না।

১৪ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। সোমবার থেকে যথাক্রমে চিকিৎসা, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম জানানো হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন