বাঙালিসহ তিনজন পেলেন অর্থনীতির নোবেল

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিজিৎ বিনায়ক, এস্তার ডুফলো ও মাইকেল ক্রেমার
অভিজিৎ বিনায়ক, এস্তার ডুফলো ও মাইকেল ক্রেমার। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, তার স্ত্রী ফরাসি-মার্কিন নাগরিক এস্তার ডুফলো ও মার্কিন নাগরিক মাইকেল ক্রেমার অর্থনীতিতে এ বছরের নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস সোমবার নোবেলজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করে। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী দ্বিতীয় বাঙালি অভিজিৎ।

১৯৯৮ সালে তারই শিক্ষক অমর্ত্য সেন অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন। এছাড়া বাঙালি হিসেবে ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে ও ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দারিদ্র্যবিমোচনের পথ খুঁজতে উন্নয়ন অর্থনীতির গবেষণার ধরন বদলে দিয়ে নোবেল পুরস্কার পেলেন ওই তিন অর্থনীতিবিদ।

নোবেল পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা ভাগ করে নেবেন তারা। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবারের নোবেল পুরস্কারের সমাপ্তি ঘটল। এর আগে যথাক্রমে চিকিৎসা, পদার্থ, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার মোট ১৪ জন নোবেল পুরস্কার পেলেন। এছাড়া ২০১৮ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ীর নামও এবার ঘোষণা করা হয়।

১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ভারতীয়-মার্কিন নাগরিক অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) শিক্ষকতা করছেন। তার স্ত্রী একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিজিতেরই অধীনে পিএইচডি গবেষণা করেছেন।

অপর অর্থনীতিবিদ ক্রেমার পড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে। এদের মধ্যে ৪৬ বছর বয়সী ডুফলো সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে নোবেল জয়ের রেকর্ড গড়লেন। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী দ্বিতীয় নারীও তিনি। ২০০৯ সালে এলিনর ওসট্রম অর্থনীতিতে নোবেল জিতেছিলেন। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের বিষয়ে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি বলছে, বৈশ্বিক দারিদ্র্যদূরীকরণে পরীক্ষামূলক গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য তাদের এই পুরস্কার।

মাত্র দুই দশকে তাদের গবেষণা পদ্ধতির উন্নয়ন অর্থনীতির রূপরেখা বদলে দিয়েছে। তারা দেখিয়েছেন, দারিদ্র্যের সমস্যাটি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো আরও ক্ষুদ্র ও সূক্ষ্মভাবে ভাগ করে সহজভাবে সমাধান করা যায়। অভিজিৎ ও ডুফলোর পরীক্ষামূলক প্রকল্পে ভারতে ৫০ লাখ শিশু সুবিধা পেয়েছে।

আরও অনেক দেশে তাদের পদ্ধতির সুফলতা মিলেছে। ক্রেমার ও তার দলের পদ্ধতি কেনিয়ার স্কুলগুলোয় সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে তাদের পদ্ধতি বৈশ্বিক দারিদ্র্যদূরীকরণে সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে।

১৯৬১ সালে মুম্বাইয়ে জন্ম অভিজিতের। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়ালেখার পর ১৯৮১ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। সেই বছরই স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনফরমেশন ইকোনমিক্সে পিএইচডি অর্জন করেন।

২০১৫-পরবর্তী ডেভলপমেন্ট এজেন্ডা কর্মসূচিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশিষ্ট প্রতিনিধি প্যানেলে ছিলেন অভিজিৎ। তার ‘পুওর ইকোনমি’ বইটি গোল্ডম্যান স্যাকস বিজনেস বুক সম্মানে ভূষিত হয়। ২০০৩ সালে অভিজিৎ, ডুফলো ও সেন্ধিল মুল্লাইনাথান মিলে ‘আবদুল লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাব’ গড়ে তুলেন। মূলত এর অধীনে গবেষণার জন্যই পুরস্কার পেলেন তারা। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০১৫ সালে ডুফলোকে বিয়ে করেন অভিজিৎ।

ঘটনাপ্রবাহ : নোবেল পুরস্কার ২০১৯

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×