যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

আমার আমলে চাঁদা ছাড়াই মানুষ ব্যবসা করছে: শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র

  সৈয়দ সালাউদ্দিন, শ্রীমঙ্গল ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র

চা বাগান ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যই মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রধান আকর্ষণ। ১৯৩৫ সালে ২ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি। ৩০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৭৮৩।

পৌরসভাটি ২০০২ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। জেলা বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু ২০১১ সালে আপন চাচা আহাদ মিয়াকে হারিয়ে মেয়র হন। সীমানা জটিলতায় আটকা পড়ে ২০১৫ সালের নির্ধারিত নির্বাচন। ফলে গত ৮ বছর ধরেই মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন মহসিন মিয়া। এর আগে ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে তিনিই মেয়র হন।

মেয়র বলেন, আমার আমলে চাঁদা না দিয়েই মানুষ নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছে এবং মেয়র হিসেবে আমি আমার প্রতিশ্রুতির শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আগামী নির্বাচনে মূল্যায়নের ভার জনগণের ওপর।

বর্তমান মেয়রের আমলে পৌরসভায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নতুন বাজার উন্নয়ন, ফুটপাত ও আধুনিক অডিটরিয়াম, সাইফুর রহমান মার্কেট নির্মাণ, ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো পুকুর সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন, শহরের মোড়ে মোড়ে দৃষ্টিনন্দন স্কাল্পচার স্থাপন ও পৌরভবনের আধুনিকায়নসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নাগরিক সেবা বিশেষ করে ভবনের নকশা অনুমোদন, পানি সংযোগ, জন্ম-মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স পেতে হয়রানির বিষয়টি নাগরিকদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে আছে আজও।

চা বাগান ও সবুজে ঘেরা এ পৌরসভার সড়ক যোগাযোগ, সড়ক বাতি, ড্রেনের ময়লা অপসারণ, ফুটপাত দখল, যানজট নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে বর্র্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পৌরবাসীর ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। শহর থেকে বর্জ্যরে ভাগাড় সরাতে ছাত্র-জনতা কয়েক দফা রাস্তায় নামলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

ময়লার এই ভাগাড়ই এখন পৌরবাসীর জন্য প্রধান সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শহরের বেশির ভাগ ফুটপাত এখন বেদখল। এ নিয়ে পৌর মেয়রের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। পৌরসভার ভেতরে অবস্থিত মৌলভীবাজার সড়ক, হবিগঞ্জ সড়ক ও শমসেরনগর সড়কের মালিক সড়ক ও জনপদ অধিদফতর।

সড়ক ৩টি বছরের পর বছর ধরে ভাঙাচোরা। সাধারণ মানুষের দাবি সড়কগুলো পৌরসভার অধীনে না এলে দুর্ভোগ কমবে না। শহরের কোথাও ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলে রাখা হয় সড়কের ওপর। ফলে সহজেই নগরীটি নোংরা হয়ে পড়ছে।

কথা হয় স্থানীয় খোলা চিঠির পত্রিকার সম্পাদক সরফরাজ আলী বাবুলের সঙ্গে। তিনি পৌরসভার সমস্যার বিষয়ে জানান, ‘প্রয়াত আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি থাকাকালে পৌরসভার বর্ধিত এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হলেও অদ্যাবধি পৌরসভার সম্প্রসারণ ফাইলবন্দি হয়ে আছে।

অথচ বর্ধিত (প্রস্তাবিত) এলাকার জনগণ বছরের পর বছর পৌরসভাকে ভূমি কর প্রদান করলেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘দুলাল হাজী পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা নিয়ে ফুটপাতে হকার ও দোকান বসিয়েছেন।

ফলে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে পর্যটন নগরীর সুনাম।’ দুলাল হাজী জানান, টেন্ডারের সিডিউল মোতাবেক আমি ফেরিওয়ালা ও হাটবাজার থেকে জমা আদায় করছি। তবে কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাইলে আমি ক্ষতি শিকার করতে রাজি।

জেটি রোডে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ের ভূমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা প্রসঙ্গে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় বলেন, একটি জনবসতি এলাকায় কর্তৃপক্ষ আপত্তি উপেক্ষা করে কীভাবে ভূমি অধিগ্রহণ করেন? যদিও এখনও ভূমির মূল্য পরিশোধ করা হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি অধিগ্রহণ করা ভূমি অবমুক্ত করে অন্যত্র ময়লার ভাগাড় স্থাপনে নতুন জায়গার সন্ধান করা। তিনি বলেন, আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে রিট করি এবং আদালত ওই স্থানে ময়লা ফেলার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। পৌরসভার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে যুগান্তরকে সঙ্গে আলাপচারিতায় পৌর মেয়র মহসিন মিয়া মধু বলেন, আমার প্রচেষ্টায়ই এ পৌরসভা আজ প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। নাগরিকদের মাঝে নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছি।

বৃহৎ দোতলা তোহা বাজার মার্কেট নির্মাণ ছাড়াও শহরের কোথায়ও কাঁচা রাস্তা ও ড্রেন নেই দাবি করে তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বিশ্বব্যাংক ও এডিবি থেকে বরাদ্দ এনে পৌরসভার আধুনিকায়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তিনি বলেন, পৌরসভার আয় ও সরকারি যে বরাদ্দ পাই তা দিয়ে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা দিচ্ছি। আমি পৌরসভার উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছি।

এছাড়া প্রতি ওয়ার্ডে কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ছাত্রীদের জন্য ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ স্পোকেন, কম্পিউটার, বিউটিফিকেশন, সেলাই ও কালচারাল প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করেছি। এর ফলে অনেক মেয়ে আজ স্বাবলম্বী।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেয়র জানান ময়লা ফেলার জন্য শহরের জেটি রোড হাওর এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ করা হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। এর স্থানান্তর বা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর সঙ্গে বৃহৎ বাজেট, প্রযুক্তি ও টেকনিক্যাল বিষয় জড়িত রয়েছে।

সরকারকেই এর উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যানার- ফেস্টুন অপসারণে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন, আমি বিএনপিপন্থী মেয়র হয়ে কি আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবিযুক্ত ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের ক্ষমতা রাখি? প্রশ্ন রাখেন মেয়র।

শিশু পার্ক নিয়ে তিনি জানান, এ জন্য শহরের ভেতরে বড় জায়গা ও বাজেট কোনোটাই নেই। ফুটপাত নিয়ে তিনি বলেন, আগে বাজার ২০ লাখ টাকায় ডাক হতো, এখন একই বাজার কোটি টাকার ওপরে ডাক হয়। ড্রেনে ময়লা ফেলা প্রসঙ্গে নাগরিকদের অসচেতনতাকে দায়ী করেন। তবে এ নিয়ে আমরা রেজুলেশন পাস করেছি। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ময়লার ভাগাড় স্থানান্তর নিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সুবিধার জন্য ইতিমধ্যেই শহরতলির জেটি রোডে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মাদক, যানজট ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জানান, মাদক ও যানজট আমার এখতিয়ারের বাহিরে।

আমার আমলে চাঁদা না দিয়ে মানুষ নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছে। গত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে মেয়র বলেন, ‘প্রতিশ্রুতির শতভাগের বেশি পালন করেছি।’ আগামী নিবার্চনে প্রতিশ্রুতি আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে জানান, জনগণ আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। আমার নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, তবে যখন যে সমস্যা আসবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তার সমাধান করব বলে তিন বারের নির্বাচিত এই মেয়র জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×