যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি: দাগনভূঞা পৌর মেয়র

  মো. আবু তাহের, দাগনভূঞা ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি: দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র
ছবি: যুগান্তর

নোয়াখালীর দাগনভূঞা পৌরসভার যাত্রা শুরু ২০০০ সালে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভাটির আয়তন ১৩ বর্গকিলোমিটার। এখানে ৭০ হাজার ৫৭২ জন লোকের বাস। মোট ভোটার ২৫ হাজার ৩২৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৯০৭ জন। নারী ভোটার ১১ হাজার ৪১৯ জন।

২০১১ সালে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। বর্তমানে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ওমর ফারুক খান।

২০১৫ সনের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির প্রার্থী কাজী সাইফুর রহমান স্বপনকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের জন্য মেয়র নির্বাচিত হন।

দায়িত্ব নিয়ে তিনি রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, সড়ক বাতি স্থাপন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুতের সাবস্টেশন স্থাপনসহ উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও শিশুদের জন্য বিনোদনের পার্ক নেই।

অপরিকল্পিতভাবে দোকান ও বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। কাঁচাবাজারের পরিবেশ নোংরা। মাদকাসক্ত ও বখাটেদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। অর্থাৎ একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তা এখানে নেই।

এসব অভিযোগের জবাব ও নিজের সফলতার কথা জানাতে যুগান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন পৌর মেয়র ওমর ফারুক খান।

তিনি বলেন, ‘পৌরসভার সব রাস্তা সংস্কার ও পাকা করেছি। জিরো পয়েন্ট থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। সব সড়কে বাতির ব্যবস্থা করেছি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছি। কৃষ্ণ রামপুরে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুতের সাবস্টেশন স্থাপন করেছি। জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সুপেয় পানির ব্যবস্থার জন্য ওয়েস্ট রি-সাইক্লিন ওয়াটার প্রজেক্টের জন্য ৪৪ কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছি।

দাগনভূঞার দুঃখ দাদনা খাল জবরদখলমুক্ত ও সংস্কার করেছি। উপজেলা চত্বরে বিজয় স্তম্ভ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছি। পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। পৌর এলাকায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ ও আতাতুর্ক মডেল হাইস্কুলকে জাতীয়করণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছি।

পৌর মার্কেট নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা-সমাবেশ করছি। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে পৌরবাসীকে রক্ষা করতে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করছি আগামী নির্বাচনের আগে মাদকমুক্ত পৌরসভা উপহার দিতে পারব।’

বিনোদন পার্ক না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাষা শহীদ সালাম নগরের পাশে সাড়ে ৮ একর জায়গা নিয়ে শহীদ সালামের নামে শিশুপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। জায়গা অধিগ্রহণের পদক্ষেপও নিয়েছিলাম। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে পার্ক নির্মাণ করতে পারিনি। তবে হাল ছাড়িনি। পার্ক নির্মাণ করব।’

পৌরসভায় ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘এ অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল আমার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে চা-দোকানে সস্তা অভিযোগ করছে। বাস্তবতার সঙ্গে এর মিল নেই। পৌরসভায় দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হয়েছে। সবকিছুই এখানে নিয়মমতো হয়।’

তিনি বলেন, ‘পৌরশহরের জিরো পয়েন্টে অত্যাধুনিক মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু অশুভ শক্তি ওই জায়গা নিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় মসজিদটি নির্মাণ করতে পারছি না।

পৌর এলাকায় গো-জবাইয়ের স্থান, আরও একটি পৌর মার্কেট নির্মাণ এবং সড়কগুলো প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, দাদনার খাল খনন করে লেকে রূপান্তর, যানজট নিরসনে সড়কে ডিভাইডার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

মেয়র বলেন, ‘পৌরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শহরে জলাবদ্ধতা থাকবে না।’

ফারুক খান বলেন, ‘একটি অত্যাধুনিক ও মডেল পৌরসভা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। পৌর এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মানুষ একটি সমৃদ্ধ শহর পাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের কল্যাণে কিভাবে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হয় তা আওয়ামী লীগ থেকে শিখেছি। আর সে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি বলেই পৌরবাসী আস্থা রেখে আমাকে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত করেছেন। মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন সেবা পাওয়ার জন্য। তাই দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×